Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, এপ্রিল 14, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প যে ধরনের ঔপনিবেশিকতা প্রয়োগ করছেন
    আন্তর্জাতিক

    মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প যে ধরনের ঔপনিবেশিকতা প্রয়োগ করছেন

    হাসিব উজ জামানএপ্রিল 14, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    নিচে আমধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে পশ্চিমা রাজনীতির ভাষা সব সময়ই শুধু কূটনীতি, নিরাপত্তা বা উন্নয়নের ভাষা ছিল না; বরং বহু ক্ষেত্রেই তা ছিল ক্ষমতার ভাষা। কে যুক্তিসঙ্গত, কে বিপজ্জনক, কে নিজের ভবিষ্যৎ নিজে নির্ধারণ করতে সক্ষম, আর কাকে “ব্যবস্থাপনা” করতে হবে—এই বিভাজন তৈরি করেই বহু নীতি দাঁড় করানো হয়েছে। আপনার দেওয়া লেখাটি ঠিক এই জায়গাতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে: ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যনীতি কি আসলে পুরোনো ঔপনিবেশিক চিন্তারই আরও বেপরোয়া, আরও প্রকাশ্য রূপ?

    এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই একটি বিষয় চোখে পড়ে—ক্ষমতা খুব কমই নিজেকে সরাসরি “ক্ষমতা” বলে পরিচয় দেয়। সেটি প্রায়ই “সমাধান”, “শান্তি”, “পুনর্গঠন”, “স্থিতিশীলতা” বা “নিরাপত্তা”র ভাষায় হাজির হয়। কিন্তু এই ভাষার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে আধিপত্যের কাঠামো। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে বহু পশ্চিমা নীতিনির্ধারণ এমন ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে এ অঞ্চলকে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে না দেখে বরং একটি সমস্যাগ্রস্ত ভূখণ্ড, একটি নিরাপত্তা-ঝুঁকি, অথবা বাহ্যিক তত্ত্বাবধানের প্রয়োজনীয় অঞ্চল হিসেবে দেখা হয়।

    ভাষা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

    এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ভাষা। কারণ যুদ্ধ, অবরোধ, দখল বা কূটনৈতিক চুক্তির আগে প্রায়ই ভাষাই পথ তৈরি করে। প্রথমে কোনো জনগোষ্ঠীকে “সমস্যা” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তারপর তাদের ভূমি ও রাজনীতিকে “ম্যানেজমেন্ট” বা “পোস্ট-ওয়ার প্রজেক্ট” হিসেবে তুলে ধরা হয়। তখন অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণ বা স্বাধীনতার প্রশ্নটি পেছনে পড়ে যায়; সামনে চলে আসে “কীভাবে অঞ্চলটি চালানো হবে”—এই প্রশাসনিক প্রশ্ন।

    এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই নিহিত আছে ওরিয়েন্টালিজমের মূল তর্ক: “পশ্চিম” নিজেকে যুক্তিবাদী, উন্নত ও নেতৃত্বদাতা শক্তি হিসেবে হাজির করে, আর “পূর্ব”কে উপস্থাপন করে অপরিপক্ব, অগোছালো বা অক্ষম অঞ্চল হিসেবে। ফলে যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তা সব সময় ট্যাঙ্ক বা সেনা দিয়ে শুরু হয় না; অনেক সময় তা শুরু হয় নীতিপত্র, শান্তি পরিকল্পনা, পুনর্গঠন তহবিল, নিরাপত্তা কাঠামো বা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে।

    পশ্চিম নিজেকে মানদণ্ড বানায়

    আপনার দেওয়া লেখায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা এসেছে—ইউরোসেন্ট্রিজম বা ইউরোপকেন্দ্রিকতা। এর সহজ অর্থ, পশ্চিম নিজেকে আধুনিকতা, যুক্তি, পরিপক্বতা ও উন্নতির চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে দেখে। অন্য সমাজগুলোকে তখন “পিছিয়ে থাকা”, “অসম্পূর্ণ”, “অপ্রস্তুত” বা “নেতৃত্বের অযোগ্য” বলে চিত্রিত করা সহজ হয়ে যায়।

    ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে যদি এই লেন্সে দেখা হয়, তাহলে বোঝা যায়—এটি একেবারে নতুন কোনো রাজনৈতিক কল্পনা নয়। বরং পুরোনো এক ধারারই নতুন প্যাকেট। পার্থক্য শুধু এই যে আগের সাম্রাজ্যবাদ হয়তো ভাষায় কিছুটা ভদ্রতা রাখত, ট্রাম্পের রাজনীতি সেই আড়ালটুকুও অনেক সময় সরিয়ে দেয়। তিনি শক্তিকে শক্তি হিসেবেই বিক্রি করেন, আধিপত্যকে “ডিল” বলে চালান, আর ভূরাজনীতিকে প্রায় ব্যবসায়িক সম্পদ-পরিচালনার দৃষ্টিতে দেখেন।

    “সভ্য” বানানো থেকে “ম্যানেজ” করা

    ঐতিহাসিক ঔপনিবেশিকতার একটি পুরোনো ভাষা ছিল “সভ্যতা দান”। আজ সেই শব্দ নেই, কিন্তু তার জায়গায় এসেছে “গভর্ন্যান্স”, “স্ট্যাবিলিটি”, “রিকনস্ট্রাকশন”, “সিকিউরিটি কোঅর্ডিনেশন” ইত্যাদি। শব্দ বদলেছে, কিন্তু কাঠামো কি বদলেছে? এই প্রশ্নের উত্তরেই বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অনেক কিছু পরিষ্কার হয়।

    গাজা, ফিলিস্তিন বা ইরানকে যখন একটি জনগোষ্ঠী, ইতিহাস ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন হিসেবে না দেখে শুধুই “সিকিউরিটি ফাইল”, “হিউম্যানিটারিয়ান সমস্যা” বা “পোস্ট-ওয়ার মডেল” হিসেবে দেখা হয়, তখন তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় ফিলিস্তিনিরা আর নিজেদের ভবিষ্যতের নির্মাতা থাকেন না; তারা পরিণত হন অন্যের তৈরি পরিকল্পনার একটি “চ্যালেঞ্জ” বা “অবস্ট্যাকল”-এ।

    এই জায়গাটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ যখন স্বাধীনতার প্রশ্নকে প্রশাসনিক প্রশ্নে নামিয়ে আনা হয়, তখন দখলদারি বা বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ সহজেই “শান্তি উদ্যোগ” বলে স্বীকৃতি পেয়ে যায়।

    ট্রাস্টিশিপের মানসিকতা: “ওরা এখনো প্রস্তুত নয়”

    ঔপনিবেশিক শাসনের আরেকটি পুরোনো যুক্তি ছিল ট্রাস্টিশিপ—অর্থাৎ শাসিত জনগোষ্ঠী এখনো নিজেদের পরিচালনার জন্য “প্রস্তুত” নয়, তাই তাদের হয়ে অন্য কারও “দায়িত্ব” নিতে হবে। আপনার দেওয়া লেখায় দেখানো হয়েছে, আজও সেই মানসিকতা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়নি। এখন হয়তো একে “অন্তর্বর্তী প্রশাসন”, “আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান”, “সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা” বা “পুনর্গঠন কাঠামো” বলা হয়। কিন্তু মূল প্রশ্ন একই থাকে: জনগণের সম্মতি কোথায়? সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কার হাতে?

    এখানে ট্রাম্পীয় রাজনীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি নীতিকে এমনভাবে সাজায় যেন অধিকার নয়, কার্যকারিতা-ই প্রধান। অর্থাৎ কে ন্যায্য, কে অন্যায়ের শিকার—এই প্রশ্নের বদলে সামনে আসে: কে অঞ্চলটি “চালাতে” পারবে? কে নিরাপত্তা “গ্যারান্টি” দেবে? কে অর্থায়ন করবে? এই কাঠামোয় জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ গৌণ হয়ে যায়।

    ডিল-মেকিং হিসেবে ঔপনিবেশিকতা

    ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্টাইল বরাবরই লেনদেনভিত্তিক। তিনি প্রায় প্রতিটি সংকটকে দরকষাকষির ক্ষেত্র হিসেবে দেখেন। এখানেই লেখাটির একটি বড় তর্ক—যখন ভূমিকে ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে দেখা হয়, জনগণের অধিকারকে দরকষাকষির চিপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এবং রাজনৈতিক আত্মসমর্পণকে “শান্তি” বলে বিক্রি করা হয়, তখন সেই রাজনীতি ঔপনিবেশিক চরিত্র পায়।

    এই মডেলে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ওঠে তিনটি জিনিসের সমষ্টি—

    প্রথমত, ব্যবসায়িক প্রকল্পের মানচিত্র: জ্বালানি রুট, করিডর, বন্দর, কৌশলগত সংযোগপথ।
    দ্বিতীয়ত, ক্লায়েন্ট-রাষ্ট্রের তালিকা: কাকে অস্ত্র দেওয়া হবে, কাকে নিষেধাজ্ঞা, কাকে নিরাপত্তা-ছাতা।
    তৃতীয়ত, স্বাভাবিকীকরণের বাজার: যেখানে রাজনৈতিক ছাড় বা আত্মসমর্পণকে “শান্তি” ও “উন্নয়ন” হিসেবে প্যাকেজ করা হয়।

    এটি উনিশ বা বিশ শতকের সরাসরি উপনিবেশবাদ নয়; এখানে আনুষ্ঠানিক দখল সবসময় দরকার হয় না। চুক্তি, নিরাপত্তা স্থাপত্য, অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক শর্ত এবং আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। অর্থাৎ, নতুন ঔপনিবেশিকতা অনেক সময় সেনাশাসনের চেয়ে কর্পোরেট-রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার মতো দেখায়।

    গাজা হলো আসল পরীক্ষার জায়গা

    লেখাটির সবচেয়ে তীক্ষ্ণ প্রশ্নটি সম্ভবত এটাই: সিদ্ধান্ত নেবে কে?

    কে অর্থ দেবে—এটি একটি প্রশ্ন।
    কে আলোচনা টেবিলে বসবে—এটিও একটি প্রশ্ন।
    কে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    কিন্তু এ সবের আগেও যে প্রশ্নটি রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে মৌলিক, সেটি হলো: যারা বাস্তবে সেখানে বসবাস করে, তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে?

    যে কোনো পরিকল্পনা যদি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে, গাজাকে বাহ্যিক ব্যবস্থাপনার একটি জোনে পরিণত করে, অথবা অঞ্চলটিকে স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক ইচ্ছার বদলে বাইরের শক্তির প্রকল্পে রূপ দেয়—তাহলে সেটি “শান্তি” শব্দ ব্যবহার করলেও ঔপনিবেশিক ধারার অংশ হয়ে যায়।

    গাজাকে শুধু মানবিক বিপর্যয়ের এলাকা হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; গাজা একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। এখানে কার শাসন, কার বৈধতা, কার কণ্ঠস্বর, কার ভবিষ্যৎ—এই প্রশ্নগুলোকে পাশ কাটিয়ে শুধু পুনর্গঠন, ত্রাণ বা নিরাপত্তা দিয়ে টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। কারণ ন্যায়বিচারহীন স্থিতিশীলতা আসলে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার অন্য নাম।

    ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ভাষা: আধিপত্যের নগ্ন রূপ

    আপনার দেওয়া লেখায় ট্রাম্পের Truth Social পোস্টের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প যখন লেখেন “a whole civilization will die tonight” এবং “Complete and Total Regime Change”, তখন তিনি কেবল একটি রাষ্ট্রের সমালোচনা করছেন না; তিনি পুরো একটি জাতি, ইতিহাস ও রাজনৈতিক সত্তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন সেটি পশ্চিমের হাতে ভাঙা-গড়া যায়।

    এ ধরনের ভাষার অন্তর্নিহিত সমস্যা গুরুতর। কারণ এতে লাখো মানুষ, জটিল সামাজিক বাস্তবতা, বহুস্তরীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব—সবকিছুকে এক বিমূর্ত লেবেলে নামিয়ে আনা হয়। তারপর সেই বিমূর্ত সত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাইরের শক্তি “সমাধান” ঘোষণা করে। এটি কেবল কূটনৈতিক ভাষা নয়; এটি এমন ভাষা, যা জনগণের সার্বভৌমত্বকে একটি “সমস্যা”তে রূপান্তরিত করে।

    লেখাটির যুক্তি অনুসারে, এখানে পশ্চিম নিজেকে আবারও “যুক্তি” ও “উদ্ধার”-এর কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, অন্য পক্ষকে দুর্নীতিগ্রস্ত, ব্যর্থ বা অযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করে। এমনকি “God Bless the Great People of Iran!”—জাতীয়তাবাদী সান্ত্বনামূলক এই ভঙ্গিও পুরোনো ঔপনিবেশিক কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়: জনগণকে “ভালো” বলা হয়, ব্যবস্থাকে “খারাপ” বলা হয়, তারপর বাহ্যিক হস্তক্ষেপকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দাঁড় করানো হয়।

    ট্রাম্পকে আলাদা করে কী?

    ট্রাম্পের বিশেষত্ব হয়তো এতটুকুই নয় যে তিনি একই নীতি অনুসরণ করেন; বরং তিনি সেটিকে আড়াল না করে প্রকাশ্য রাজনৈতিক পণ্যে পরিণত করেন। অন্য অনেক শক্তি যেখানে হস্তক্ষেপকে নরম ভাষায় ঢেকে রাখে, ট্রাম্প সেখানে ক্ষমতাকে প্রায় বাজারি আত্মবিশ্বাসে তুলে ধরেন। তিনি নৈতিকতা নয়, ফলাফল; ন্যায় নয়, ডিল; সার্বভৌমত্ব নয়, কৌশলগত লাভ—এই অক্ষগুলিতে রাজনীতিকে সাজাতে স্বচ্ছন্দ।

    কিন্তু লেখাটির মতে, কাঠামো নতুন নয়। পুরোনো সাম্রাজ্যের মতোই এখানে পশ্চিম নিয়ম লিখে দেয়, অঞ্চলটিকে সেই নিয়ম মানতে বলা হয়, আর প্রতিরোধকে “অযৌক্তিক” বা “হিংস্র” বলে ব্যাখ্যা করা হয়। ফলে “নতুন ঔপনিবেশিকতা” আসলে পুরোনো ধারারই নতুন আবরণ—শুধু আরও কম সংকোচ, আরও কম ভদ্রতা, আরও বেশি প্রকাশ্য আধিপত্য।

    শান্তি বনাম ন্যায়: আসল বিভাজনরেখা

    মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে “শান্তি” শব্দটি প্রায়ই খুব সহজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু লেখাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সব শান্তির প্রস্তাব সমান নয়। একটি শান্তি-প্রকল্প যদি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে বাদ দেয়, দখলদারির কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখে, রাজনৈতিক অধিকারকে ভবিষ্যতের কোনো অনিশ্চিত আলোচনার জন্য স্থগিত রাখে, তাহলে সেটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি নয়; বরং নিয়ন্ত্রিত স্থিতিশীলতা।

    এই নিয়ন্ত্রিত স্থিতিশীলতা ঔপনিবেশিকতার আধুনিক রূপ হতে পারে। কারণ এতে জনগণকে নাগরিক বা রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে নয়, বরং ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনার উপাদান হিসেবে দেখা হয়। তাদের ভূমি বিনিয়োগ-যোগ্য এলাকা, তাদের প্রতিরোধ নিরাপত্তা-ঝুঁকি, তাদের নেতৃত্ব “সমস্যা”, আর তাদের স্বাধীনতার দাবি “আলোচনাযোগ্য বিষয়”—এই ফ্রেমটাই বিপজ্জনক।

    কেন এই বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ

    এই লেখার শক্তি শুধু ট্রাম্পকে সমালোচনা করা নয়; বরং একটি বড় কাঠামোকে দেখানো। ট্রাম্প এখানে একক ব্যতিক্রম নন, বরং দীর্ঘদিনের পশ্চিমা ভূরাজনৈতিক মানসিকতার এক উন্মুক্ত সংস্করণ। তাই আলোচনাটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক থাকলে পুরো বিষয়টি ছোট হয়ে যায়। আসল প্রশ্ন হলো: মধ্যপ্রাচ্যের জনগণকে কি এখনও অন্য কারও নকশা অনুযায়ী সাজানোর বস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে? গাজা, ফিলিস্তিন ও ইরানকে কি এখনও এমন অঞ্চল হিসেবে কল্পনা করা হচ্ছে, যাদের ভবিষ্যৎ স্থানীয় জনগণের চেয়ে বহিরাগত শক্তির হাতে বেশি নিরাপদ? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সমস্যাটি শুধু ট্রাম্প নয়; সমস্যাটি আরও গভীরে প্রোথিত।

    এই পুনর্লিখিত আলোচনার সারকথা হলো—ঔপনিবেশিকতা সব সময় মানচিত্রে নতুন সীমানা টেনে শুরু হয় না; অনেক সময় তা শুরু হয় ভাষায়। প্রথমে একটি অঞ্চলকে “সমস্যা” বলা হয়, তারপর সেই সমস্যার “সমাধান” নামে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য-দৃষ্টিভঙ্গিকে তাই শুধুই কঠোর পররাষ্ট্রনীতি বলে দেখলে ভুল হবে। এর ভেতরে আছে ক্ষমতার এমন এক যুক্তি, যা জনগণের অধিকারকে পাশ কাটিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক অনুমতি নিজেই কুক্ষিগত করতে চায়।

    আর ঠিক এই কারণেই আজও সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি একই থাকে:
    শান্তির নামে কী প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে—ন্যায়, নাকি নিয়ন্ত্রণ?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    নিষেধাজ্ঞার ভেতরেও ইরানের অর্থনীতির টিকে থাকার গল্প

    এপ্রিল 14, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ট্রাম্প বনাম পোপ লিও: দ্বন্দ্বের ভেতরের রাজনীতি

    এপ্রিল 14, 2026
    আন্তর্জাতিক

    হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে প্রাণ গেল ইসরাইলি সেনার

    এপ্রিল 14, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.