সারা দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমার লক্ষণ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মারা যাওয়া নয়জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার তিনজন। বরিশাল বিভাগের মারা গেছেন দুজন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের একজন করে মৃত্যুবরণ করেছেন। অর্থাৎ রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, ৪০১ জন। খুলনা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৩০৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ২২৩ জন। বাকিরা অন্যান্য বিভাগ ও অঞ্চলের রোগী। এই চিত্র বলছে, সংক্রমণ এখন শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই। খুলনা ও চট্টগ্রামের মতো বিভাগেও রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৭১ জন। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬০ জন। ভর্তি রোগীদের ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ শতাংশ নারী।
অক্টোবর সাধারণত ডেঙ্গুর মৌসুমের শেষ দিকের সময় হিসেবে ধরা হয়। তবে দৈনিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা এখনো দুই হাজারের কাছাকাছি থাকায় সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার বা নির্মাণসামগ্রীতে পানি জমতে না দেওয়া জরুরি।
জ্বর, শরীরব্যথা বা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আক্রান্ত ব্যক্তির পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম এবং নাগরিকদের নিজ নিজ উদ্যোগে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপরই নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।

