Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, মে 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইরান যে কারণে আমিরাতকে শত্রু হিসেবে দেখছে
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যে কারণে আমিরাতকে শত্রু হিসেবে দেখছে

    নিউজ ডেস্কমে 13, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘিরে ইরানের ভাষা ক্রমেই কঠোর হয়ে উঠছে। আগে যে দেশটিকে তেহরান প্রতিবেশী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করত, এখন সেই আমিরাতকেই ইরানি রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে “শত্রু ঘাঁটি” হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধবার্তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে আমিরাতের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে গভীর সামরিক, গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক।

    ইরানের দৃষ্টিতে আমিরাত এখন শুধু একটি প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশ নয়; বরং এমন এক কৌশলগত কেন্দ্র, যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য আলী খেজরিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে বলেন, আমিরাতের সঙ্গে “প্রতিবেশী” পরিচয় আপাতত তুলে নেওয়া হয়েছে এবং দেশটির ওপর “শত্রু ঘাঁটি” পরিচয় বসানো হয়েছে। এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক ক্ষোভ নয়, বরং ইরানের নিরাপত্তা চিন্তার একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

    ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরও সাম্প্রতিক বিবৃতিতে আমিরাতকে সরাসরি সতর্ক করেছে। তাদের অভিযোগ, আমিরাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী, সরঞ্জাম ও গোয়েন্দা উপস্থিতির জন্য নিজেদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। ইরানের ভাষায়, এটি মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে। তারা আরও সতর্ক করেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ও বন্দরে আবার হামলা হলে তার জবাব হবে কঠোর এবং অনুশোচনামূলক।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ইরানের সন্দেহের একটি বড় কারণ হলো দেশটিতে দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি। আবুধাবির কাছাকাছি আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো সেনা, উন্নত রাডার, গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের দাবি, যুদ্ধ চলাকালে এই ধরনের স্থাপনা ও প্রযুক্তি ইরানের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে। ফলে আমিরাতকে ইরান এখন কেবল কূটনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক ঝুঁকির উৎস হিসেবেও দেখছে।

    ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। তবে ইরানের কাছে এটি ছিল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে একটি বিপজ্জনক মোড়। আমিরাত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর দুই দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস আমিরাতে শাখা স্থাপন করেছে। এসব ঘটনা ইরানের সন্দেহকে আরও গভীর করেছে।

    চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েল আমিরাতে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পাঠিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য কয়েক ডজন সেনাও প্রয়োজন বলে বলা হয়। আরব বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি—এই বিষয়টি তেহরানের কাছে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তেল আবিবে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, আমিরাত ও ইসরায়েলের বিশেষ সম্পর্কের কারণেই এই উন্নত রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। ইরান এই ঘটনাকে তার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।

    আমিরাত অবশ্য ইরানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির বক্তব্য, তার পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব সম্পূর্ণ সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়। আমিরাতের মতে, ইরান আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং আরব দেশগুলোর ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা হয়েছে—এমন দাবি তুলে নিজস্ব আক্রমণকে বৈধতা দিতে চাইছে। আমিরাত আরও বলেছে, ইরানি হামলার নিন্দা জানানো তাদের অধিকার, এবং প্রয়োজন হলে তারা সামরিকভাবেও প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রাখে।

    দুই দেশের সম্পর্কে আরেকটি পুরোনো অমীমাংসিত বিষয় হলো বৃহত্তর তুনব, ক্ষুদ্র তুনব ও আবু মুসা দ্বীপ নিয়ে বিরোধ। ১৯৭১ সাল থেকে এসব দ্বীপ ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু আমিরাত এসব দ্বীপকে নিজেদের দাবি করে। হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দ্বীপগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড আরও দাবি করেছে, আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ বন্দর এমন এলাকায় অবস্থিত, যার ওপর হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য। ফলে ফুজাইরাহ বন্দরে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজও ইরানের কর্তৃত্বের আওতায় পড়তে পারে বলে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই আমিরাতের জন্য বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ফুজাইরাহ বন্দরে হামলা হয়, যদিও ইরান তার দায় অস্বীকার করে। অন্যদিকে, আমিরাত বারবার ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, তারা প্রতিক্রিয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে। উত্তেজনা শুধু সামরিক পর্যায়ে সীমিত নেই। আমিরাত বহু বছর ধরে সেখানে থাকা কিছু ইরানির ভিসা বাতিল করেছে, ইরানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যপথ, মুদ্রা বিনিময় নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে। এর ফলে ইরানের অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে।

    ইরান দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় বাজার, বিশেষ করে চীন থেকে আসা অনেক পণ্য আমিরাতি বন্দর হয়ে আমদানি করত। সেই পথ সংকুচিত হওয়ায় ইরান এখন পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের স্থলপথ ব্যবহার করে বিকল্প বাণিজ্য রুট গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং বন্দর ব্যবস্থায় চাপের কারণে ইরানে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও বেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি শুধু নিরাপত্তা প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে বাণিজ্য, আমদানি, খাদ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচও জড়িয়ে গেছে।

    যুদ্ধের সরাসরি প্রেক্ষাপটে আমিরাতের বিরুদ্ধে ইরানের সন্দেহ আরও বাড়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর। যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পর ইসরায়েলি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, আমিরাতের যুদ্ধবিমান ইরানের কেশম দ্বীপে একটি পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলী আল-নুয়াইমি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং একে মিথ্যা সংবাদ বলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আমিরাত কিছু করলে তা ঘোষণা করার সাহস রাখে। তেহরান তখন সরাসরি আমিরাতকে দায়ী না করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটকে দায়ী করে।

    তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আমিরাতকে ঘিরে ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচার ক্রমেই বেড়েছে। এপ্রিলের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের একটি যুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠানে একটি বিধ্বস্ত চীনা নির্মিত উইং লুং ড্রোনের ছবি দেখানো হয়। এই মডেলের ড্রোন অতীতে আমিরাত ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়। এই ধরনের তথ্য ইরানি গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আমিরাতের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ বাড়ায়।

    ৮ এপ্রিল সকালে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সময়সীমার আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কিছু আগে, ইরানি গণমাধ্যমে লাভান তেল শোধনাগারে হামলা এবং সিরি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। এরপর বিপ্লবী গার্ড–সম্পর্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়, আমিরাতের ব্যবহৃত ফরাসি নির্মিত মিরাজ ২০০০-৯ যুদ্ধবিমান দক্ষিণ ইরানের আকাশে দেখা গেছে। তবে এসব দাবির স্পষ্ট স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবু ইরানি রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত মাধ্যমগুলো এই ঘটনাগুলোকে আমিরাতের বিরুদ্ধে সন্দেহ জোরদার করতে ব্যবহার করেছে।

    আরেকটি বিষয় ইরানি বিশ্লেষকদের নজর কাড়ে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে আমিরাতি যুদ্ধবিমান পাহারা দিচ্ছে দেখা যায়। সেখানে এফ-১৬ই যুদ্ধবিমানগুলোর জাতীয় চিহ্ন ও লেজ নম্বর সরানো ছিল বলে ইরানি বিশ্লেষকেরা দাবি করেন। তাঁদের মতে, এটি এমন এক ধরনের সতর্কতার ইঙ্গিত হতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে শনাক্তকরণ ঝুঁকি কমানোর জন্য নেওয়া হয়। তবে এটিও সরাসরি প্রমাণ নয়; বরং ইরানের যুদ্ধকালীন সন্দেহের আরেকটি উপাদান।

    ইরানের পাল্টা হামলার ধরনও লক্ষ্যণীয়। কিছু হামলার পর ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পাঠিয়েছে মূলত আমিরাতের দিকে, এরপর বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবের দিকে। কিন্তু ওই পর্যায়ে ইসরায়েলের দিকে নয়। এর ফলে প্রশ্ন ওঠে, কেন ইরান ইসরায়েলের বদলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এর একটি ব্যাখ্যা হতে পারে—ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আঞ্চলিক সামরিক কাঠামো এসব দেশকে ব্যবহার করেই শক্তিশালী হচ্ছে। তাই সরাসরি ইসরায়েলকে আঘাত করার পাশাপাশি বা তার পরিবর্তে, ইরান বার্তা দিতে চাইছে যে, যারা নিজেদের ভূখণ্ডকে সেই কাঠামোর অংশ হতে দেবে, তারাও ঝুঁকির বাইরে থাকবে না।

    আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ১৭ মার্চ বলেন, ইরান যদি আরব প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে। এই বক্তব্যে আমিরাতের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট হয়। দেশটি ইরানের চাপের মুখে ইসরায়েলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর বদলে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করতে পারে। অন্যদিকে, ইরানও এটিকে তার বিরুদ্ধে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রমাণ হিসেবে দেখছে।

    আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল-হাশিমি গত মাসে বলেন, তাঁর দেশের ওপর আক্রমণের কারণ হলো আমিরাত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, দুই শতাধিক জাতির সহাবস্থান এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব করে। তাঁর মতে, ইরান তার সম্পদ ব্যয় করেছে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষকে সহায়তা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা তৈরিতে। এই বক্তব্য দুই দেশের আত্মপরিচয়ের পার্থক্যও তুলে ধরে—একদিকে আমিরাত নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুসাংস্কৃতিক স্থিতির কেন্দ্র হিসেবে দেখায়; অন্যদিকে ইরান নিজেকে পশ্চিমা প্রভাব ও ইসরায়েলি উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে।

    সব মিলিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘিরে ইরানের কঠোর বার্তার পেছনে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমত, আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উপস্থিতি। দ্বিতীয়ত, ২০২০ সালের পর ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক দ্রুত গভীর হওয়া। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালী ও বিতর্কিত দ্বীপ নিয়ে পুরোনো ভূরাজনৈতিক বিরোধ। চতুর্থত, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় স্থাপনায় হামলার পর আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে ইরানি সন্দেহ। পঞ্চমত, বাণিজ্যপথ, বন্দর ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ইরানের ওপর তৈরি হওয়া বাস্তব চাপ।

    ইরান এখন আমিরাতকে একটি প্রতীকী লক্ষ্য হিসেবেও ব্যবহার করছে। এই বার্তার মাধ্যমে তেহরান শুধু আবুধাবিকে সতর্ক করছে না; বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে জানিয়ে দিচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনায় সহযোগিতা করলে তার মূল্য দিতে হতে পারে। অন্যদিকে, আমিরাতও তার নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক জোটকে ছাড় দিতে রাজি নয়। ফলে ইরান–আমিরাত উত্তেজনা শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নয়; এটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর শক্তির লড়াই, জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–উপসাগরীয় জোট রাজনীতির কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে উঠেছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ

    মে 13, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অক্ষত, মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার কি ফুরিয়ে আসছে?

    মে 13, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধের ঢেউ এবার তিমিদের জীবনে

    মে 13, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.