চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনার ৪০তম বার্ষিকীর দিনে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হামলায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু নতুন করে বিশ্বকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অতীতের ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার স্মৃতির মাঝেই আবারও পারমাণবিক ঝুঁকির আশঙ্কা সামনে এসেছে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গত একদিনে ইউক্রেন, রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চল এবং রাশিয়ার ভেতরে ধারাবাহিক হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পার হলেও সংঘাতের তীব্রতা কমার কোনো ইঙ্গিত নেই; বরং নতুন মাত্রা যোগ করছে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।
বার্ষিকী উপলক্ষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, চলমান হামলা পরিস্থিতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আবারও বড় ধরনের মানবসৃষ্ট বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
চেরনোবিলের ইতিহাস এমনিতেই ভয়াবহ। সোভিয়েত আমলে ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করা হলেও, পরে তার তেজস্ক্রিয় প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার নতুন করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে—যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অবকাঠামো যে কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা বিভিন্ন তথ্যেই স্পষ্ট। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর দিয়ে নিয়মিত ড্রোন উড়ে যাওয়া কিংবা আগের হামলায় নিরাপত্তা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া—সবকিছু মিলিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুরক্ষা ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের বিপদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতাও কম ভয়াবহ নয়। একদিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরগুলোতে প্রাণহানি বাড়ছে, অন্যদিকে পাল্টা হামলায় রাশিয়ার ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ফলে অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে, যা যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধবিরতির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া—দুটিই এখন সময়ের দাবি। কারণ একটি বড় দুর্ঘটনা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশ নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
সব মিলিয়ে, চেরনোবিলের ৪০ বছর পরও বিশ্ব যেন সেই পুরোনো আতঙ্কের ছায়া থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি। বরং চলমান সংঘাত সেই ভয়কে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে—যেখানে যুদ্ধ আর পারমাণবিক ঝুঁকি একসঙ্গে মিশে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিভি/এইচএম

