দীর্ঘ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হলো ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ।
তবে বিমানবন্দর খুলে দেওয়া হলেও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। আপাতত সীমিত পরিসরে কিছু আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ওমানের মাস্কাট, তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং সৌদি আরবের মদিনা শহরের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ পুনরায় শুরু হয়েছে।
এই বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা। ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যৌথ বিমান অভিযান। ওই দিনই ইরান নিজেদের আকাশসীমা এবং সব বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয়, কার্যত আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এরপর টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত চলার পর ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। যদিও সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, ২১ এপ্রিল এক ঘোষণায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়িয়ে দেন। এই সিদ্ধান্তের পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করে।
ঠিক তার তিন দিনের মাথায় ইরান তাদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালু করল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু পরিবহন খাত নয়, বরং ইরানের অর্থনীতি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
তবে পূর্ণমাত্রার কার্যক্রম চালু না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে। কারণ যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক আস্থা—এই তিনটি বিষয়ই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালু হওয়া ইরানের জন্য একটি প্রতীকী পদক্ষেপ—যা দেখাচ্ছে, দীর্ঘ অস্থিরতার পর দেশটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার পথে ফিরতে চাইছে।

