দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৮২ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৬ জনে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২১০ জন। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, এই সময়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪৮০ জন। এরপর চট্টগ্রামে ২৭৭ জন, সিলেটে ১৩৬ জন, বরিশালে ১০৮ জন, খুলনায় ১০৭ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং রংপুরে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার দুজন। একই সময়ে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯৭২ জন।
সংখ্যাগুলো দেখায়, মৃত্যুর বড় অংশই উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগীদের, যাঁদের মধ্যে অনেকের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়নি। সন্দেহজনক রোগী ২ লাখের বেশি হলেও নিশ্চিত শনাক্ত মাত্র প্রায় ২৩ হাজার, ফলে প্রকৃত সংক্রমণের চিত্র আরও বড় হতে পারে। প্রায় সাত মাসে মৃত্যু ১ হাজার ১৮৬ জন, আর প্রতিদিন এক হাজারের বেশি নতুন রোগী ভর্তি হওয়া বলছে, সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি। বুলেটিনে মৃত্যুর বয়সভিত্তিক তথ্য বা টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি উল্লেখ নেই। এখন নজর থাকবে দৈনিক ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে কি না এবং হাম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকে।

