ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপকে সামনে রেখে ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে পৌঁছেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একটি ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরপরই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দিন রাতেই আরাঘচির নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছায়, যা দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের মূল লক্ষ্য কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পথ খোঁজা। মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, সফরকালে আরাঘচি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন, যেখানে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো গুরুত্ব পাবে।
এই বৈঠকের পেছনে একটি বড় প্রেক্ষাপট রয়েছে। সম্প্রতি ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ এগিয়ে নিতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই আরাঘচির এই সফর এবং পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে তার আলোচনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখানে একটি ‘কূটনৈতিক সেতুবন্ধন’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাইছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে ভৌগোলিক ও কৌশলগত সংযোগ—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি আলোচনার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ।
তবে এখনো স্পষ্ট নয়, এই আলোচনাগুলো কতটা ফলপ্রসূ হবে। কারণ, ইরান ইতোমধ্যে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার পথই আপাতত বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদের এই বৈঠক শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনীতির অংশ, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর জন্য নানা পক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই প্রচেষ্টা বাস্তব কোনো অগ্রগতিতে রূপ নেয় কি না।

