মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সাধারণত আমাদের চোখে ধরা পড়ে তেল, গ্যাস, অস্ত্র, কূটনীতি, অর্থনীতি কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের আলোচনায়। কিন্তু কোনো যুদ্ধের প্রভাব যে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের সমুদ্রজীবনের ওপরও পড়তে পারে, সেটি অনেক সময় আমাদের ভাবনার বাইরে থেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ এখন শুধু জ্বালানি, সার, ওষুধ বা হিলিয়ামের সরবরাহ ব্যবস্থাকেই অস্থির করে তুলছে না; এর প্রভাব পৌঁছে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলের তিমিদের জীবনেও।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের পুরোনো পথ বদলে যাচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ এখন লোহিত সাগর, সুয়েজ খাল কিংবা হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে চলাচল করছে। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে জাহাজের চাপ দ্রুত বাড়ছে। আর এই নতুন চাপের সবচেয়ে নীরব শিকার হয়ে উঠছে ওই অঞ্চলের তিমিরা।
কেন বদলে গেল সমুদ্রপথ
জাহাজ চলাচলের এই পরিবর্তন হঠাৎ করে শুরু হয়নি। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল এলাকায় চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরু করে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা এসব হামলা চালায়। এরপর থেকেই বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানি ওই পথ এড়িয়ে চলতে শুরু করে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার পর। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি বিধিনিষেধ, সামরিক প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা সংকটের কারণে এই জলপথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য বহনকারী জাহাজগুলো বাধ্য হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ বা উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে চলতে শুরু করে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পোর্টওয়াচ মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ঘিরে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। একই সময়ে ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৪টি। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান শুধু বাণিজ্যিক পথ পরিবর্তনের ছবি দেখায় না; এটি একই সঙ্গে সমুদ্রজীবনের ওপর বাড়তে থাকা চাপেরও ইঙ্গিত দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্রসীমা পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অঞ্চল। এখানে ৪০টিরও বেশি প্রজাতির তিমি পাওয়া যায়। কেপ অব গুড হোপ এলাকায় নিয়মিত দেখা যায় সাউদার্ন রাইট তিমি, হাম্পব্যাক তিমি এবং ব্রাইডস তিমি। এ ছাড়া এই অঞ্চলে অর্কা বা কিলার তিমি, স্পার্ম তিমি, মিনকে তিমি এবং বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিনও রয়েছে।
এই উপকূল শুধু তিমিদের চলাচলের পথ নয়; অনেক প্রজাতির জন্য এটি খাদ্য গ্রহণ, বিশ্রাম এবং মাইগ্রেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বিশেষ করে হাম্পব্যাক তিমির বড় দল এখানে খাবার গ্রহণ করে এবং পরে প্রতি বছর অ্যান্টার্কটিকার দিকে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করে। গবেষণায় বলা হয়েছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হাম্পব্যাক তিমির দলগুলোর একটি এই অঞ্চলে অবস্থান করে। বিভিন্ন গবেষণায় এদের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার থেকে ১৩ হাজারের মধ্যে বলা হয়েছে।
একসময় বাণিজ্যিক তিমি শিকারের কারণে এসব প্রাণীর সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গিয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং জনসচেতনতার কারণে সাউদার্ন রাইট ও হাম্পব্যাক তিমির সংখ্যা কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে সব প্রজাতির অবস্থা একই নয়। অ্যান্টার্কটিক ব্লু তিমি, ফিন তিমি এবং সায় তিমির মতো কিছু প্রজাতি এখনো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে।
জাহাজের ধাক্কা কেন এত ভয়ংকর
সমুদ্রে জাহাজ চলাচল বেড়ে গেলে তিমিদের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হলো জাহাজের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ। অনেক সময় বিশাল আকারের জাহাজ খুব দ্রুতগতিতে চলে, আর তিমিরা সেই বিপদ সময়মতো বুঝতে পারে না। তিমি বড় প্রাণী হলেও দ্রুতগতির কার্গো জাহাজের সামনে তারা অসহায়।
ইউনিভার্সিটি অব প্রিটোরিয়ার গবেষক এলস ভারমেউলেন জানান, অনেক সময় তিমিরা খাবার গ্রহণে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে তারা জাহাজের উপস্থিতি টের পায় না। কার্গো জাহাজের যাত্রীরা অনেক সময় তিমির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। কিন্তু গবেষকদের চোখে সেই দৃশ্য শুধু সৌন্দর্যের নয়, বরং বিপদের সংকেত। কারণ জাহাজগুলো যে দূরত্বে তিমিদের কাছ দিয়ে যাচ্ছে, তাতে সংঘর্ষের আশঙ্কা খুব বেশি।
গবেষকরা বলছেন, দ্রুতগতির জাহাজ চলাচল চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এটি তিমিদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। বড় জাহাজের ধাক্কায় তিমির শরীরে গভীর আঘাত, হাড় ভাঙা, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কিংবা সরাসরি মৃত্যু ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আহত তিমি পরে মারা যায়, কিন্তু সেই মৃত্যু কোনো হিসাবের খাতায় ওঠে না।
শব্দ শুনলেই তিমি সরে যায় না
অনেকে ভাবতে পারেন, জাহাজের শব্দ শুনলেই তিমিরা নিশ্চয় দূরে সরে যায়। কিন্তু বাস্তবতা এত সরল নয়। বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিলের ‘প্রটেক্টিং হোয়েলস অ্যান্ড ডলফিনস ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রধান ক্রিস জনসন বলেন, তিমিরা এখনো জাহাজের শব্দ বা চলাচলের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেনি।
বড় শব্দ শুনলে সব প্রাণী একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কোনো কোনো তিমি জাহাজের শব্দ শুনে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে পানির আরও গভীরে ডুবে যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস উপকূলে ব্লু তিমির ক্ষেত্রে এমন আচরণ দেখা গেছে। এতে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমে না; বরং অনেক সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।
সমুদ্রের নিচে শব্দদূষণও তিমিদের জন্য বড় সমস্যা। তিমিরা যোগাযোগ, পথ খোঁজা, খাদ্য সন্ধান এবং সামাজিক আচরণের জন্য শব্দের ওপর নির্ভর করে। জাহাজের শব্দ বাড়লে তাদের স্বাভাবিক আচরণ ব্যাহত হতে পারে। ফলে শুধু ধাক্কা নয়, দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রজনন, খাদ্য গ্রহণ এবং মাইগ্রেশন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে
জাহাজ চলাচলের চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সমুদ্রের তাপমাত্রা, খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনের কারণে তিমিদের চলাচল ও খাদ্য গ্রহণের ধরন বদলে যাচ্ছে।
গবেষক কেন ফিন্ডলে জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে হাম্পব্যাক তিমিরা ২০১১ সালের আগে সাধারণত খাবার গ্রহণ করত না। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা ওই এলাকায় বেশি সময় কাটাতে শুরু করেছে। অর্থাৎ তিমিরা এখন এমন এলাকায় বেশি যাচ্ছে, যেখানে একই সময়ে জাহাজ চলাচলও দ্রুত বাড়ছে। এই দুটি পরিবর্তন একসঙ্গে তিমিদের ঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তুলছে।
এখানে একটি বড় শিক্ষা আছে। পরিবেশগত সংকট কখনো একা আসে না। যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্যিক চাপ এবং মানবিক কার্যক্রম একসঙ্গে মিলে একটি প্রাণী প্রজাতির ওপর বহুস্তরীয় চাপ তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার তিমিদের ক্ষেত্রে এখন সেটিই ঘটছে।
আগেও তিমিরা ঝুঁকিতে ছিল
তিমির সঙ্গে জাহাজের সংঘর্ষ নতুন সমস্যা নয়। তবে সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এলস ভারমেউলেন ও তার দল ২০২২ সালে ওয়েস্টার্ন কেপ উপকূলে সাউদার্ন রাইট তিমির মৃত্যুর ওপর একটি গবেষণা করেন। সেখানে ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মোট ৯৭টি তিমির মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, অন্তত ১১টি মৃত্যু সরাসরি জাহাজের ধাক্কায় ঘটেছে। আরও ১৬টি ঘটনায় জাহাজের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলেও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। মাছ ধরার জালে জড়িয়ে পড়া তিমি মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও গবেষকদের ধারণা, জাহাজের ধাক্কায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
কারণ খোলা সমুদ্রে ধাক্কা খেয়ে মারা যাওয়া অনেক তিমি তীরে ভেসে আসে না। অনেক দেহ সমুদ্রের গভীরে ডুবে যায়। ফলে সরকারি পরিসংখ্যান বা গবেষণায় প্রকৃত ক্ষতির পুরো ছবি উঠে আসে না। অর্থাৎ যেসব মৃত্যু আমরা দেখতে পাই, সেগুলো হয়তো বড় সংকটের শুধু দৃশ্যমান অংশ।
সমাধান কী হতে পারে
গবেষকদের মতে, তিমিদের রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হলো জাহাজ চলাচলের পথ সামান্য পরিবর্তন করা। দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূল থেকে জাহাজের পথ কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়া গেলে কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঝুঁকি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক শিপিং কোম্পানি এমএসসি গ্রিসের হেলেনিক ট্রেঞ্চ এলাকায় স্পার্ম তিমি এবং শ্রীলঙ্কার উপকূলে ব্লু তিমি রক্ষার জন্য জাহাজের পথ পরিবর্তন করেছে। এসব উদাহরণ দেখায়, বাণিজ্যিক স্বার্থ ও সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণকে একসঙ্গে বিবেচনা করা সম্ভব।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো জাহাজের গতি কমানো। গবেষকদের মতে, জাহাজের গতি কমালে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে সমুদ্রের নিচের শব্দদূষণও কমে, যা তিমিদের যোগাযোগ ও চলাচলের জন্য সহায়ক।
এ ছাড়া গবেষকরা মোবাইল অ্যাপ ও রেডিও বার্তার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে তিমির অবস্থান সম্পর্কে আগাম সতর্ক করার পদ্ধতিও পরীক্ষা করছেন। যদি জাহাজের নাবিকরা আগে থেকেই জানতে পারেন কোনো এলাকায় তিমির উপস্থিতি রয়েছে, তবে তারা গতি কমাতে বা পথ সামান্য পরিবর্তন করতে পারবেন।
যুদ্ধের প্রভাবের নতুন পাঠ
এই ঘটনা আমাদের সামনে যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। যুদ্ধ শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পণ্যবাজারে যায়, জ্বালানির দামে যায়, খাদ্য সরবরাহে যায়, আবার সমুদ্রের গভীরে থাকা প্রাণীর জীবনেও পৌঁছে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংঘাত দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে তিমিদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে—এটি আধুনিক বিশ্বের আন্তঃসংযুক্ত বাস্তবতার কঠিন উদাহরণ। আজকের বিশ্বে একটি অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনা আরেক অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেপ অব গুড হোপ এলাকার তিমিদের রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের সমাধান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মূল্যায়ন শেষ হলে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। কারণ জাহাজ চলাচলের চাপ এখনই বাড়ছে, তিমিরা এখনই ঝুঁকিতে পড়ছে। তাই দ্রুত গবেষণা, নীতিগত সিদ্ধান্ত, জাহাজ কোম্পানির সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় জরুরি।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু তিমি রক্ষার নয়। প্রশ্নটি হলো, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ও নিরাপত্তার হিসাব করতে গিয়ে আমরা প্রকৃতির নীরব প্রাণীগুলোর জন্য কতটা জায়গা রাখছি। যুদ্ধের শব্দ হয়তো কেপ উপকূলে শোনা যায় না, কিন্তু তার ঢেউ এখন সেখানে তিমির জীবনে ধাক্কা দিচ্ছে।

