দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৪২ জনের প্রাণ গেল। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৭২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই মৃত্যু ও ভর্তির ঘটনা ঘটেছে। নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে। এর মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ১৯৯ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী, এ বছর ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো বড় উদ্বেগের কারণ।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়, ৩২৩ জন। এর পরেই আছে ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকা, যেখানে ভর্তি হয়েছেন ৩১৯ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬০ জন, খুলনা বিভাগে ২৩৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১৯৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৭ জন, রংপুর বিভাগে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন।
এই হিসাবে দেখা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও ঢাকা বিভাগের অন্য এলাকা মিলিয়ে একাই ভর্তি রোগীর প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি, ৮৬৫ জন। তবে সংক্রমণ কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীসহ প্রায় সব বিভাগেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এটি ইঙ্গিত দেয়, ডেঙ্গু এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সমস্যা।
মৃত্যুর ক্ষেত্রেও ঢাকাই এগিয়ে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে তিনজন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুজন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে একজন মারা গেছেন। অর্থাৎ সাতজনের মধ্যে ছয়জনই ঢাকা বিভাগের।
ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত নভেম্বর পর্যন্ত বেশি থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ অবস্থায় প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও নির্মাণস্থলে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে তীব্র পেটব্যথা, বমি বা রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত।
সামনে দুর্গাপূজার টানা ছুটি থাকায় অনেক মানুষ ভ্রমণ ও সমাবেশে অংশ নেবেন। ফলে মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতা ও সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দৈনিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

