দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর নেই। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব এতে তুলে ধরা হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০৪ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, কুষ্টিয়া ও ভোলা জেলায় একজন করে মারা গেছেন।
একই সময়ে নতুন করে ৮৬ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৯২৬ জনে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩০৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৭৬ জন।
পরিসংখ্যানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। মোট মৃত্যুর বড় অংশই উপসর্গ নিয়ে, নিশ্চিত শনাক্তের তালিকায় নয়। এর অর্থ, বিপুলসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে রোগের প্রকৃত বিস্তার ও মৃত্যুঝুঁকির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। সন্দেহভাজন সংক্রমণ প্রায় ২ লাখ ১০ হাজারে পৌঁছানো পরিস্থিতির ব্যাপকতাও নির্দেশ করে।
হাম মূলত টিকাপ্রতিরোধ্য রোগ। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা এবং জ্বর ও গায়ে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে বিশেষজ্ঞেরা সাধারণত পরামর্শ দেন।
তবে প্রকাশিত বার্তায় কোন বয়সের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, মৃতদের টিকা নেওয়া ছিল কি না এবং কোন অঞ্চলে সংক্রমণ বেশি, সে বিষয়ে তথ্য নেই। হাসপাতালে বর্তমানে কত রোগী চিকিৎসাধীন, তা-ও জানানো হয়নি।

