লেবাননে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার ভোরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলার পর পুরো সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাতের শেষ ভাগে ব্রিটাল এলাকার কাছাকাছি নাবি শ্রেইজ নামের পাহাড়ি অঞ্চলে একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়। ওই এলাকায় পাঁচটি পৃথক হামলার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই এলাকা ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল এবং আগে সেখানে সরাসরি হামলা হয়নি।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরে অবস্থানরত এক সাংবাদিক জানান, তিনি শহরের আশপাশে পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। প্রথম হামলাটি হয় শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে, এরপর শহরের ভেতরেও আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। হামলার পর পুরো এলাকায় ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, আতঙ্কে ছুটে যায় স্থানীয় মানুষ।
হামলার আগে উদ্ধারকারী দল ও পৌর কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে আহ্বান জানায়। অনেক বাসিন্দাকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে দেখা যায়, কারণ হামলার আশঙ্কা আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরবি ভাষায় দেওয়া এক সতর্কবার্তায় দুটি এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে বুর্জ রাহাল গ্রামও ছিল। সেনাবাহিনীর দাবি, তারা মূলত হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়েছে।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলায় সাধারণ অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলো আবারও অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পর এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ, আর নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আবারও বাড়ছে।
মানবিক দিক থেকে এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। কারণ বারবার হামলা ও পাল্টা অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, যারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই জীবন কাটাচ্ছে।

