ভারত-শাসিত কাশ্মীর-এর উধমপুর জেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৫ জন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে উধমপুরের কানোত গ্রামের কাছে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে। বাসটি রামনগর শহর থেকে উধমপুর শহরের দিকে যাচ্ছিল। পথে পাহাড়ি রাস্তার একটি বিপজ্জনক বাঁকে পৌঁছে এটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, বাসটি একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেওয়ার পর সড়ক থেকে ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার নিচে পাথুরে খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৪২ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতা থাকলেও ৬০ জনেরও বেশি আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
উধমপুরের স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রেম সিং জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলেই ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন মারা যান। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিহতদের অধিকাংশই মাথায় গুরুতর আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও সংকটজনক।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সরকারি সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন।
কাশ্মীরের মতো পাহাড়ি অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, পুরনো যানবাহন, এবং পাহাড়ি রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি—এই তিনটি বিষয় মিলেই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এছাড়া চালকদের বেপরোয়া গতি এবং সংকীর্ণ বাঁকযুক্ত রাস্তা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। ফলে একটি ছোট ভুলও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই দুর্ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নও কতটা জরুরি।

