দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। হিসাবটি শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মোট মৃতের মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। অর্থাৎ মৃত্যুর প্রায় ৯১ শতাংশই উপসর্গভিত্তিক, যাদের পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়নি বা নিশ্চিত হওয়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত সাতজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিনজন, সিলেট বিভাগে দুজন এবং ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
একই সময়ে নতুন করে ৬৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৩ হাজার ১২২। এ ছাড়া নতুন করে ১ হাজার ২৫৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে এ বছর মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ২৪৪।
হিসাব মেলালে দেখা যায়, সন্দেহভাজন রোগীর তুলনায় নিশ্চিত শনাক্তের হার তুলনামূলক কম। দৈনিক উপসর্গের রোগী ১ হাজার ২৫৪ জন হলেও শনাক্ত হয়েছে মাত্র ৬৫ জন। এতে নমুনা পরীক্ষার পরিধি ও গতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিশ্চিত হাম ও উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর বড় ব্যবধান বলছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সময়মতো হচ্ছে না।
হামের টিকা শিশুদের এ রোগ থেকে সুরক্ষার প্রধান উপায়। উপসর্গ দেখা দিলে, যেমন জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও কাশি, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এখন নজর থাকবে দৈনিক মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা কমে কি না, টিকাদান কার্যক্রম কতটা জোরদার হয় এবং পরীক্ষার সুযোগ বাড়ে কি না, সেদিকে।

