মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের “পরম মিত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, ইসরায়েলকে মানুষ পছন্দ করুক বা না করুক, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এক নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েলিরা সাহসী, নির্ভীক, অনুগত এবং বুদ্ধিমান—আর সবচেয়ে বড় কথা, তারা জানে কীভাবে জিততে হয়।
এই মন্তব্যটি এসেছে এমন এক সময়, যখন অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একদিন আগেই ট্রাম্প ইসরায়েলকে লেবাননে বোমাবর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন “যথেষ্ট হয়েছে”। কিন্তু তার পরদিনই তিনি ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন, যা তাঁর অবস্থানে এক ধরনের দ্বৈত বার্তা তৈরি করেছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, তেহরান আলোচনার টেবিলে থেকেও কৌশলী আচরণ করছে এবং পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের দুর্বলতা দেখাবে না।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে “ব্ল্যাকমেইল” করতে পারবে না।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও সতর্ক সুর শোনা যাচ্ছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই উভয় পক্ষকে একটি অভিন্ন কাঠামো বা সমঝোতার ভিত্তিতে একমত হতে হবে।
সব মিলিয়ে, একদিকে যুদ্ধের উত্তাপ, অন্যদিকে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের মাঝেই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

