পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন।
শুক্রবার তিনি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী দুটি আসনে জয়ী হলে ফল ঘোষণার ১৪ দিনের মধ্যে একটি আসন ছাড়তে হয়। সেই নিয়ম মেনেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নন্দীগ্রাম আসন ছাড়েন শুভেন্দু অধিকারী। তবে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে এখনো বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে বুধবার নবনির্বাচিত বিধানসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভবানীপুর আসনের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথের পর তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নিয়ম অনুযায়ী দুটি আসনের বিধায়ক থাকা সম্ভব নয়, তাই তিনি নন্দীগ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগ করলেও নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে থাকার বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে ওই এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষকে বুঝতে দেব না যে তাদের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী নন।”
এদিকে একই নির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরও। তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করেন।
তিনি জানিয়েছেন, রেজিনগর উপনির্বাচনে তার ছেলে গোলাম নবি আজাদকে প্রার্থী করবেন।
উল্লেখ্য, শপথ গ্রহণের পর ভবানীপুরে এক বিশাল রোডশো করেন মুখ্যমন্ত্রী। চেতলা লকগেট থেকে ক্যামাক স্ট্রিট পর্যন্ত আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম হয়। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ পুষ্পবৃষ্টি করে তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং তিনি জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

