সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের সীমানার মধ্যে এখন থেকে আর কোনো নতুন বেসরকারি ক্লিনিক গড়ে তোলা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, এই নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকা বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের রোগী দেখার সুযোগ থাকছে না। মঙ্গলবার এই মর্মে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালকের স্বাক্ষরে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়, গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। সেই সভার কার্যবিবরণীতে উল্লিখিত একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেই এই নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সেই কার্যবিবরণীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান বাড়ানো এবং সরকারি চিকিৎসকদের কর্মস্থলে পূর্ণ সময় ও মনোযোগ নিশ্চিত করা। বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছিল, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে থাকা বেসরকারি ক্লিনিকে প্র্যাকটিসের কারণে অনেক চিকিৎসক তাদের মূল দায়িত্বে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ রোগীদের সেবাপ্রাপ্তিতে। নতুন এই নির্দেশনা কার্যকর হলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
তবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তবিক প্রশ্নও উঠতে পারে—বিশেষ করে যেসব এলাকায় ঘনবসতির কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে দূরত্ব কম, সেখানে বিদ্যমান ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। নির্দেশনাটি কীভাবে এবং কত দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের।

