মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের তেল শিল্পকে লক্ষ্য করে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটের প্রেক্ষাপটে নেওয়া এই পদক্ষেপ ইরানের অর্থনীতির ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এতে ইরানের তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত দুই ডজনেরও বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি এবং জাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, এই পদক্ষেপ ‘অর্থনৈতিক চাপ’ বৃদ্ধির অংশ, যার লক্ষ্য ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের আর্থিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা। তাঁর ভাষায়, এসব ব্যক্তি দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতির বিনিময়ে নিজেদের লাভবান করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও আলাদা বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান যখন হরমুজ প্রণালিকে কার্যত ‘জিম্মি’ করার চেষ্টা করছে, তখন তাদের তেল থেকে অর্জিত রাজস্ব কমিয়ে দেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ এই আয়ের বড় অংশই আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও উসকে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।
এই নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সৈয়দ নাইমাই বদরুদ্দিন মুসাভি নামের এক ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তিনি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর জন্য অর্থায়ন করে থাকেন।
বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে কার্যত নৌ-অবরোধ জারি করেছে, ফলে তেল রপ্তানি কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু ইরানের অর্থনীতিই নয়, বরং বৈশ্বিক তেল বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের বাধা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সব মিলিয়ে, ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কেবল একটি অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক চাপের অংশ। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতির নানা খাতে।

