ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে নতুন একটি দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না— এমন গ্যারান্টি তিনি তেহরানের কাছ থেকে পেয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার (৩০ মে) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন তার পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প। পরে সেটি একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের কাছে এমন একটি নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন যাতে দেশটি ভবিষ্যতে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে না যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে এবং এটিকে তিনি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশের পর ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে এমন কোনো গ্যারান্টি বা সমঝোতার বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। বরং ইরানের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার আগে তেহরানের অর্থনৈতিক দাবি পূরণ করতে হবে।
ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ ও অর্থ আটকে রেখেছে। সেই অর্থ মুক্ত না করা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা নেই বলে তারা মনে করে।
একই সঙ্গে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের আরেকটি দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছিলেন, ইরান তার ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে রাজি হয়েছে। তবে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের বিরোধ নতুন নয়। প্রায় দুই দশক ধরে এই ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান সংকট হিসেবে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে ইরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বেসামরিক এবং জ্বালানি, চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ খাতে সীমাবদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা আলোচনা চলার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে একই ধরনের অবস্থান প্রকাশ না করায় বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে পরমাণু ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।

