যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর অতীত ও আচরণ নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিউজউইকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তবে ঘটনার সময় তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত জামিল লিমন তার সাবেক রুমমেট ছিলেন। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাকে শেষবার ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল।

পুলিশ জানায়, লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছ থেকে। একই সময় থেকেই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে হিশামের নাম।
গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটে এক নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। টাম্পার উত্তরে তার পরিবারের বাড়িতে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ গেলে হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতর আটকে রাখেন এবং বের হতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোয়াট টিমকে অভিযান চালাতে হয়। দীর্ঘ উত্তেজনার পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশামের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল। ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়। যদিও এগুলোকে তখন তুলনামূলকভাবে লঘু অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
আরও জানা যায়, পারিবারিক সহিংসতার কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি আদালত মঞ্জুরও করেছিল। এছাড়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনাও তার রেকর্ডে রয়েছে।
বর্তমানে হিশামের বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর খবর গোপন রাখা, মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানো, আলামত নষ্ট করা এবং পারিবারিক সহিংসতা সংক্রান্ত অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, জামিল লিমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারীরা।
এই ঘটনায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সহপাঠীদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই এই ঘটনাকে ঘিরে আরও জটিল তথ্য সামনে আসছে।

