Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, এপ্রিল 18, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » পরমাণু প্রশ্নে ইরান পায় নিষেধাজ্ঞা, ইসরায়েল পায় স্বাধীনতা—কেন এই দ্বৈত মানদণ্ড?
    আন্তর্জাতিক

    পরমাণু প্রশ্নে ইরান পায় নিষেধাজ্ঞা, ইসরায়েল পায় স্বাধীনতা—কেন এই দ্বৈত মানদণ্ড?

    হাসিব উজ জামানUpdated:এপ্রিল 18, 2026এপ্রিল 18, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়। নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন, গোয়েন্দা তৎপরতা—সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে এক ধরনের স্থায়ী অবরোধমূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তিধর রাষ্ট্র ইসরায়েলকে ঘিরে যে বাস্তবতা রয়েছে, তা অনেকের চোখে এক গভীর বৈপরীত্যের ছবি তুলে ধরে।

    কারণ, বিশ্বজুড়ে বহু বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে দেখে আসছেন। তবু দেশটি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকারও করে না, আবার পুরোপুরি অস্বীকারও করে না। এই কৌশলগত নীরবতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছে যে, বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্য গোপন সত্যে পরিণত হয়েছে। এখানেই মূল প্রশ্ন: ইরানের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি, আর ইসরায়েলের ক্ষেত্রে নীরব সহনশীলতা—এ কি একই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দুই ভিন্ন মুখ?

    সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এই প্রশ্নকে আরও তীব্র করেছে। গত ১০ মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। সামরিক মানদণ্ডে বিশ্বের দুই শক্তিশালী দেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য, এই দাবির পক্ষে স্পষ্ট ও সর্বজনস্বীকৃত প্রমাণ কখনোই সামনে আনা হয়নি।

    সংঘাতের মানবিক মূল্যও ছিল ভয়াবহ। গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘর্ষ এবং চলতি বছরের এক মাসব্যাপী লড়াইয়ে ইরানে ২ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিঘাতে বিশ্ব নতুন করে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিষয়টি কেবল পরমাণু নীতির বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

    ইরানের ভাষায়, এই অবস্থাই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’—দ্বৈত মানদণ্ড। আর শুধু তেহরান নয়, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নিয়ে কাজ করা বহু বিশ্লেষকও একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলকে ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করার প্রবণতা কেবল কোনো একটি নীতিগত দুর্বলতা নয়; বরং তা বৈশ্বিক রাজনীতির শক্তিশালী পক্ষপাতের প্রতিফলন।

    ইসরায়েলের পরমাণু নীতি: স্বীকারও নয়, অস্বীকারও নয়

    ইসরায়েলের পারমাণবিক অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো তার দীর্ঘদিনের ‘অস্পষ্টতা নীতি’। দেশটি এমন এক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতার বার্তা টিকিয়ে রাখা হয়। এই নীতি ইসরায়েলকে একদিকে সম্ভাব্য প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়, অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তির পর যে কূটনৈতিক, আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আসতে পারত, তা থেকেও দূরে রাখে।

    ২০১৮ সালে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ইসরায়েল কখনোই এটি প্রথমে ব্যবহার করবে না—এই বক্তব্যই তিনি যথেষ্ট বলে মনে করেন। এই ধরনের জবাব আসলে নিশ্চিত উত্তর নয়; বরং এমন এক রাজনৈতিক ভাষা, যা প্রশ্নটিকে পুরোপুরি বন্ধও করে না, আবার নতুন তদন্তের দরজাও পুরোপুরি খোলে না।

    বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির শুরু ১৯৫০-এর দশকে, দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের সময়। সে সময় ফ্রান্সসহ বাইরের কিছু সহায়তাও তারা পেয়েছিল বলে নানা গবেষণায় উঠে এসেছে। বহু বছর ধরে নেগেভ মরুভূমির ডিমোনা স্থাপনাকে অস্ত্রমানের প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছে। যদিও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান দেয়নি।

    বিশ্লেষকদের অনুমান, ইসরায়েলের হাতে ৮০ থেকে ২০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে। তবে এই সংখ্যা নিশ্চিত নয়। এই অনিশ্চয়তাই ইসরায়েলের কৌশলগত নীতির মূল শক্তি—অস্পষ্টতা এখানে দুর্বলতা নয়, বরং এক ধরনের কূটনৈতিক বর্ম।

    ১৯৮৬ সালে এই নীতিতে বড় ধাক্কা লাগে, যখন টেকনিশিয়ান মরদেখাই ভানুনু ডিমোনা কেন্দ্রের গোপন তথ্য ও ছবি ফাঁস করেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র সানডে টাইমস সেই তথ্য প্রকাশ করে। পরে ভানুনু ইসরায়েলি এজেন্টদের হাতে অপহৃত হন, গোপন বিচারের মুখোমুখি হন এবং ১৮ বছর কারাভোগ করেন। এই ঘটনাটি একদিকে ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সন্দেহকে জোরালো করে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষায় দেশটির কঠোর মনোভাবও স্পষ্ট করে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসরায়েল এখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটিতে সই করেনি। ১৯৭০ সাল থেকে কার্যকর এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল তিনটি—পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঠেকানো, নিরস্ত্রীকরণ এগিয়ে নেওয়া এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯১টি দেশ এতে যোগ দিয়েছে, যার মধ্যে ইরানও রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল চুক্তির বাইরে থাকায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা থেকেও কার্যত বাইরে।

    কনস্টেলেশন ইনস্টিটিউটের অ্যাস্ট্রা ফেলো শন রস্টকারের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলকে একাধিক সুবিধা দেয়। তার ব্যাখ্যায়, প্রকাশ্য স্বীকৃতি না দিয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতার বার্তা বজায় রাখা যায়, আবার এনপিটির বাইরে থেকে পুরো কাঠামোগত জবাবদিহিতাও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। তার মতে, নিকট ভবিষ্যতে ইসরায়েলের এনপিটিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ দেশটির নিরাপত্তা-চিন্তা ও আঞ্চলিক কৌশল এই নীতির সঙ্গেই গভীরভাবে জড়িত।

    এই যুক্তির পেছনে বড় এক বাস্তবতা কাজ করে: আন্তর্জাতিক আইন যতটা নিয়মতান্ত্রিক, বাস্তব রাজনীতি তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিনির্ভর। যে রাষ্ট্র সামরিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী মিত্রপক্ষের সুরক্ষা ভোগ করে, সে রাষ্ট্রের জন্য অনেক সময় নিয়মের প্রয়োগ ভিন্ন হয়ে যায়।

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি: নজরদারির ভেতরে থেকেও সন্দেহের কেন্দ্রে

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শুরু ১৯৫০-এর দশকে রেজা শাহ পাহলভির আমলে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরও কর্মসূচিটি থেমে যায়নি; বরং সময়ের সঙ্গে তা নতুন রূপে বিস্তৃত হয়েছে। তেহরানের দাবি বরাবরই এক—তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে, যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা খাতের প্রয়োজনে।

    ১৯৭৪ সালে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর সঙ্গে চুক্তি করার পর থেকে ইরান নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে। অর্থাৎ শাহ আমল হোক বা ইসলামি প্রজাতন্ত্র—দুই সময়েই ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ভেতরেই থাকতে হয়েছে। এখানেই ইরানের সমর্থকেরা একটি বড় যুক্তি তুলে ধরেন: যাকে নিয়ে এত সন্দেহ, সে অন্তত পরিদর্শনের আওতায় আছে; কিন্তু যাকে নিয়ে একই রকম বা আরও গভীর সন্দেহ, সে তো পুরো ব্যবস্থার বাইরেই।

    ২০১৫ সালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথ সমঝোতা বা জেসিপিওএ-তে যোগ দেয়। এই চুক্তি ছিল দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর একটি বড় সমাধান। এর অধীনে ইরানকে ১৫ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমিত রাখতে হতো, সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমাতে হতো এবং ২৫ বছরব্যাপী আন্তর্জাতিক তদারকি নিশ্চিত করতে হতো। আইএইএর পরিদর্শকেরা প্রতিদিন ইরানের স্থাপনাগুলো পর্যবেক্ষণ করতেন, এবং তাদের মূল্যায়নে ইরান তখন চুক্তির শর্ত মেনেই কাজ করছিল।

    কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। তবু আইএইএর ভাষ্য অনুযায়ী, এরপরও এক বছর ইরান শর্ত মেনে চলেছিল। পরে ধীরে ধীরে তারা উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে। এখান থেকেই আবার উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

    ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ। কিন্তু পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য সাধারণত ৯০ শতাংশের বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন। এই ফাঁকটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ উদ্বেগজনক হলেও তা নিজেই অস্ত্র প্রস্তুত হওয়ার সমতুল্য নয়। তবু এই মজুদই পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করা তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর একটি ছিল।

    অর্থাৎ, ইরানের বিরুদ্ধে উদ্বেগের একটি বাস্তব ভিত্তি থাকলেও সেটি সবসময় সরাসরি অস্ত্র তৈরির সমার্থক নয়। আর এখানেই বিতর্কটি তীব্র হয়—উদ্বেগ, সক্ষমতা এবং প্রমাণ—এই তিনটির মধ্যে পার্থক্য কতটা স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আলোচনায় তুলে ধরা হচ্ছে?

    ইরান কি সত্যিই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে ছিল?

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরে বলে এসেছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন: সেই দাবির নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য প্রমাণ কোথায়?

    ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড কংগ্রেসে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে স্থগিত হওয়া পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি আবার চালুর অনুমোদনও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেননি।

    ইরানও বারবার দাবি করেছে, তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। ২০০৩ সালে খামেনি প্রকাশ্যে এ ধরনের অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং বলেন, ইসলাম এ ধরনের অস্ত্রকে সমর্থন করে না। যদিও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ধর্মীয় বা নৈতিক ঘোষণাকে সব পক্ষ সমানভাবে গ্রহণ করে না, তবু ইরানের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যায় এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

    এরপরও উত্তেজনা থামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। ওই হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন খামেনি। পরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সর্বশেষ যুদ্ধ শুরুর পর কংগ্রেসে নতুন সাক্ষ্যে গ্যাবার্ড বলেন, ২০২৫ সালের জুনে বোমা হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্বাস করে না যে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় অস্ত্রের দিকে নিয়ে গেছে।

    এই অবস্থান থেকে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসে: যদি গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিজেই বলে যে ইরান অস্ত্র তৈরি করছে—এমন প্রমাণ নেই, তাহলে সামরিক হামলার নৈতিক ও আইনি ভিত্তি কোথায় দাঁড়ায়? আর যদি প্রমাণ ছাড়াই যুদ্ধকে বৈধতা দেওয়া যায়, তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা অটুট থাকে?

    তাহলে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ কথাটি কেন এত জোরালো?

    এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে তুলনামূলক আচরণ। ইরান এনপিটিতে সই করেছে, আইএইএর তদারকির আওতায় থেকেছে, জেসিপিওএতে যোগ দিয়েছে, দীর্ঘদিন সীমাবদ্ধতা মেনেও চলেছে—তবু তাকে সর্বোচ্চ সন্দেহ ও চাপে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল এনপিটির বাইরে থেকেও ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েনি। এই বৈপরীত্য থেকেই ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ কথাটি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

    ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশ্লেষক আহমেদ নাজারের মতে, এখানে আন্তর্জাতিক আইন যতটা কাজ করে, তার চেয়ে বেশি কাজ করে রাজনৈতিক স্বার্থ। তার যুক্তি হলো, পশ্চিমা মিত্র হওয়ায় ইসরায়েল আন্তর্জাতিক চাপ থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে। বিপরীতে, ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় সর্বোচ্চ মাত্রায়। ফলে একই নীতি সব ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ হয় না; বরং শক্তি, জোট, মিত্রতা ও কৌশলগত সুবিধা অনুযায়ী তার ব্যবহার বদলে যায়।

    নাজার আরও মনে করেন, ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ‘পারমাণবিক অস্পষ্টতা’ কেবল অস্ত্র আছে কি নেই—এই প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ব্যবহারের সীমা, জবাবদিহিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও তৈরি করে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে যেভাবে আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার দাবি ওঠে, ইসরায়েলের ক্ষেত্রে সেই একই মাত্রার চাপ প্রায় দেখা যায় না।

    এখানে আসলে বিশ্বরাজনীতির একটি পুরোনো বাস্তবতা আবার স্পষ্ট হয়: আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন কাগজে সবার জন্য সমান হলেও বাস্তবে সেগুলো প্রযোজ্য হয় সমানভাবে নয়। এক দেশের জন্য সন্দেহই যথেষ্ট, আরেক দেশের জন্য দীর্ঘদিনের নীরবতাও গ্রহণযোগ্য—এই বৈপরীত্যই বর্তমান পরমাণু রাজনীতির সবচেয়ে বড় নৈতিক সংকট।

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিশ্বশক্তি এবং আইন—সংঘর্ষটা কোথায়?

    এই সংকটকে শুধু ইরান বনাম ইসরায়েল বিরোধ হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়ে না। এর পেছনে আছে মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর নিরাপত্তা কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশল, পশ্চিমা মিত্রতার রাজনীতি, এবং জ্বালানি রুট নিয়ন্ত্রণের হিসাব। পরমাণু প্রশ্ন এখানে যেমন সামরিক, তেমনি কূটনৈতিক; যেমন আইনি, তেমনি প্রতীকি।

    শন রস্টকারের মতে, বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনতে হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। যেমন মধ্যপ্রাচ্যকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল করার উদ্যোগ, অথবা এমন কোনো নতুন কৌশলগত বাস্তবতা, যেখানে সব পক্ষই পারস্পরিক নিরাপত্তা কাঠামোয় অংশ নিতে রাজি হয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ, যাদের কাছে কৌশলগত সুবিধা আছে, তারা সাধারণত তা সহজে ছাড়তে চায় না।

    অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রতিটি ধাপ নতুন করে প্রমাণ করছে, সামরিক হামলা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান নয়। বরং এতে অনিশ্চয়তা, আঞ্চলিক প্রতিশোধস্পৃহা, প্রক্সি উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ে। ফলে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করার নামে গৃহীত পদক্ষেপ কখনো কখনো উল্টো আরও বড় অনিরাপত্তা তৈরি করে।

    ইরান পরমাণু প্রশ্নে সত্যিই ‘দ্বৈত মানদণ্ডে’র শিকার কি না—এ নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। কেউ বলবেন, ইরানের অতীত আচরণ ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ। আবার অন্যরা বলবেন, উদ্বেগ থাকলেও একই ধরনের বা আরও গুরুতর সন্দেহের মুখে থাকা আরেক রাষ্ট্রকে প্রায় দায়মুক্ত রেখে একতরফাভাবে চাপ প্রয়োগ করা ন্যায্য নয়।

    তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: এই বিতর্ক আর কেবল প্রযুক্তিগত নয়। এটি এখন আন্তর্জাতিক আইনের নিরপেক্ষতা, শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রভাব, মিত্রতার সুবিধা, এবং বৈশ্বিক ন্যায্যতার প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। যদি এক রাষ্ট্রের জন্য নজরদারি, নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ প্রস্তুত থাকে, আর আরেক রাষ্ট্রের জন্য থাকে নীরবতা ও কৌশলগত অস্পষ্টতার গ্রহণযোগ্যতা—তাহলে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ শব্দবন্ধটি শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং বাস্তবতারই একটি কঠিন বর্ণনা হয়ে ওঠে।

    মধ্যপ্রাচ্যের পরমাণু রাজনীতি তাই আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রেখে যায়: আন্তর্জাতিক আইন কি সত্যিই আইন, নাকি তা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার ভাষায় লেখা এক নির্বাচিত নীতি?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

    এপ্রিল 18, 2026
    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে যেভাবে নতুন কূটনৈতিক উচ্চতায় উঠল পাকিস্তান

    এপ্রিল 18, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইসলামাবাদে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা

    এপ্রিল 18, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.