Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, মে 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক শ কোটি ডলারের সামরিক ক্ষতি
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক শ কোটি ডলারের সামরিক ক্ষতি

    নিউজ ডেস্কমে 5, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই নিজেদের সামরিক শক্তি ও দ্রুত সাফল্যের কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেছিল। কিন্তু যুদ্ধ যত এগিয়েছে, বাস্তব চিত্র ততই জটিল হয়েছে। শুধু আক্রমণ চালানো বা প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার মধ্যেই এই যুদ্ধ সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং পাল্টা আঘাত, ঘাঁটির নিরাপত্তা, আকাশ প্রতিরক্ষা, নৌপথ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

    গত ২৬ মার্চ টেলিভিশনে প্রচারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বসে তিনি এমন ধারণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে দুর্বল করতে পেরেছে। কিন্তু এর পরের দিনই ঘটনাপ্রবাহ ভিন্ন বার্তা দেয়। সৌদি আরবে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন এবং প্রায় ৭০ কোটি ডলার মূল্যের একটি নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়।

    এই ঘটনা শুধু একটি সামরিক ক্ষতি নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাসী যুদ্ধবক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের ফারাকও সামনে আনে। যুদ্ধের শুরুতে যে পক্ষ দ্রুত জয় বা প্রতিপক্ষকে অচল করে দেওয়ার দাবি করে, তাকে পরে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া, পাল্টা হামলা এবং মিত্রদের নিরাপত্তার দায়ও নিতে হয়। ইরান সেই জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলেছে।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং কথিত নিজেদের ভুল হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৩০ কোটি থেকে ২৮০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তারিত তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। বড় কোনো আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ ধরনের বিস্তারিত হিসাব এটিই প্রথম।

    তবে এই ক্ষতির হিসাবও পুরো ছবি দেখায় না। কারণ এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর স্থাপনা ক্ষতি, বিশেষ সামরিক সরঞ্জাম বা নৌসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অর্থাৎ প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে—অন্তত সামরিক বিশ্লেষকেরা এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছেন।

    এই হিসাব তৈরির সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতিও তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তবে এখন কাজটি আরও কঠিন হয়ে গেছে। কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মহাকাশচিত্র সরবরাহকারী প্ল্যানেট ল্যাবস সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের জন্য কিছু স্যাটেলাইট ছবি উন্মুক্ত রাখছে না। মার্কিন সরকারের অনুরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের স্বচ্ছতা কমে গেছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে কোনো ভবন আক্রান্ত হয়েছে কি না, তা বোঝা গেলেও ভবনের ভেতরে কী ধরনের সরঞ্জাম ছিল বা কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা নিশ্চিত করা কঠিন। যুদ্ধের তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা এখন নিজেই এক ধরনের কৌশলগত লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মার্চের শুরুতে কুয়েতে কথিত নিজেদের ভুল হামলায় তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু উচ্চমূল্যের যুদ্ধবিমান হারানো সব সময়ই বড় ধাক্কা। বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিখুঁত অভিযানের দাবি করা হয়, তখন নিজেদের ভুলে ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধ পরিচালনার দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান, নজরদারি ব্যবস্থা ও রাডার অবকাঠামোও। গত ১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র অন্তত একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার হারায়। এই রাডার থাড প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্রসহ অতিদ্রুতগতির হুমকি শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হতো। এটি শুধু হুমকি শনাক্ত করত না; অন্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্যও সরবরাহ করত। কিছু প্রতিবেদনে দুটি রাডার ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে, যার মোট মূল্য ৪৮ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৯৭ কোটি ডলারের মধ্যে।

    এই ক্ষতি সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আধুনিক যুদ্ধে শুধু অস্ত্র থাকা যথেষ্ট নয়; সময়মতো হুমকি শনাক্ত করা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক তথ্য দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ। রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আকাশ প্রতিরক্ষার চোখ দুর্বল হয়ে যায়। আর চোখ দুর্বল হলে সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

    ২৭ মার্চ সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় প্রতীকী ধাক্কা ছিল। মাত্র এক দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাফল্যের দাবি করেছিলেন। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৭০ কোটি ডলারের একটি ই-৩ অ্যাওয়াকস বা ই-৭ ধরনের রাডার শনাক্তকারী বিমান ধ্বংস হয়। এ ধরনের বিমানকে আকাশে ভাসমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র বলা যায়। এটি শত শত কিলোমিটার দূরের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং আকাশযুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    এমন একটি বিমান হারানো শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়; এটি কমান্ড, নজরদারি ও যুদ্ধসমন্বয়ের ওপরও প্রভাব ফেলে। আকাশযুদ্ধে যে পক্ষ আগে দেখে, আগে বোঝে এবং আগে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তার সুবিধা বেশি থাকে। তাই এই ধরনের নজরদারি বিমান ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাঠামোর জন্য গুরুতর আঘাত।

    দোহা ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা ও সামরিক বিদ্যার অধ্যাপক ওমর আশুর মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কিছু হিসাব প্রকাশ করেছে, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সব ক্ষতির তথ্য পরিষ্কারভাবে জানাতে চাইবে না। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এই মুহূর্তে সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা ক্ষতির খবর বেশি প্রচার করতে আগ্রহী হবে না। কারণ সামনে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে, আর যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতি রাজনৈতিকভাবে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

    এখানেই যুদ্ধের সামরিক দিকের সঙ্গে রাজনৈতিক দিক মিশে যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি শুধু সেনাবাহিনীর সমস্যা নয়; তা সরকারের জনপ্রিয়তা, নির্বাচনী হিসাব এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির জন্য সামরিক ক্ষতি অনেক সময় সরাসরি পরাজয় নয়, কিন্তু তা কৌশলগত বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করতে পারে।

    ওমর আশুর যুক্তরাষ্ট্রের অতীত যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময় ছোট ছোট যুদ্ধে জয় পেলেও শেষ পর্যন্ত কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতা দেখায়। যুদ্ধক্ষেত্রে জয় মানেই রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন নয়। ইরানের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন উঠছে—যুক্তরাষ্ট্র কি শুধু সামরিক চাপ তৈরি করছে, নাকি তার ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের বাস্তব পথও আছে?

    ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করা বা দেশটির শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার মতো লক্ষ্য অত্যন্ত রাজনৈতিক। এসব লক্ষ্য শুধু বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র বা সামরিক ঘাঁটি দিয়ে অর্জন করা কঠিন। বরং দীর্ঘ যুদ্ধ, আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া এবং পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রকেই নতুন চাপে ফেলতে পারে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বর্তমানে অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন সেনাসংখ্যা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের সময়ের তুলনায় অনেক কম। ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ বিমানবাহী রণতরি ও স্থলবাহিনী ব্যবহার করেছিল, এবার সে ধরনের বিশাল মোতায়েন নেই। ফলে ইরানের মতো বড় ও ভৌগোলিকভাবে জটিল দেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক চাপ ধরে রাখা সহজ নয়।

    ইরানের পাল্টা কৌশলও লক্ষণীয়। তারা শুধু সরাসরি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করেনি; উপসাগরীয় দেশগুলোকেও চাপের মধ্যে ফেলেছে। মার্ক কানসিয়ানের মতে, এটি ইরানের কৌশলগত ভুল হতে পারে। তাঁর ধারণা, ইরান হয়তো ভেবেছিল উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ালে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে যাবে। কিন্তু বাস্তবে এমন হামলা তাদের আরও বেশি করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

    তবে ইরানের লক্ষ্য অন্যভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়। তারা হয়তো দেখাতে চেয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত হলে শুধু যুদ্ধক্ষেত্র নয়, পুরো উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো ঝুঁকিতে পড়বে। এই বার্তা মিত্রদেশগুলোর কাছে ভয় তৈরি করতে পারে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ বাড়াতে পারে। অর্থাৎ ইরান সামরিক আঘাতের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকেতও পাঠাচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালি এই যুদ্ধের আরেকটি বড় কেন্দ্র। যুদ্ধের শুরুতেই ইরান এই জলপথ দিয়ে বেশির ভাগ জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরে ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নেয় এবং ইরানের বন্দর ও এই জলপথে চলাচলের চেষ্টা করা ইরানি জাহাজগুলো অবরোধ করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত বছর ধরে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে পরিকল্পনা করার পরও যুক্তরাষ্ট্র কেন দ্রুত ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারল না?

    হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ অচল বা অনিরাপদ হলে শুধু সামরিক উত্তেজনা নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই এই প্রণালি সচল রাখতে ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের নৌকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কানসিয়ানের মতে, এটি দেখিয়েছে, নৌবাহিনী যথেষ্ট প্রস্তুত না থাকলে কী ধরনের বাস্তব সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    তিনি আরও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখন পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু শুরুতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছিল না। এর অর্থ হলো, যুদ্ধ শুরু করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হলেও, তার সামরিক ও লজিস্টিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা অনেক কঠিন।

    অন্যদিকে, ইরানেরও ক্ষতি কম হয়নি। ওমর আশুরের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক কাঠামো দুর্বল হয়েছে। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। আধুনিক যুদ্ধের এই দিকটি গুরুত্বপূর্ণ—প্রতিপক্ষের বিমানঘাঁটি বা নৌঘাঁটি আঘাত করা সম্ভব হলেও ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নির্মূল করা অনেক কঠিন।

    ইরানের নৌবাহিনী নিয়েও একই কথা বলা যায়। অনেক ক্ষতি হলেও সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়। শক্তিশালী প্রচলিত নৌবাহিনী ছাড়াও একটি দেশ সমুদ্রে চাপ তৈরি করতে পারে। ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, মাইন ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান এখনো হরমুজ ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ঝুঁকি তৈরি করতে সক্ষম।

    সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুধু আরেকটি সামরিক অভিযান নয়; এটি সামরিক শক্তির সীমা, আঞ্চলিক মিত্রতার বাস্তবতা, তথ্য নিয়ন্ত্রণ, নৌপথ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের কঠিন সমীকরণ সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখনো সামরিকভাবে অনেক শক্তিশালী, কিন্তু এই যুদ্ধ দেখাচ্ছে, শক্তি থাকলেই প্রতিপক্ষকে দ্রুত নত করা যায় না।

    ইরানের পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে, ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, যুদ্ধের আসল হিসাব শুধু কত ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলো বা কত বিমান ধ্বংস হলো—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্ন হলো, শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ তার রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে।

    এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল, জটিল এবং রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    সিভি/এইচএম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    মার্কিন-ইরান সমঝোতায় নতুন মধ্যস্থতাকারী হতে পারে চীন

    মে 12, 2026
    মতামত

    বাণিজ্য বিরোধ, তাইওয়ান ও ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে?

    মে 12, 2026
    আন্তর্জাতিক

    লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২ চিকিৎসাকর্মী

    মে 12, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.