মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ টানাপোড়েনের মধ্যে হঠাৎই আশার আলো দেখালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান-এর সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি, যা নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে যুদ্ধ “প্রায় শেষ হয়ে এসেছে” এবং “শেষ হওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে” রয়েছে। তার এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং চলমান পর্দার আড়ালের আলোচনারও ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবারও তার পুরোনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন—যদি যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই পদক্ষেপ না নিত, তাহলে ইরান এত দিনে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে ফেলত। তিনি রসিকতার ছলে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকে ইরানকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে হতো—যা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে প্রস্তুত নন।
তবে তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাতের মাঝেও একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এখন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। যদিও এই আগ্রহ কতটা বাস্তব এবং কতটা কৌশলগত—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর সামরিক অভিযানে ইরানের অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এবং এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশটির প্রায় ২০ বছর সময় লাগতে পারে। এই মন্তব্য যুদ্ধের সামরিক বাস্তবতা যেমন তুলে ধরে, তেমনি ইরানের ওপর চাপ তৈরির একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে।
তবে বাস্তবতার আরেকটি দিকও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পায়নি। ফলে যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি থামেনি।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে একদিকে যেমন আশাবাদী সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এটিকে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যুদ্ধ সত্যিই শেষের পথে, নাকি এটি নতুন কোনো সমঝোতার আগে একটি রাজনৈতিক বার্তা—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

