যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশাসনে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সচিব জন ফেলান তার পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। তবে বিষয়টি শুধু পদত্যাগ নয়—পেন্টাগনের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, এটি কার্যত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বুধবার জানিয়েছে, জন ফেলান “তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ছাড়ছেন”। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নৌবাহিনীর উপসচিব হাং কাওকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এই পরিবর্তনকে একটি সাধারণ প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও ভেতরের চিত্র ভিন্ন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধের কারণেই ফেলানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হেগসেথ এবং ফেলানের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছিল। বিশেষ করে নৌবাহিনীর নীতি, জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে দুইজনের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়।
আরও একটি বিতর্কের বিষয় হলো—সিনেটর মার্ক কেলির এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি। কেলি সেনাদের উদ্দেশে “অবৈধ নির্দেশ না মানার” পরামর্শ দেন, যা সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ইস্যুতে ফেলান যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নেননি, আর সেটিই তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাঠামোর ভেতরে নীতিগত টানাপোড়েনেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও অভিযান বাড়ছে, তখন এমন উচ্চপর্যায়ের পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রদবদল এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মিশনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সামরিক নেতৃত্বে এই ধরনের পরিবর্তনকে অনেকে “কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার প্রচেষ্টা” হিসেবে দেখছেন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সামরিক কৌশল নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু একজন কর্মকর্তার অপসারণ নয়, বরং এটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি ইঙ্গিত।
সব মিলিয়ে, জন ফেলানের বিদায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, অন্যদিকে প্রশাসনিক টানাপোড়েন—এই দুইয়ের মাঝে এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব ফেলতে পারে।

