একসময় জার্মান সেনাবাহিনীর দুর্বলতার গল্প ইউরোপে প্রায় ঠাট্টার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যে দেশটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি, যে দেশের শিল্পশক্তি মহাদেশের অন্যতম প্রধান ভিত্তি, সেই দেশের সেনারা এক সময় সামরিক মহড়ায় অস্ত্রের বদলে রঙ করা ঝাড়ুর লাঠি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিল—এ দৃশ্য শুধু বিব্রতকর ছিল না, বরং ইউরোপীয় নিরাপত্তার গভীর সংকটও প্রকাশ করেছিল।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নরওয়েতে একটি মহড়ায় জার্মান সেনাবাহিনীর প্যানজারগ্রেনাডিয়ারবাটালিয়ন ৩৭১ অংশ নেয়। তখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে প্রথম আগ্রাসন শুরু করেছেন। পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ, আর মহড়ার উদ্দেশ্যও ছিল জরুরি—নাটো বাহিনী কীভাবে দ্রুত কোনো মিত্র দেশে মোতায়েন হতে পারে, সেটাই পরীক্ষা করা।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল হতাশাজনক। জার্মান ইউনিটটির কাছে পর্যাপ্ত মেশিনগান ছিল না। ফলে তাদের বক্সার সাঁজোয়া যানের খোলা টারেটের ওপর রঙ করা ঝাড়ুর লাঠি বসাতে হয়। এই ঘটনা তখন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেকে ব্যঙ্গ করে বলতে থাকেন, জার্মান সেনারা বুঝি যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদের “ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে দেবে”।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। সেই সময় জার্মান সেনাদের কখনো কখনো সাধারণ বেসামরিক মার্সিডিজ গাড়িতে প্রশিক্ষণ নিতে হতো, কারণ কার্যকর সাঁজোয়া বাহন পর্যাপ্ত ছিল না। শীতল যুদ্ধের পর ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে শান্তির সুবিধা ভোগ করেছে। অনেক দেশই মনে করেছিল, বড় যুদ্ধের যুগ শেষ। কিন্তু জার্মানির ক্ষেত্রে এই মানসিকতা আরও গভীরে গিয়েছিল। দেশটির জনগণ ও রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষার চেয়ে অন্য খাতে বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
আজ সেই ছবিটা দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা, ইউরোপে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আতঙ্ক, আর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা নিয়ে বাড়তে থাকা সন্দেহ—সব মিলিয়ে জার্মানি এখন এক ঐতিহাসিক সামরিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। দেশটি শান্তিকালের ইতিহাসে অন্যতম বড় পুনরায় অস্ত্রসজ্জা কর্মসূচি শুরু করেছে।

জার্মানির লক্ষ্য এখন স্পষ্ট: ইউরোপের “সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত সেনাবাহিনী” গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বুন্দেসভেরের প্রথম সামরিক কৌশল নথিতেও উঠে এসেছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ৪০ পৃষ্ঠার সেই নথিতে জার্মানি ইউরোপীয় নিরাপত্তায় নিজের “দায়িত্ব” পালনের কথা বলেছে।
কিন্তু এই ঘোষণার গুরুত্ব শুধু কথার মধ্যে নয়। ইউরোপের অনেক দেশ প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর কথা বললেও জার্মানি সেখানে বাস্তব অর্থ ঢালছে।
২০১৪ সালে, অর্থাৎ সেই ঝাড়ুর লাঠির ঘটনার বছর, জার্মানি প্রতিরক্ষায় ব্যয় করেছিল মাত্র ৩৫ বিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৩০ বিলিয়ন পাউন্ড। তখন ব্রিটেনের তুলনায় জার্মানির ব্যয় ছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। কিন্তু গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পাল্টেছে। জার্মানির সামরিক ব্যয় তিন গুণেরও বেশি বেড়ে গত বছর দাঁড়িয়েছে ১০৬.৯ বিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ ৯২.৬ বিলিয়ন পাউন্ড। এর ফলে জার্মানি ব্রিটেনের চেয়ে ২৫ শতাংশের বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয় করেছে এবং ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশ হয়ে উঠেছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস প্রতিরক্ষা ব্যয়কে সরকারি ঋণের আইনি সীমা থেকে আলাদা করার জন্য সাংবিধানিক সংশোধন নিশ্চিত করেছেন। এর অর্থ, নীতিগতভাবে জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ওপর আর আগের মতো কঠোর সীমা থাকছে না। মের্ৎস গত বছর বলেছিলেন, ইউরোপে স্বাধীনতা ও শান্তির বিরুদ্ধে যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তার মুখে প্রতিরক্ষার নিয়ম এখন হতে হবে—“যা লাগে, তাই করা হবে।”
এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক ভাষণ নয়; এটি জার্মানির মানসিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত। কয়েক দশক ধরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি জার্মানিকে সামরিক নেতৃত্বের প্রশ্নে সতর্ক, কখনো কখনো দ্বিধাগ্রস্ত করে রেখেছিল। কিন্তু পুতিনের আগ্রাসন সেই দ্বিধাকে ভেঙে দিচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অর্থ থাকলেই কি সেনাবাহিনী শক্তিশালী হয়ে যায়?
উত্তর সহজ নয়। সামরিক শক্তি গড়তে তিনটি বড় বিষয় লাগে—মানবশক্তি, শিল্পক্ষমতা ও রাজনৈতিক ইচ্ছা। জার্মানির হাতে অর্থ আছে, কিন্তু বাকি দুই ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা দরকার।
বর্তমানে বুন্দেসভেরে নিয়মিত সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার। লক্ষ্য হলো “২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি” এই সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজারে নিয়ে যাওয়া। একই সময়ে রিজার্ভ সদস্য ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এখানেই সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে জনবল। আধুনিক জার্মান সমাজে সামরিক পেশার প্রতি আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সামরিক নিয়োগ গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে এবং আবেদন বেড়েছে ২০ শতাংশ। যদি স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ যথেষ্ট না হয়, তাহলে জার্মানি বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনার পথেও যেতে পারে। দেশটি ২০১১ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা স্থগিত করেছিল।
অন্যদিকে শিল্পক্ষমতার দিক থেকে জার্মানির সম্ভাবনা অনেক বড়। দেশটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি এবং বৃহত্তম উৎপাদন খাতের অধিকারী। ডুসেলডর্ফভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাইনমেটাল আগামী বছর ১৫ লাখ গোলা তৈরির পরিকল্পনা করছে। এতে ট্যাংক ও কামানের গোলাবারুদ উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপে শীর্ষ অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।
এখানে জার্মানির সুবিধা স্পষ্ট। যে দেশে উন্নত শিল্পভিত্তি, প্রকৌশল দক্ষতা এবং আর্থিক সামর্থ্য আছে, সে দেশ দ্রুত সামরিক উৎপাদন বাড়াতে পারলে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে।
তবে সামরিক পুনরুত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হয়তো জনমতের পরিবর্তন। গত বছরের এক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানদের দুই-তৃতীয়াংশ বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পক্ষে। পাঁচ বছর আগেও এমন অবস্থান কল্পনা করা কঠিন ছিল। জার্মান সমাজে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা অনেককে বুঝিয়েছে, প্রতিরক্ষা দুর্বল হলে শান্তিও নিরাপদ থাকে না।
জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়ুস এখন বলছেন, জার্মানিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে পথপ্রদর্শক হিসেবে নেতৃত্ব দিতে হবে। এই ভাষা আগের জার্মান রাজনীতির তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
রাশিয়ার আগ্রাসন এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। তবে আরেকটি বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে অনিশ্চয়তা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ জার্মান সরকার ও জনগণকে বুঝিয়েছে, ইউরোপের প্রতিরক্ষায় নিজেদেরই বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।
এর কূটনৈতিক প্রভাবও বড় হতে পারে। দীর্ঘদিন ন্যাটোর ভেতরে ব্রিটেনকে যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে দেখা হতো। জার্মানি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও সামরিক নেতৃত্বে পিছিয়ে ছিল, আংশিকভাবে নিজের ইতিহাসের কারণে। কিন্তু এখন জার্মানি যখন ইউরোপে সবচেয়ে বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয় করছে, তখন ন্যাটোর ভেতরে তার প্রভাবও বাড়বে।
ব্রিটেন তাই শুধু ব্যয়ের দিক থেকে নয়, কৌশলগত প্রভাবের ক্ষেত্রেও জার্মানির পেছনে পড়ে যেতে পারে। সামরিক শক্তি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, জোটের আলোচনার টেবিলেও প্রভাব তৈরি করে। যে দেশ বেশি সম্পদ, বেশি সৈন্য, বেশি অস্ত্র এবং বেশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দেয়, তার কথাও সাধারণত বেশি গুরুত্ব পায়।
তবে জার্মানির নতুন সামরিক কৌশল নথিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি আছে। সেখানে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, আগামী ১০ বছরে জার্মানি কত ট্যাংক, কত ভারী কামান বা কত সাঁজোয়া যুদ্ধযান তৈরি বা মোতায়েন করবে। সংখ্যার বদলে নথিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সামরিক “প্রভাবের” ওপর—মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং রাশিয়াকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে নিবৃত্ত করা।
এই লক্ষ্য পূরণে জার্মানি এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দেশটি লিথুয়ানিয়ায় স্থায়ীভাবে একটি যুদ্ধ ব্রিগেড মোতায়েন করবে। লিথুয়ানিয়া ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত, একদিকে রাশিয়ার ভারী সামরিকীকৃত কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল, অন্যদিকে রুশ ঘনিষ্ঠ বেলারুশ। এই অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

জার্মানির এই পদক্ষেপ শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়; এটি রাশিয়াকে একটি রাজনৈতিক বার্তাও দেয়। বার্তাটি হলো—পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা এখন শুধু স্থানীয় দেশগুলোর দায়িত্ব নয়, বরং জার্মানিও সরাসরি সেখানে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
জার্মানি আরও “গভীর নির্ভুল আঘাত” সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা করছে। এর অর্থ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। এই সক্ষমতা প্রতিরোধ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, আক্রমণকারীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখাও আধুনিক প্রতিরক্ষার অংশ।
তবে জার্মানি নিজের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে যাচ্ছে—এমন কোনো ইঙ্গিত নথিতে নেই। আপাতত দেশটি ন্যাটোর পারমাণবিক প্রতিরোধের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়লে জার্মানি ভবিষ্যতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতার দিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে তাকাতে পারে।
সবকিছুর পরও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই: জার্মানির এই সামরিক পুনর্গঠন কি সময়মতো শেষ হবে?
কারণ পুতিন যদি মনে করেন, ইউরোপ এখনো প্রস্তুত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি অনিশ্চিত, তাহলে তিনি ঝুঁকি নিতে পারেন। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৯ সালের জানুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ সংবিধান মানলে তখন তাঁকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে।
রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে হিসাবটা জটিল। একদিকে জার্মানি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। বুন্দেসভের এখনো অতীতের কাটছাঁট ও অবহেলার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে জার্মানি বছর বছর শক্তিশালী হবে। ফলে ক্রেমলিন হয়তো ভাবতে পারে, সময় তার পক্ষে নেই। এই ধরনের হিসাবই ইউরোপের জন্য বিপজ্জনক।
লন্ডনের কিংস কলেজের ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক ক্রিস্টফ মেয়ার সতর্ক করেছেন, রাশিয়া হয়তো ইউরোপ প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। তাঁর মতে, এখন একটি বিপজ্জনক রূপান্তরকাল চলছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে।
জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিশাল জাহাজ অবশেষে দিক বদলাচ্ছে। কিন্তু বিশাল জাহাজ ঘোরাতে সময় লাগে। আর ইউরোপের সমস্যা হলো—রাশিয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্তের গতি হয়তো জার্মান আমলাতন্ত্র, শিল্প উৎপাদন ও নিয়োগ ব্যবস্থার গতির চেয়ে দ্রুত হতে পারে।
তাই জার্মানির সামরিক উত্থান শুধু একটি দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর গল্প নয়। এটি ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তনের গল্প। এটি সেই মানসিক পরিবর্তনের গল্প, যেখানে যুদ্ধের ইতিহাসে ভারাক্রান্ত একটি দেশ আবার সামরিক নেতৃত্বের কথা ভাবতে শুরু করেছে। এটি ব্রিটেনের জন্যও সতর্কবার্তা—পুরনো প্রভাব ধরে রাখতে হলে শুধু ঐতিহাসিক মর্যাদা যথেষ্ট নয়, বাস্তব সক্ষমতাও দরকার।
সবচেয়ে বড় কথা, এটি পুতিনের আগ্রাসনের অনিচ্ছাকৃত ফল। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে হয়তো ইউরোপকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই ভয়ই এখন জার্মানির মতো দীর্ঘদিন সামরিকভাবে সংযত দেশকে জাগিয়ে তুলছে।
তবু নিশ্চয়তা নেই। জার্মানি শক্তিশালী হচ্ছে, কিন্তু এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। ইউরোপ সচেতন হচ্ছে, কিন্তু এখনও ফাঁক রয়ে গেছে। আর সেই ফাঁকটাই আগামী কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঝাড়ুর লাঠি দিয়ে মহড়া দেওয়ার লজ্জা থেকে জার্মানি এখন ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচলিত সামরিক শক্তি হওয়ার পথে। কিন্তু ইতিহাসের কঠিন প্রশ্নটি এখনো সামনে দাঁড়িয়ে আছে—এই জাগরণ কি যথেষ্ট দ্রুত হচ্ছে?
সিভি ডেস্ক/এইচএম

