রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত বিশ্বকে একটি কঠিন সত্য দেখিয়েছে—ড্রোন এখন আর শুধু নজরদারি বা সীমিত সামরিক ব্যবহারের যন্ত্র নয়; এটি আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। কম খরচে, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হওয়ায় ড্রোন এখন রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় উভয় পক্ষের হাতেই বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যেই ড্রোন প্রতিরোধে প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু সেন্সর, জ্যামার বা কয়েকটি নতুন প্রযুক্তি কিনলেই কি এই হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব? বাস্তবতা বলছে, উত্তরটি এত সহজ নয়। ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় দরকার একটি সমন্বিত, দ্রুত অভিযোজিত এবং বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
মালয়েশিয়া সম্প্রতি নিজস্বভাবে তৈরি একটি প্রতিরোধী ড্রোন উন্মোচন করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে “দ্য ঘোস্ট”। এই উদ্যোগ দেখায় যে দেশটি শুধু বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সক্ষমতা তৈরির দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর গত বছর ঘোষণা করেছে, মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণে প্রবেশ করা প্রত্যেক নতুন সেনাসদস্যকে ড্রোন পরিচালনা এবং ড্রোন হুমকি মোকাবিলা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশটি সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে ড্রোন প্রতিরোধ উন্নয়ন ও পরিচালনা–সংক্রান্ত বিশেষ দলও গঠন করেছে।
ইন্দোনেশিয়াও পিছিয়ে নেই। দেশটি চীনের চায়না অ্যারোস্পেস লং–মার্চ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে এগোচ্ছে, যেখানে ড্রোন প্রযুক্তি একটি সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। আর থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতের অভিজ্ঞতা এই অঞ্চলের জন্য আরও সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছে। গত বছর সীমান্ত সংঘর্ষে কম্বোডিয়া ফাইবার–অপটিক ড্রোন ব্যবহার করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর থাইল্যান্ড একটি মানবহীন আকাশযান যুদ্ধকেন্দ্র এবং একটি মানবহীন আকাশযান ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে, যার কাজ হলো সেনাবাহিনীর ড্রোন কার্যক্রম পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও তদারকি করা।
এপ্রিল মাসে কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ডিফেন্স সার্ভিসেস এশিয়া এবং মিলিপোল টেকএক্স প্রদর্শনীতেও ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির প্রতি বাড়তি আগ্রহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেন্সর, জ্যামার, নজরদারি ব্যবস্থা এবং নতুন প্রতিরোধী সরঞ্জাম নিয়ে দেশগুলোর আগ্রহ দেখায় যে ড্রোন এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
তবে কেবল যন্ত্রপাতি কেনা বা প্রশিক্ষণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্ত অভিজ্ঞতা একটি বড় শিক্ষা দিয়েছে—ড্রোন ঠেকাতে হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে বহুস্তরীয়। কারণ সব ড্রোন এক ধরনের নয়, সব আক্রমণ একই পদ্ধতিতে হয় না, এবং সব প্রতিরোধ কৌশল সব পরিস্থিতিতে কার্যকর থাকে না।
প্রথম স্তর হলো শনাক্তকরণ। একটি ড্রোন আকাশে প্রবেশ করার আগেই বা প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিহ্নিত করতে না পারলে পরবর্তী প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করা কঠিন। এজন্য রেডিও তরঙ্গ শনাক্তকারী সেন্সর, শব্দভিত্তিক সেন্সর, রাডার, বৈদ্যুতিন–দৃষ্টিনির্ভর ক্যামেরা এবং অবলোহিত ক্যামেরার মতো একাধিক প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন। একক কোনো সেন্সর সবসময় যথেষ্ট নয়, কারণ ছোট ড্রোন অনেক সময় কম উচ্চতায়, কম শব্দে অথবা জটিল ভূখণ্ডের আড়াল ব্যবহার করে এগোতে পারে।
দ্বিতীয় স্তর হলো পরিচয় নির্ধারণ। আকাশে কোনো বস্তু দেখা গেলেই সেটি শত্রু ড্রোন—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। সেটি বন্ধুসুলভ ড্রোন, বেসামরিক ড্রোন, পাখি, অথবা অন্য কোনো আকাশযানও হতে পারে। এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ল্যাভেন্ডার ও ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত–সহায়ক ব্যবস্থা মূলত সংঘাতে লক্ষ্য শনাক্তকরণের আলোচনায় বেশি পরিচিত। তবে একই ধরনের প্রযুক্তি সেন্সর, ক্যামেরা, রেডিও সংকেত এবং অন্যান্য তথ্য একত্র করে ড্রোন চিহ্নিত করতেও কাজে লাগতে পারে। এমন ব্যবস্থা শুধু ড্রোন শনাক্ত করবে না, বরং কোন ড্রোনটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কোনটি আগে নিষ্ক্রিয় করা উচিত এবং কোনটির আক্রমণ সময় কম—এসব বিষয়ও বিশ্লেষণ করতে পারে।
তৃতীয় স্তর হলো অপ্রাণঘাতী প্রতিরোধ। এই পর্যায়ে ড্রোন ধ্বংস না করেও তাকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতির একটি হলো জ্যামিং। বৈশ্বিক নেভিগেশন স্যাটেলাইট ব্যবস্থা–নির্ভর ড্রোনকে বিভ্রান্ত করতে একই তরঙ্গমালায় শক্তিশালী সংকেত পাঠানো হয়। এর ফলে ড্রোন সঠিক অবস্থান বা সময় গণনা করতে ব্যর্থ হয়। অনেক ক্ষেত্রে ড্রোন পথ হারায়, থেমে যায়, ফিরে যায় বা মিশন ব্যর্থ করে।
আরেকটি পদ্ধতি হলো স্পুফিং। এতে ড্রোনের কাছে ভুয়া অবস্থান সংকেত পাঠানো হয়, যাতে সে ভুল জায়গাকে সঠিক অবস্থান মনে করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু রুশ ড্রোনকে এমনভাবে বিভ্রান্ত করে তাদের উৎসস্থলে বা বেলারুশের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই পদ্ধতি সামরিকভাবে কার্যকর হতে পারে, তবে এর ঝুঁকিও কম নয়।
জ্যামিং ও স্পুফিংয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এগুলো শুধু শত্রু ড্রোনকে নয়, আশপাশের বেসামরিক ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিমান চলাচল, নৌপরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, এমনকি দৈনন্দিন নেভিগেশন সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু জ্যামার বসালেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; বরং কোথায়, কখন এবং কত শক্তিতে এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে, তার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ দরকার।
এই কারণে সাইবার নিয়ন্ত্রণ বা ড্রোন দখল করার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ সংকেত দখল করে তাকে নিরাপদ অবতরণ স্থানে নামিয়ে আনা গেলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। তবে এই পদ্ধতির জন্য উন্নত সাইবার সক্ষমতা, দ্রুত বিশ্লেষণ এবং বাস্তব সময়ের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
চতুর্থ স্তরে আসে উচ্চ–শক্তির অস্ত্র। লেজার ও উচ্চ–ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র এখন ড্রোন প্রতিরোধে বড় আলোচনার বিষয়। লেজার অস্ত্র নির্দিষ্ট আলো–শক্তি দিয়ে ড্রোনের অংশ পুড়িয়ে বা অকার্যকর করে। অন্যদিকে উচ্চ–ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ড্রোনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে তীব্র তড়িৎচৌম্বকীয় আঘাত করে। এর কাজ অনেকটা ঘরের মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মতো হলেও সামরিক ব্যবহারে এর পরিসর ও শক্তি অনেক বেশি।
চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নরিনকো নির্মিত “হ্যারিকেন ৩০০০” তিন কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ড্রোন অকার্যকর করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের অস্ত্রের একটি বড় সুবিধা হলো এর প্রতি আঘাতের খরচ খুব কম হতে পারে—কখনো কখনো কয়েক ইউয়ান মাত্র। ড্রোন যুদ্ধ যেখানে ক্রমেই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়যুদ্ধে পরিণত হচ্ছে, সেখানে কম খরচে প্রতিরোধের ক্ষমতা বড় কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে।
শেষ স্তর হলো সরাসরি আঘাত বা প্রাণঘাতী প্রতিরোধ। এখানে ড্রোনকে গুলি করে, ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে, অথবা অন্য ড্রোনের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরোধী ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এসব ড্রোন শত্রু ড্রোনের দিকে ছুটে গিয়ে সরাসরি আঘাত করতে পারে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, একটি মানবহীন নৌযান থেকে প্রতিরোধী ড্রোন উৎক্ষেপণ করে রুশ শাহেদ ড্রোনকে মোকাবিলা করা হয়েছে। সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক মানবহীন ব্যবস্থার এই যৌথ ব্যবহার আধুনিক প্রতিরক্ষার নতুন দিক নির্দেশ করে।
আরেকটি পদ্ধতি হলো জাল ব্যবহার। ড্রোনের সঙ্গে জাল যুক্ত করে শত্রু ড্রোনকে আটকে ফেলা হয়। ইউক্রেনে ফোর্টেম টেকনোলজিস নির্মিত স্বয়ংক্রিয় “ড্রোনহান্টার এফ ৭০০” ব্যবস্থার ব্যবহার দেখা গেছে, যা শাহেদ–১৩১ ও শাহেদ–১৩৬ ধরনের কামিকাজে ড্রোন আটকাতে সক্ষম। উপসাগরীয় অঞ্চলেও এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রচলিত অস্ত্রও অবশ্য ড্রোন প্রতিরোধে ব্যবহার করা যায়। ছোট অস্ত্র, বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ভূপাতিত করতে পারে। কিন্তু এখানে বড় সমস্যা হলো খরচ। একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার, অথচ একটি শাহেদ ড্রোনের দাম হতে পারে মাত্র ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ডলার। এত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ধ্বংস করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তাই বিশেষজ্ঞরা কম খরচের স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ওপর জোর দিচ্ছেন।
এই প্রয়োজন আরও বেড়েছে, কারণ ড্রোন প্রযুক্তি দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ ড্রোনে টার্বোজেট ইঞ্জিন যুক্ত করার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এতে ড্রোন দুই থেকে তিন গুণ দ্রুত উড়তে পারে এবং বেশি উচ্চতায় যেতে পারে। এমন হলে প্রচলিত প্রতিরোধী ড্রোন অনেক সময় অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। অর্থাৎ আজ যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর, কাল সেটি অচল হয়ে যেতে পারে।
থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতাও একই শিক্ষা দেয়। কম্বোডিয়ার ফাইবার–অপটিক ড্রোনের বিরুদ্ধে থাইল্যান্ডের সংকেত জ্যামার কার্যকর হয়নি। কারণ ফাইবার–অপটিক নিয়ন্ত্রিত ড্রোন প্রচলিত রেডিও সংকেতের ওপর নির্ভর করে না। ফলে জ্যামিংয়ের মাধ্যমে তাকে থামানো কঠিন হয়ে যায়। এটি দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা—ড্রোন প্রতিরক্ষা শুধু বর্তমান প্রযুক্তির ওপর দাঁড়ালে হবে না; ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।
এখানেই দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার আসল চ্যালেঞ্জ। অঞ্চলের দেশগুলোকে শুধু সেনাবাহিনীর ভেতরে নতুন ইউনিট বা প্রশিক্ষণ চালু করলেই হবে না; প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবনী স্টার্টআপ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। কারণ ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধ—দুই ক্ষেত্রেই উদ্ভাবনের গতি অত্যন্ত দ্রুত। যে দেশ দ্রুত পরীক্ষা, গ্রহণ ও অভিযোজন করতে পারবে, সেই দেশই ভবিষ্যতের ড্রোন হুমকির বিরুদ্ধে এগিয়ে থাকবে।
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশ জটিল। এখানে সমুদ্রসীমা, দ্বীপাঞ্চল, সীমান্ত বিরোধ, নগর এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক ঘাঁটি—সব মিলিয়ে ড্রোন হুমকির সম্ভাব্য লক্ষ্য অনেক। ছোট ড্রোন দিয়ে নজরদারি, সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি, অবকাঠামোতে হামলা, অথবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠছে। তাই প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় ড্রোনকে আর পার্শ্ব বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ড্রোন প্রতিরোধকে একক অস্ত্র বা একক প্রযুক্তির সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না। এটি তথ্য, সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সক্ষমতা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, উচ্চ–শক্তির অস্ত্র, কম খরচের আঘাত ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের সমন্বিত চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ ড্রোন ঠেকাতে হলে আকাশে চোখ, মস্তিষ্কে বিশ্লেষণ, সংকেতে নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিতে গতি এবং প্রয়োজনে নির্ভুল আঘাত—সবকিছু একসঙ্গে দরকার।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়ার সীমান্ত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ড্রোন যুদ্ধের নিয়ম দ্রুত বদলে যায়। এক পক্ষ নতুন কৌশল আনলে অন্য পক্ষকে আরও দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হয়। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সামনে তাই মূল কাজ হলো শুধু প্রতিরক্ষা কেনা নয়, বরং শেখা, পরীক্ষা করা, অভিযোজন করা এবং ভবিষ্যতের হুমকি আগেভাগে বোঝা।
ড্রোন যুগে নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় পাঠ হলো—যে দেশ দ্রুত বদলাতে পারে, সেই দেশই টিকে থাকে। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার জন্য এখন সময় এসেছে সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে বহুস্তরীয়, সাশ্রয়ী এবং প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার।
সিভি/এইচএম

