অর্থ আত্মসাতের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত তাঁর অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের পর আহমেদ জোবায়েরের আইনজীবী সালেহ উদ্দিন তাঁর জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সময় টেলিভিশনের দায়িত্বে থাকার সময় আহমেদ জোবায়ের প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তাঁকে ওই অর্থের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের দুটি গাড়ি ফেরত দিতে বলা হয়। তবে তিনি সেগুলো ফেরত দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সময় টিভির মালিকানা প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ এসব সম্পদ ফেরত চেয়ে তাঁকে আইনি নোটিশও পাঠায়। তবে সেই নোটিশের পরও তিনি অর্থ ও গাড়ি ফেরত দেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সময় টিভির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সৈয়দ আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ৫ মে মামলা করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
মামলায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে। অন্য আসামিরা হলেন তাঁর স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী, মেয়ে সারাফ নাওয়ার জয়ীতা, ছেলে আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী।
মামলার পর গত ১৭ জুন আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। তাঁরা হাজির না হওয়ায় সেদিন আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এরপর ১৮ জুন আহমেদ জোবায়ের, আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত তিনজনকে জামিন দিলেও আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে একই ঘটনায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা আরেকটি মামলায়ও বৃহস্পতিবার আহমেদ জোবায়েরের জামিনের আবেদন করা হয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহানের আদালত ওই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।
অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর এই আদেশের মধ্য দিয়ে এখন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে। তবে অভিযোগ গঠন করা মানেই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়; সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালতে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

