সারা দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার পর কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪২৮ শিশু। আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৪০ শিশু। এ সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ১০৪ শিশুর। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩৩২ জন, আর নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৬ জনের। এ হিসাবে মোট নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৪২৮ জন।
১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৬২৫ জনের। এর মধ্যে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে ২২ হাজার ১১৬ জনের। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ জন।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থ হওয়া রোগীর হিসাব থেকে বোঝা যায়, বেশির ভাগ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সেরে উঠছে। তবু প্রায় ছয় মাসে ১ হাজার ১০০-র বেশি শিশুর মৃত্যু পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, আর ছোট শিশুদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। এ কারণেই চলমান ক্যাচ-আপ টিকাদান কর্মসূচিতে নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি। জ্বর, গায়ে লালচে দানা বা কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এখন নজর থাকবে, টিকাদান কর্মসূচি কতটা দ্রুত সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে পারে এবং দৈনিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে কি না।

