আজ ২৬ এপ্রিল, রোববার। ইউক্রেন চেরনোবিল বিপর্যয়ের ৪০তম বর্ষপূর্তি পালন করছে। ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল দিবাগত রাতে, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এমন এক দুর্ঘটনা ঘটে, যার অভিঘাত শুধু একটি শহর বা একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে ওঠে পারমাণবিক শক্তি, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং মানবিক ঝুঁকির এক কঠিন পাঠ। উৎসের মূল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনটি ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২০ সময়ে হালনাগাদ করা হয়েছিল।
চেরনোবিলের চতুর্থ চুল্লিতে সেদিন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সময় একটি পরীক্ষা চালানো হচ্ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, চুল্লির টারবাইন বন্ধ হয়ে গেলেও তার অবশিষ্ট ঘূর্ণনশক্তি ব্যবহার করে জরুরি পানির পাম্প কিছু সময় চালানো যায় কি না, তা দেখা। শুনতে এটি একটি প্রযুক্তিগত পরীক্ষা মনে হলেও বাস্তবে সেই পরীক্ষা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, দুর্বল পরিকল্পনাপ্রসূত এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা উপেক্ষার এক বিপজ্জনক উদাহরণ।
সমস্যার শুরু হয় যখন পরীক্ষার জন্য চুল্লির জরুরি নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটি পারমাণবিক চুল্লি এমন যন্ত্র নয়, যেখানে নিরাপত্তা বন্ধ রেখে পরীক্ষানিরীক্ষা করা যায়। অথচ সেটিই করা হয়েছিল। কম বিদ্যুৎপ্রবাহে চুল্লি চালানো হচ্ছিল, ফলে ভেতরের অবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যুৎপ্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টায় বহু নিয়ন্ত্রণ দণ্ড সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তই বিপদের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
রাত ১টা ২৩ মিনিটের দিকেও পরীক্ষা চলছিল। তখন চুল্লির উৎপাদন ২০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে। প্রকৌশলীরা টারবাইন জেনারেটর বন্ধ করে দেখার চেষ্টা করেন, ঘূর্ণনশক্তি দিয়ে পানির পাম্প চালানো যায় কি না। কিন্তু সেই শক্তি যথেষ্ট ছিল না। চুল্লি পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়ায় ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে।
এই অবস্থায় গলন ঠেকাতে প্রায় ২০০টি নিয়ন্ত্রণ দণ্ড একসঙ্গে চুল্লির ভেতরে ঢোকানো হয়। কিন্তু এখানেই ছিল ভয়াবহ নকশাগত দুর্বলতা। প্রতিটি দণ্ডের ডগায় ছিল গ্রাফাইট অংশ। পাঁচ মিটার দীর্ঘ শোষণকারী অংশ চুল্লিতে পুরোপুরি ঢোকার আগেই গ্রাফাইট অংশগুলো প্রতিক্রিয়া আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে তাপমাত্রা কমার বদলে মুহূর্তের মধ্যে আরও বেড়ে যায়। এরপর ঘটে একাধিক বিস্ফোরণ। চুল্লির ভারী ইস্পাত ও কংক্রিটের ঢাকনা উড়ে যায়, আর ভেতরের মূল অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের পর বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। চুল্লিতে থাকা মোট ১৯০ মেট্রিক টন ইউরেনিয়ামের প্রায় ৩০ শতাংশ বাতাসে ছড়িয়ে যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেন। পরে হেলিকপ্টার থেকে বালু ও অন্যান্য পদার্থ ফেলে আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং তেজস্ক্রিয়তার বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়।
চেরনোবিল দুর্ঘটনার আরেকটি বড় দিক ছিল তথ্য গোপন। তৎকালীন সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ শুরুতে বিষয়টি প্রকাশ করেনি। কিন্তু তেজস্ক্রিয়তা বাতাসে ভেসে সুইডেন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখানে তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি ধরা পড়ার পর সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরি হয়। প্রথমে অস্বীকার করা হলেও শেষ পর্যন্ত ২৮ এপ্রিল দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করা হয়।
এই বিলম্ব শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না, এর মানবিক মূল্যও ছিল। পারমাণবিক দুর্ঘটনায় প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সতর্কতা, সরিয়ে নেওয়া, খাদ্য ও পানির নিরাপত্তা, বাতাসের দিক বিবেচনা—এসব ব্যবস্থা জীবন বাঁচাতে পারত। কিন্তু তথ্য গোপন রাখার প্রবণতা মানুষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চেরনোবিল তাই শুধু প্রযুক্তিগত ব্যর্থতার উদাহরণ নয়; এটি রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিপজ্জনক পরিণতিরও প্রতীক।
চেরনোবিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ছিল প্রিপিয়াত নদীর তীরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন পারমাণবিক শক্তি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে। ১৯৭৭ সালের শুরুর দিকে ইউক্রেন ও বর্তমান বেলারুশ সীমান্তের দক্ষিণে চারটি আরবিএমকে ধরনের চুল্লি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি চুল্লির উৎপাদনক্ষমতা ছিল ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত। উন্নয়ন, শক্তি উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত মর্যাদার প্রতীক হিসেবে যে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল, সেটিই একসময় ভয়াবহ বিপর্যয়ের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার পর সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ সেখান থেকে ৩ লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়। চুল্লির চারপাশে প্রায় ১৯ মাইল ব্যাসার্ধ এলাকাকে প্রবেশ নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়। একটি শহর, বসতি, ঘরবাড়ি, স্কুল, রাস্তা—সবকিছু একদিনে মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেকেই আর কখনো নিজের ঘরে ফিরতে পারেননি।
স্বাস্থ্যগত প্রভাব ছিল ভয়াবহ। দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারান এবং ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। বিকিরণের সংস্পর্শে আসার কারণে ছয় হাজারের বেশি শিশু-কিশোর থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে বলে জাতিসংঘের পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাববিষয়ক বৈজ্ঞানিক কমিটির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও কিছু বিশেষজ্ঞ এই সংখ্যার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আন্তর্জাতিক গবেষকেরা আরও আশঙ্কা করেছেন, উচ্চমাত্রার বিকিরণের সংস্পর্শে আসা প্রায় ৪ হাজার মানুষ এবং তুলনামূলক কম মাত্রায় আক্রান্ত আরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ ভবিষ্যতে বিকিরণ-সংশ্লিষ্ট ক্যানসারে মারা যেতে পারেন। এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়; এগুলো দেখায়, পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রভাব বিস্ফোরণের মুহূর্তে শেষ হয় না। এর ক্ষত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করতে হয়।
চেরনোবিলের চুল্লির অবশিষ্টাংশ এখন বিশাল ইস্পাতের কাঠামো দিয়ে ঘেরা। তেজস্ক্রিয়তার বিস্তার ঠেকাতে ২০১৬ সালের শেষ দিকে এই কাঠামো স্থাপন করা হয়। কিন্তু কাঠামো বসালেই বিপদ শেষ হয়ে যায় না। এটি মূলত ঝুঁকিকে আটকে রাখার চেষ্টা, ঝুঁকিকে মুছে ফেলার নয়।
পরিবেশগত ক্ষতিও ছিল গভীর। দুর্ঘটনার পর প্রায় ৪ বর্গমাইল এলাকা ‘লাল বন’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কারণ, উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা শোষণ করে অসংখ্য গাছ লালচে-বাদামি রং ধারণ করে মারা যায়। প্রকৃতি যেন নিজেই দুর্ঘটনার দাগ শরীরে বহন করেছিল।
তবে চেরনোবিলের পরিবেশ আজ একটি অদ্ভুত বাস্তবতার উদাহরণ। একদিকে সেখানে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি, অন্যদিকে মানুষের অনুপস্থিতির কারণে কিছু বন্য প্রাণীর সংখ্যা বেড়েছে। লিনক্স থেকে এল্ক—বিভিন্ন প্রাণী ওই অঞ্চলে ফিরে এসেছে। ২০১৫ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, আশপাশের বন্য প্রাণীর অভয়াশ্রমের তুলনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকায় নেকড়ের সংখ্যা প্রায় সাত গুণ বেশি ছিল। অর্থাৎ মানুষ সরে গেলে প্রকৃতি ফিরে আসতে পারে, কিন্তু তা মানেই পরিবেশ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছে—এমন নয়। বিজ্ঞানীরা কিছু প্রাণীর মধ্যে চোখে ছানি পড়া এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ঘাটতির মতো প্রভাবও দেখেছেন।
চেরনোবিলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অভিঘাতও ছিল ব্যাপক। এই বিপর্যয়ের কারণে আনুমানিক ২৩ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বেলারুশের প্রায় ২৩ শতাংশ এলাকায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং দেশটির এক-পঞ্চমাংশ কৃষিজমি নষ্ট হয়েছিল। ১৯৯১ সালে বেলারুশ তাদের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ শুধু এই বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ব্যয় করেছিল।
এই বিপর্যয় সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করেছিল। প্রযুক্তি, প্রশাসন ও তথ্য নিয়ন্ত্রণের ওপর যে রাষ্ট্রীয় আত্মবিশ্বাস ছিল, চেরনোবিল তা বড়ভাবে নাড়িয়ে দেয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকে ত্বরান্বিত করার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন ওঠে এবং পারমাণবিক শক্তিবিরোধী আন্দোলন নতুন গতি পায়।
২০১১ সালে ইউক্রেন সরকার ১৮ বছরের বেশি বয়সী পর্যটকদের জন্য চেরনোবিলের প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকা সীমিতভাবে খুলে দেয়। তখন থেকে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ মানুষ এই পরিত্যক্ত অঞ্চল দেখতে যেতেন। মানুষের কৌতূহল, ইতিহাসের ভয়াবহতা এবং ধ্বংসের নীরব দৃশ্য—সব মিলিয়ে চেরনোবিল এক ধরনের অন্ধকার পর্যটনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা শুরু করার পর সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
চেরনোবিল এখন আবার নতুন ঝুঁকির আলোচনায়। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ পারমাণবিক স্থাপনাকে আবার নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একটি পরিত্যক্ত চুল্লি, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য এবং যুদ্ধক্ষেত্র—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে থাকলে ঝুঁকির মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। চেরনোবিলের ইতিহাস দেখিয়েছে, পারমাণবিক ঝুঁকি কখনো কেবল প্রযুক্তিগত নয়; তা রাজনৈতিক, সামরিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
যুদ্ধ শুরুর আগে চেরনোবিলে পর্যটনশিল্প ছিল। ২০২৩ সালে এক বিশেষজ্ঞ জানান, আগে এক দিনের পাস নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকায় যাওয়ার সুযোগ ছিল; কিন্তু রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আজ সেখানে পর্যটকের পদচারণা নেই, আছে নিরাপত্তা উদ্বেগ, যুদ্ধের ছায়া এবং দীর্ঘস্থায়ী তেজস্ক্রিয়তার প্রশ্ন।
তবু সম্পূর্ণ জনশূন্য বলা যায় না। ইউক্রেনের ওই পরিত্যক্ত অঞ্চলে এখনো ১০০ জনের একটু বেশি মানুষ বাস করছেন বলে জানা যায়। দুর্ঘটনার পর তাঁদের জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে তাঁরা ফিরে আসেন। পার্শ্ববর্তী বেলারুশ অংশেও বসবাসকারীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। কেউ কেউ পরিত্যক্ত ঘরবাড়ি মাঝেমধ্যে গ্রীষ্মকালীন বাসস্থান হিসেবেও ব্যবহার করেন।
সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন হলো, চেরনোবিল কবে পুরোপুরি নিরাপদ হবে? এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মত এক নয়। ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, অঞ্চলটি বাসযোগ্য হতে প্রায় ২০ হাজার বছর লাগতে পারে। আবার সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিশেষজ্ঞ এই সময়সীমা কমিয়ে প্রায় ৩ হাজার বছর বলছেন। কেউ কেউ মনে করেন, কয়েক শতক পরেই কিছু এলাকা মানুষের বসবাসের উপযোগী হতে পারে।
এই ভিন্নমতই দেখায়, চেরনোবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সহজ নয়। তেজস্ক্রিয়তা মাটিতে, পানিতে, ভবনে, বনাঞ্চলে এবং জীববৈচিত্র্যে ভিন্নভাবে আচরণ করে। তাই কাগজে-কলমে সময়সীমা দেওয়া গেলেও বাস্তব নিরাপত্তা নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।
চেরনোবিলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—উন্নত প্রযুক্তি কখনোই মানুষের সিদ্ধান্ত, সতর্কতা ও জবাবদিহির বিকল্প নয়। একটি ভুল পরীক্ষা, নিরাপত্তাব্যবস্থা বন্ধ করা, ঝুঁকির যথাযথ মূল্যায়ন না করা এবং দুর্ঘটনা গোপন করার চেষ্টা—সব মিলেই বিপর্যয়কে ভয়াবহ করে তোলে। পারমাণবিক শক্তি যতই শক্তিশালী হোক, তার নিরাপত্তা নির্ভর করে মানুষের সততা, দক্ষতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপর।
৪০ বছর পরও চেরনোবিল তাই শুধু অতীতের দুর্ঘটনা নয়। এটি বর্তমানের জন্য সতর্কবার্তা। যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, জ্বালানি চাহিদা এবং পারমাণবিক শক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ব যখন আবার নতুন করে ভাবছে, তখন চেরনোবিল মনে করিয়ে দেয়—শক্তির উৎস যত বড়, দায়িত্বও তত বড়। এক রাতের ভুল কখনো কখনো হাজার বছরের প্রশ্ন রেখে যায়।
সিভি/এইচএম

