জামানত ছাড়া এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন না নিয়েই প্রায় ঊনসত্তর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ একুশজনের বিরুদ্ধে বারোটি মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই মামলাগুলো অনুমোদন করা হয়েছে বলে সংস্থার জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো অনুমোদিত হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা—একটি সোয়েটার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, একটি বস্ত্র ও সুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, একটি টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং একটি চিকিৎসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাবেক একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, সাবেক একজন ট্রেজারি বিভাগের প্রধান এবং আরও কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো প্রকার আবেদনপত্র বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না দিয়ে, কোনো জামানত ছাড়া এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন না নিয়েই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে প্রায় ঊনসত্তর কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ লোপাট করেছেন। বারোটি মামলায় মোট পনেরোটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মকর্তা এবং ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলাগুলো দায়ের করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা শিগগিরই এসব মামলার অভিযোগপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে দাখিল করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে জামানত ও অনুমোদন ছাড়া বিপুল অর্থ ছাড় হওয়ার ঘটনা দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই আরও একবার প্রকাশ করে দিল।

