নিজ দেশের মাটিতে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তান থেকে রওনা হয়েছিলেন শত কষ্টে জীবন কাটানো আফগান শরণার্থীরা। কিন্তু সেই যাত্রাই অনেকের জন্য হয়ে উঠল শেষ যাত্রা। পূর্ব আফগানিস্তানের একটি মহাসড়কে শরণার্থীবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন।
শনিবার (৩০ মে) লাগমান প্রদেশে কাবুল ও নানগারহারকে সংযুক্তকারী প্রধান সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাকটিতে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা আফগান শরণার্থীরা ছিলেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে বসবাস করছিলেন এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে আসছিলেন।
প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র আবদুল মালিক নিয়াজাই জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১০ জন শিশু ও ৫ জন নারী রয়েছেন। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে অনেক যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নানগারহারের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ফলে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা আমিনুল্লাহ শরিফ জানান, চালকের অসতর্কতাই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তান ও ইরান থেকে লাখ লাখ আফগান শরণার্থী দেশে ফিরছেন। তাদের অনেকেই আফগানিস্তানের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং জীবনের বেশিরভাগ সময় বিদেশে কাটিয়েছেন। দেশে ফেরার এই দীর্ঘ ও কষ্টকর যাত্রাপথে প্রায়ই নানা দুর্ঘটনা ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে একই সময়ে আফগানিস্তানের নুরিস্তান প্রদেশেও আরেকটি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি যাত্রীবাহী গাড়ি পাহাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে নদীতে পড়ে যায়। এতে চালক আহত হন এবং চারজন যাত্রী নিখোঁজ হন। উদ্ধারকর্মীরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অবহেলিত অবকাঠামো এবং সড়ক নিরাপত্তার ঘাটতি এখনও বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। দেশের অনেক সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, আর ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে না মানার কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।
লাগমানের এই দুর্ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কষ্ট পেরিয়ে ঘরে ফেরার পথও অনেক আফগান পরিবারের জন্য কতটা অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যারা নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরছিলেন, তাদের অনেকের যাত্রা শেষ হলো পথেই।

