যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, টার্মিনাল হাই অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স বা সংক্ষেপে থাড, বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশে সুরক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। এই সিস্টেমের মাধ্যমে ছোট, মাঝারি ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশে প্রতিহত এবং ধ্বংস করা সম্ভব।
সম্প্রতি জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য মার্কিন থাড মিসাইলের অর্ধেক মজুত ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
ইরানের হামলার সময়, ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে হুমকি প্রতিহত করতে হয়েছে। ফলে থাড মিসাইলের ২০০টিরও বেশি ব্যবহার হয়েছে, পাশাপাশি ১০০টির মতো এসএম-থ্রি ও এসএম-সিক্স ক্ষেপণাস্ত্রও প্রয়োগ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের নিজস্ব প্রযুক্তি অ্যারো সিস্টেমও ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যারো ২ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং মহাকাশে কার্যকর, আর অ্যারো ৩ আরও উচ্চতর এলাকায় কাজ করে। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে অ্যারো মিসাইলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ ইসরায়েলের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
পেন্টাগন এই তথ্য অস্বীকার করে বলেছে, “ইসরায়েলকে বোঝা দেওয়া হচ্ছে না। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আমাদের সামরিক সক্ষমতার একটি অংশ মাত্র।” তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের আকাশ সুরক্ষায় সহায়তার বিষয়টি স্পষ্ট।
যুদ্ধ চলাকালীন ইরানের অন্তত ৬৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এতে ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে অন্তত ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাজার কেজি প্রথাগত গোলাবারু ও ৫০টি গুচ্ছ বোমা বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রও বহন করেছে।
অতীতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় জেরুসালেমের সরকার অ্যারো মিসাইলের উৎপাদন বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। লক্ষ্য, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হামলায় সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা।
ইসরায়েলের আকাশ রক্ষায় থাড ও অ্যারো ব্যবস্থার অর্ধেক মজুত ফুরিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এটি প্রমাণ করে, সামরিক প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, ব্যয় ও সীমাবদ্ধতা সর্বদা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরায়েল এই মুহূর্তে একার পক্ষে সামরিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে এটি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার গভীরতা ও সমসাময়িক যুদ্ধ কৌশলের জটিলতাকে ফুটিয়ে তোলে।

