বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্ভাব্য একটি বড় চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে প্রায় ২০০টি বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে চীন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই অর্ডার আরও বড় হয়ে ৭৫০টি বিমান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই বিমানের জন্য ইঞ্জিন সরবরাহ করবে জিই অ্যারোস্পেস। তবে এখনো পর্যন্ত চীনা সরকার বা বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি নিশ্চিত করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০০টি বিমানের অর্ডার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, বিমানগুলো ভালোভাবে পরিচালিত হলে পরবর্তী ধাপে অর্ডার অনেক বাড়তে পারে। তবে কোন ধরনের বিমান কেনা হবে কিংবা সরবরাহ কবে শুরু হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে চীনের বাজারে পিছিয়ে পড়েছিল বোয়িং। ফলে এই সম্ভাব্য অর্ডার কোম্পানিটির জন্য বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে চীনের বিমান পরিবহন খাত দ্রুত বাড়ছে, ফলে নতুন বিমান বহরের প্রয়োজনও বাড়ছে।
চীনের অভ্যন্তরীণ বিমান শিল্পে সিওএমএসি-এর সি৯১৯ মডেলের অগ্রগতি এখনো পুরোপুরি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের ওপর নির্ভরতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিমান খাতভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইবিএর হিসাব অনুযায়ী, ২০০টি বিমানের এই সম্ভাব্য অর্ডারের বাজারমূল্য প্রায় ১৭ থেকে ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে, যদি অধিকাংশ বিমান বোয়িংয়ের এমএএক্স সিরিজের হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে শুধু বোয়িং নয়, পুরো বৈশ্বিক বিমান বাজারের ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

