লন্ডনের ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভগুলো সিনাগগের কাছ দিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ছিল—মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান মার্ক রাউলির এমন মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি আন্দোলনকারী সংগঠন তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন, ফ্রেন্ডস অফ আল-আকসা, স্টপ দ্য ওয়ার কোয়ালিশন এবং প্যালেস্টাইনিয়ান ফোরাম অব ব্রিটেনসহ বিভিন্ন সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে রাউলির মন্তব্যকে “ভুল ও মানহানিকর” বলে অভিহিত করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় দ্য টাইমস–এ প্রকাশিত এক মন্তব্যে, যেখানে রাউলি বলেন, কিছু বিক্ষোভ মিছিলের প্রাথমিক রুটে সিনাগগের পাশ দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার ভাষায়, “যতবার আমরা তা ঠেকিয়েছি, ততবারই শর্ত আরোপ করতে হয়েছে।”
তার এই মন্তব্যের পর অভিযোগ ওঠে যে, এটি ইহুদি-বিদ্বেষী ইঙ্গিত তৈরি করছে। রাউলি নিজেও স্বীকার করেন, এমন ব্যাখ্যা ন্যায্য বা অন্যায্য হতে পারে, তবে এটি ভুল বার্তা দিতে পারে।
আয়োজক সংগঠনগুলো দাবি করেছে, তারা কখনোই সিনাগগের পাশ দিয়ে মিছিল করার উদ্দেশ্য নেয়নি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত রুটগুলো সবসময়ই বিকল্প পথ ছিল এবং কোনো সিনাগগ সেখানে ছিল না। তারা পুলিশের রেকর্ডিং প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, রাউলির মন্তব্য নির্দিষ্ট কোনো আসন্ন বিক্ষোভকে লক্ষ্য করে ছিল না, বরং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান বিভিন্ন বিক্ষোভের সামগ্রিক মূল্যায়নের অংশ ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের প্রায় ৩০টি বড় মিছিলের মধ্যে অর্ধেকই সিনাগগের কাছ দিয়ে গেছে বা সেখানে শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা বিবেচনায় ২০টি ক্ষেত্রে বিক্ষোভের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পুলিশ আরও বলেছে, সংবেদনশীল স্থানে বিশৃঙ্খলা বা ভীতি এড়াতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলো বলছে, পুলিশের এই ব্যাখ্যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিক্ষোভের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা।
সম্প্রতি লন্ডনে একাধিক হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গোল্ডার্স গ্রিনে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই ইহুদি নাগরিক আহত হন, একই সময়ে পৃথক ঘটনায় এক মুসলিম ব্যক্তিও আক্রান্ত হন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, বিক্ষোভে ব্যবহৃত ভাষা পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং কিছু ক্ষেত্রে পুরো মিছিল নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে লন্ডনের বিক্ষোভ, নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

