রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শুধু আবেগ, সাহসী ভাষণ বা আন্তর্জাতিক সহানুভূতি দিয়ে পরিস্থিতি বদলানো কঠিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধের শুরু থেকে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা তাঁকে অনেকের চোখে প্রতিরোধের প্রতীক বানিয়েছে। তাঁর বক্তৃতা, উপস্থিতি, যোগাযোগ কৌশল এবং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সহায়তা চাওয়ার ভঙ্গি তাঁকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় বড় জায়গা দিয়েছে।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই জনসংযোগ দক্ষতা কি যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা বদলাতে পারছে? লেখকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে সফল হলেও যুদ্ধের মাটিতে ইউক্রেনের অবস্থান ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ যেমন সামরিকভাবে জটিল, তেমনি পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, ভূখণ্ড এবং শান্তিচুক্তি নিয়ে দর-কষাকষিও ইউক্রেনের জন্য সহজ হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জেলেনস্কিকে আক্রমণ করলেও তাঁকে একসময় পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষ বিক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। আবার নিউইয়র্ক টাইমসের কলাম লেখক ডেভিড ফ্রেঞ্চের মতো সহানুভূতিশীল পর্যবেক্ষকেরা তাঁকে মুক্ত বিশ্বের নতুন নেতা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এসব মন্তব্য জেলেনস্কির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির শক্তি বোঝায়। কিন্তু যুদ্ধের বাস্তবতা শুধু ভাবমূর্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের প্রশাসন ও মিত্ররা এমন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করেছে যে যুদ্ধ হয়তো নতুন মোড়ে যেতে পারে। দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার চেয়ে ইউক্রেন বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে। কিছু ইউক্রেনপন্থী যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী মাধ্যম এই দাবি সমর্থন করেছে, আবার কিছু মাধ্যম তা করেনি। যুদ্ধক্ষেত্রে এমন হিসাব সবসময়ই জটিল, কারণ সামনের সারির অনেক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ পরিষ্কার নয়। সেখানে ধূসর অঞ্চল থাকে, যেখানে কোনো পক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এসব অগ্রগতি খুব ছোট পরিসরে মাপা হচ্ছে। মাসে ১৫০–২০০ বর্গকিলোমিটার অগ্রগতি দেখিয়েও বড় ধরনের সামরিক পরিবর্তনের দাবি করা যায় না। পদ্ধতি বা হিসাবের ধরন বদলালে ফলাফলও ভিন্নভাবে দেখানো সম্ভব। তাই লেখকের মতে, শুধু এই হিসাব দেখে বলা কঠিন যে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে বড় সুবিধাজনক অবস্থানে যাচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, গত অন্তত দুই বছর ধরে যুদ্ধক্ষেত্রের যে ধারা চলছে, তাতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট নয়। বরং রুশ বাহিনী বর্তমানে দোনেৎস্ক অঞ্চলের উত্তর অংশের বেশ কয়েকটি শিল্পনগরী ঘিরে চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে উত্তর সীমান্ত বরাবর রাশিয়ার অগ্রগতি যুদ্ধের সক্রিয় সম্মুখসারিকে আরও দীর্ঘ করছে। এতে ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট—সৈন্যসংকট—আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
যুদ্ধের চার বছর পার হতে চলেছে। এই দীর্ঘ যুদ্ধে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে বাধ্যতামূলক নিয়োগ কার্যকর করতে কঠোর পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয়েছে। শহর ও গ্রাম থেকে তরুণদের ধরে নিয়ে সেনাবাহিনীতে পাঠানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। অন্যদিকে রাশিয়া এখনো বড় অঙ্কের অর্থ ও সুবিধা দেখিয়ে স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা আকৃষ্ট করতে পারছে। এই পার্থক্য ইউক্রেনের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, রাশিয়া যত সৈন্য হারাচ্ছে, তত দ্রুত নতুন সৈন্য সংগ্রহ করতে পারছে না। কিন্তু লেখকের মতে, এই দাবি দুর্বল তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। জেলেনস্কি বলেছেন, চলতি বছরের মার্চে রাশিয়া মাসিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে, যেখানে প্রাণহানি বা আহতের সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্য তাঁর নিজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগের হিসাবের সঙ্গে মেলে না। কারণ মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার মাসিক ক্ষতি ৪৮ হাজার ছাড়িয়েছিল এবং ২০২৫ সালে গড়ে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার ক্ষতি হয়েছিল।
এই বিরোধপূর্ণ তথ্য ইউক্রেনের বয়ানকে দুর্বল করে। জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভও স্বীকার করেছেন, রাশিয়ার সৈন্য সংগ্রহব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়বে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। অর্থাৎ রাশিয়া বড় চাপের মুখে থাকলেও এখনই সামরিকভাবে অচল হয়ে যাচ্ছে, এমন ধারণা অতিরঞ্জিত হতে পারে।
ইউক্রেন অবশ্য রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে কিছু সাফল্য পেয়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আগুনে জ্বলতে থাকা তেল ট্যাংকের ছবি বড়ভাবে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু লেখকের প্রশ্ন হলো, এসব দৃশ্য কি যুদ্ধের সামগ্রিক ফল বদলাতে পারবে? তাঁর মতে, এগুলো প্রচারমূলক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও যুদ্ধের মূল ভারসাম্য বদলানোর মতো যথেষ্ট নয়।
অর্থনীতির ক্ষেত্রেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এপ্রিলে রাশিয়ার তেল আয় বেড়ে ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল। এই এক মাসের বাড়তি আয়ের পরিমাণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে ইউক্রেন যে ঋণ পেতে যাচ্ছে, তার ১০ শতাংশের সমান। ইউক্রেন দুই বছরে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ পাওয়ার কথা রয়েছে।
এ কথা ঠিক, যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন। তবে লেখকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়ার অর্থনৈতিক মন্দা অনেকটা ইউরোপের অন্যান্য অর্থনীতির মতোই, যেগুলো ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থাৎ রাশিয়া বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে—এমন দাবি পুরো ছবিকে প্রকাশ করে না।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব অনুযায়ী, ক্রয়ক্ষমতার সমতার ভিত্তিতে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে রাশিয়া এখন রোমানিয়া ও গ্রিসের মতো তুলনামূলক কম সমৃদ্ধ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের চেয়েও এগিয়ে। অন্যদিকে ইউক্রেনের একই সূচক মঙ্গোলিয়া ও মিশরের কাছাকাছি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ধ্বংস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং দেশ ছেড়ে যাওয়া লাখো মানুষ, যাদের অনেকেই আর ফিরে আসবেন কি না, তা অনিশ্চিত।
ইউক্রেনপন্থী মহলে প্রায়ই রাশিয়ার ভেতরের অসন্তোষকে বড় রাজনৈতিক ভাঙনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। রুশ সমাজের কোনো সমালোচনামূলক বক্তব্য বা প্রভাবশালী ব্যক্তির অসন্তোষ দ্রুত পশ্চিমা গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। গত মাসে রাশিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ভিক্টোরিয়া বোন্যার একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিও পশ্চিমা শিরোনামে আসে, যেখানে তিনি সরকারের নীতির সমালোচনা করেন। তবে লেখকের মতে, রাশিয়ায় অসন্তোষ থাকলেও পুতিনের শাসনব্যবস্থা এখনই পতনের মুখে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
এই ধরনের আশাবাদী বয়ান অনেক সময় ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নাগরিকদের কঠিন সত্য থেকে দূরে রাখে। সেই সত্য হলো, যুদ্ধ হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে অচলাবস্থায় গিয়ে ঠেকতে পারে, আর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সামরিক ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা আরও দুর্বল হতে পারে। জেলেনস্কি ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণের মাধ্যমে কিছুটা সময় কিনতে পারেন, কিন্তু লেখকের মতে, তাঁর ও তাঁর মিত্রদের হাতে স্পষ্ট বিজয়কৌশল নেই।
এখন বাস্তবতা কিয়েভের সামনে আরও স্পষ্ট হচ্ছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার কাছে ছাড়তে হতে পারে। বিনিময়ে ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের পথে দ্রুত অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। কিন্তু এই ধারণাও নিশ্চিত নয়। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা প্রধান আন্দ্রিউস কুবিলিউস আরও কঠিন ভাষায় বলেছেন, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ এখন আলোচনার বাইরে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদও জটিল প্রক্রিয়া হবে।
তিনি এর বদলে ইউক্রেন এবং ইউরোপের কিছু দেশের মধ্যে সামরিক জোটের ধারণা দিয়েছেন। কিন্তু লেখকের মতে, রাশিয়া এই ধারণাকে সহজভাবে নেবে না। মস্কো এটিকে ন্যাটোকে পেছনের দরজা দিয়ে ইউক্রেনে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখবে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার যে পথ ইউক্রেন খুঁজছে, সেটিও বাস্তবে বড় সংঘাতের কারণ হতে পারে।
এইসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেখায়, শান্তি নিয়ে প্রধান দর-কষাকষি শুধু জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে হচ্ছে না। বরং জেলেনস্কিকে এখন পশ্চিমা, বিশেষ করে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গেও কঠিন দর-কষাকষি করতে হচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে কীভাবে যুদ্ধ থামবে, ইউক্রেন কী পাবে, কী হারাবে, পশ্চিমা সহায়তার বিনিময়ে কী ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এসব প্রশ্ন এখন কিয়েভের সামনে বড় হয়ে উঠছে।
বুদানভ সম্প্রতি বলেছেন, কিয়েভ ও মস্কোর অবস্থান বাস্তবসম্মত শান্তি আলোচনার দিকে কিছুটা কাছাকাছি আনা সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হলো, ইউক্রেনের জনগণের কাছে জেলেনস্কিকে অন্তত কিছু অর্জন দেখাতে হবে। যদি শান্তিচুক্তি হয় এবং সেটি ইউক্রেনের জন্য কষ্টকর হয়, তাহলে জনগণ জানতে চাইবে—এত যুদ্ধ, এত প্রাণহানি, এত ধ্বংসের পর দেশ কী পেল?
আদর্শভাবে সেই অর্জন হতে পারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ বা কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। কিন্তু মের্ৎস ও কুবিলিউসের বক্তব্য দেখাচ্ছে, এই দুই ক্ষেত্রেই ইউক্রেনের সম্ভাবনা সীমিত। ন্যাটো সদস্যপদ দূরে সরে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদও দ্রুত ও সহজ হবে না। তাই শান্তিচুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেন কী বাস্তব লাভ পাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
ইউক্রেনীয় সমাজেও হতাশা বাড়ছে। ইউক্রেনের সংসদের আর্থিক কমিটির প্রধান দানিলো হেতমানৎসেভ বলেছেন, ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের উচিত ইউক্রেনীয়দের অন্যের ভূরাজনৈতিক কাজের হাতিয়ার বা মানবঢাল হিসেবে দেখা বন্ধ করা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ইউক্রেনের ভেতরেও এমন ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে যে পশ্চিমা মিত্ররা নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে ইউক্রেনকে ব্যবহার করছে কি না।
জেলেনস্কির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগের কারণে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলকে ঘিরে বড় আকারের দুর্নীতি তদন্ত চলছে। যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে তাঁর অবস্থান এখনো তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ধরে রেখেছে, কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, সেই অবস্থানও তত দুর্বল হতে পারে। যুদ্ধের সময় জনতার আবেগ নেতাকে রক্ষা করে, কিন্তু শান্তির সময় মানুষ হিসাব চায়—কী হারালাম, কী পেলাম।
সব মিলিয়ে লেখকের মূল বক্তব্য হলো, জেলেনস্কির হাতে এখন খুব শক্তিশালী চাল নেই। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে বড় সাফল্য নেই, পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকেও নিশ্চিত নিরাপত্তা বা দ্রুত সদস্যপদের প্রতিশ্রুতি নেই। রাশিয়া দুর্বল হলেও ভেঙে পড়েনি, আর ইউক্রেন সাহসী হলেও ক্লান্ত। এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে জেলেনস্কিকে এমন একটি শান্তির পথ খুঁজতে হবে, যা ইউক্রেনীয়দের কাছে সম্পূর্ণ পরাজয় মনে না হয়।
কিন্তু সেটিই সবচেয়ে কঠিন কাজ। কারণ যুদ্ধের শুরুতে যে লক্ষ্য ছিল—রাশিয়াকে পিছু হটানো, ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা, পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোয় ঢোকা—তার অনেকটাই এখন অনিশ্চিত। অন্যদিকে দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও সীমাহীন নয়। ফলে ইউক্রেনের সামনে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে: আরও যুদ্ধ, নাকি কষ্টকর শান্তি? আর জেলেনস্কির সামনে প্রশ্ন আরও কঠিন: তিনি কি ইউক্রেনের জনগণকে এমন কোনো অর্জন দেখাতে পারবেন, যা হারানোর বেদনা কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়?

