যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরায়েল এবং সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর রেডিও।
রোববার প্রচারিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানায়, হামলা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা এখন রাজনৈতিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসকে পরাজিত করার জন্য বর্তমান সময়কে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করছে সেনাবাহিনী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুনরায় হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের অভিযানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় হামলার সংখ্যা বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা কমিয়ে কিছু ব্রিগেডকে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে।
আর্মি রেডিওর তথ্যমতে, ইসরায়েলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সীমারেখা আরও সম্প্রসারিত করেছে। এর ফলে গাজার প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকায় সাধারণ মানুষ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে যুদ্ধবিরতি শুরুর সময় গাজার প্রায় অর্ধেক অংশ নিয়ন্ত্রণে ছিল ইসরায়েলের। চুক্তি অনুযায়ী ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল হামলা বন্ধ করা এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং নিয়মিত হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০টি পর্যন্ত সাহায্যবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে তা ২০০টির কিছু বেশি বলে জানিয়েছে গাজার কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় উত্তেজনা কমার পরিবর্তে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।

