দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। নতুন করে এক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া লেবানন যুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিহত কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করে। তার নাম মাওজ ইসরায়েল রেকানাতি। ২৪ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইতামার বসতির বাসিন্দা ছিলেন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর গোলানি ব্রিগেডের ১২তম ব্যাটালিয়নের প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মৃত্যুর পর তাকে লেফটেন্যান্ট পদ থেকে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনা, ট্যাংক, বুলডোজার ও সামরিক যানবাহিনীর ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির প্রকাশিত বিবৃতিগুলোতে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে তাদের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। দক্ষিণ লেবাননের সুর, বিনতে জবেইল এবং নাবাতিয়েহ জেলার বিভিন্ন গ্রামে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯৬৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯ হাজার ১১২ জন। ফলে অঞ্চলটির মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
এদিকে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শনিবার হিজবুল্লাহ সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননের কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে।
হিজবুল্লাহর মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলে তা লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে বৈধতা দেওয়ার শামিল হবে। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা শান্তি চুক্তির পরিবর্তে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, সব ধরনের হামলা বন্ধ, বন্দি বিনিময় এবং শর্তহীন পুনর্গঠনের দাবি করছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে ওয়াশিংটন-এ অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফা আলোচনায় লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছিল। পাশাপাশি শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে চতুর্থ দফা আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও দুই পক্ষের সংঘাত এখনো থামেনি। বরং প্রতিদিন নতুন হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

