মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও রক্তাক্ত হলো দক্ষিণ লেবানন। এবার ইসরাইলি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স ইউনিট। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। নিহতদের মধ্যে তিনজন প্যারামেডিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ লেবাননের হারুফ শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়, একটি অ্যাম্বুলেন্স কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে শুরু হয় তৎপরতা।
প্রাথমিকভাবে হতাহতের সংখ্যা কম বলা হলেও পরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ছয়ে পৌঁছায়। আহতদের অনেকের অবস্থাও গুরুতর বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। হামলার পর মুহূর্তেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রমকে সাধারণত সুরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত কয়েক মাস ধরে ইসরাইল ও লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে প্রায়ই বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
লেবাননের বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চলমান সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা অ্যাম্বুলেন্স—কোনো কিছুই যেন এখন আর নিরাপদ নয়।
এই হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

