ভারতের আলোচিত ব্যবসায়ী গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আনা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানা যায়।
অভিযোগ ছিল, ভারতের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন পেতে আদানি সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে আদানি এই অভিযোগ সব সময় অস্বীকার করে আসছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের করা একটি দেওয়ানি জালিয়াতি মামলা গত বৃহস্পতিবার নিষ্পত্তি হয়েছে। মামলাটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আদানি ও তাঁর ভাইপো সাগর আদানি মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন। তবে তাঁরা কোনো ধরনের দোষ স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। আইনজীবীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আইনি এখতিয়ার নেই এবং অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণও নেই।
এই মামলার পটভূমিতে বলা হয়, ফেডারেল প্রসিকিউটররা ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে অভিযোগ আনেন যে, ভারতের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন পেতে প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের কাছ থেকে তথ্য গোপন করে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ ও ঋণপত্র সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়। আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদানির আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রার একটি দীর্ঘ উপস্থাপনার পর ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় আদানির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়—মামলা প্রত্যাহার হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং প্রায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন। তবে প্রসিকিউটররা পরে স্পষ্ট করেন, এই ধরনের বিনিয়োগ প্রস্তাব মামলার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
অন্যদিকে একটি সূত্র জানায়, ১০০ পৃষ্ঠার উপস্থাপনায় আইনজীবীরা বারবার দাবি করেন—মামলাটি দুর্বল, কারণ এতে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি ও প্রমাণ নেই। একই যুক্তি আগে দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রেও উপস্থাপন করা হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এদিকে ভারতীয় শেয়ারবাজারে আজ আদানি গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ওঠানামা দেখা গেছে। ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানির শেয়ার শুরুতে বেড়ে গেলেও পরে কমে যায়। একইভাবে কয়েকটি সহযোগী কোম্পানির শেয়ারে মিশ্র প্রবণতা দেখা যায়।
এছাড়া জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ভারতে অন্তত নয়টি পৃথক তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এসব তদন্তে আদানি গ্রুপ বা সংশ্লিষ্ট অফশোর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এর আগে একই সংস্থার তদন্তে আদানি ও তাঁর কর্মকর্তারা তিনটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন, যা মার্কিন একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের ভিত্তিতে সামনে আসে।

