Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, আগস্ট 29, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইরান চুক্তি নিয়ে চাপে ট্রাম্প
    আন্তর্জাতিক

    ইরান চুক্তি নিয়ে চাপে ট্রাম্প

    নিউজ ডেস্কজুন 1, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনীতিতে আরেকটি জটিল অধ্যায়ের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতা করার চেষ্টা তিনি অনেক দিন ধরেই করছেন। কিন্তু প্রত্যাশা যত বড়, বাস্তবতা তত কঠিন হয়ে উঠছে। একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে আলোচনার টেবিল এখন এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

    ২৭ মে ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করেছিল ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা দ্রুত ঘোষণা করা যাবে। এমনকি ছুটির সময়ও ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ধরে রাখা হয়েছিল, কারণ ধারণা ছিল চুক্তি প্রায় প্রস্তুত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও কয়েক দফায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে চুক্তি আসতে পারে খুব শিগগির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বৈঠকের আয়োজন, রাজনৈতিক প্রস্তুতি এবং আগাম আশাবাদের পরও ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইরান এখনো চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছায়নি।

    এই ব্যর্থতা শুধু কূটনৈতিক জটিলতার ইঙ্গিত নয়; এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ তিনি নিজেকে বরাবরই এমন নেতা হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি কঠিন আলোচনাকেও নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু ইরান ইস্যুতে দেখা যাচ্ছে, চাপ, হুমকি ও সময়সীমা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

    আলোচনার মূল কাঠামো হিসেবে একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের কথা বলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আলোচনাকারীদের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল। এই সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। ট্রাম্প নিজেই ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ব্যঙ্গ করে আলাদা নামে উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ভাষার পরিচিত ধরন। কিন্তু বাস্তব আলোচনায় এমন ভাষা নয়, দরকার স্পষ্ট শর্ত, বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা এবং দুই পক্ষের গ্রহণযোগ্য সমঝোতা।

    সমস্যা হলো, ট্রাম্প একদিকে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে নত করতে চান, অন্যদিকে আবার নতুন যুদ্ধ শুরু করতেও অনাগ্রহী। তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার আগের মতো শক্ত অবস্থায় নেই। পাশাপাশি ইরান যদি উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাত করে, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে। এ কারণে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কঠোর ভাষা ব্যবহার করলেও বাস্তবে তিনি সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চান না।

    হরমুজ প্রণালী এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি। উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যত প্রণালীটি বন্ধ করে দেয়, ফলে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে অবরোধ শুরু করে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত সমঝোতার জন্য তারা ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ায়।

    সম্ভাব্য চুক্তির একটি বড় অংশ ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে চলাচল যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু ইরান চায় প্রণালীটির ওপর তার তদারকি বজায় থাকুক, সম্ভব হলে ওমানের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থায়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি গ্রহণ করা কঠিন, কারণ ওয়াশিংটন মনে করে এই জলপথ আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত থাকা উচিত।

    চুক্তির আরেকটি সংবেদনশীল দিক হলো ইরানের জব্দ করা সম্পদ। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় আটকে থাকা ইরানের কিছু সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ইরান এটিকে যুদ্ধজনিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণের মতো দেখছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে না। এই অবস্থান দেখায়, আলোচনার ভেতরের বাস্তবতা এবং জনসমক্ষে রাজনৈতিক ভাষার মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে।

    এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এই চুক্তিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইসরায়েলের আঞ্চলিক সামরিক পদক্ষেপও এর সঙ্গে যুক্ত হবে—এ প্রশ্ন এখনো পরিষ্কার নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার হামলা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। ফলে একই সময়ে একাধিক সংকটকে এক চুক্তির ভেতরে আনার চেষ্টা আলোচনাকে আরও দুরূহ করে তুলছে।

    এখানেই ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই সময় জন কেরি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বলেছিলেন, আলোচনাকে শুধু পারমাণবিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখা জরুরি। কারণ একসঙ্গে অনেক বিষয় যোগ করলে আলোচনা কখনো শেষ হয় না। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তি বাতিল করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও জড়ান, যার লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক কর্মসূচি থামানো, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রশক্তিকে দুর্বল করা এবং সম্ভব হলে তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে চাপে ফেলা। কিন্তু সামরিক পদক্ষেপের পরও এসব লক্ষ্য পূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি।

    এখন ট্রাম্প এমন এক অবস্থানে আছেন, যেখানে যুদ্ধ শেষ করতে চাইলে তাঁকে আলোচনা দরকার, কিন্তু আলোচনা সফল করতে হলে এমন ছাড় দিতে হতে পারে, যা তাঁর সমর্থক কঠোরপন্থিদের কাছে দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিতে পারে। ইরানবিরোধী রিপাবলিকান নেতাদের একটি অংশ ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে ট্রাম্প হয়তো তাড়াহুড়ো করে খারাপ চুক্তির দিকে এগোচ্ছেন। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও রজার উইকারের মতো নেতারা ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির ধারণা এবং ইরানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীলতাকে বিপজ্জনক বলে দেখছেন।

    এই সমালোচনা ট্রাম্পকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। প্রথমে তিনি চুক্তিকে প্রায় সম্পন্ন বলে প্রচার করলেও পরে ভাষা বদলে বলেন, চুক্তি এখনো শেষ হয়নি এবং তিনি শুধু স্পষ্ট জয় নিশ্চিত করে এমন সমঝোতাই গ্রহণ করবেন। কিন্তু সেই স্পষ্ট জয় দেখতে কেমন হবে, তা তিনি পরিষ্কার করেননি। এখানেই রাজনৈতিক কৌশল ও বাস্তব কূটনীতির সংঘাত স্পষ্ট হয়।

    ট্রাম্পের স্বভাব হলো বড় ঘোষণা দেওয়া। কোনো জটিল পরিস্থিতিকেও তিনি বৃহত্তর সাফল্যের গল্পে রূপ দিতে চান। ইরান চুক্তির ক্ষেত্রেও তিনি এটিকে আরও বড় মধ্যপ্রাচ্য সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা করেছেন বলে জানা যায়। বিশেষ করে ইসরায়েল ও কিছু আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগের চুক্তিগুলোর বিস্তারের মাধ্যমে তিনি হয়তো একটি ঐতিহাসিক বিজয়ের ছবি তৈরি করতে চাইছেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষোভ আছে, আর উপসাগরীয় দেশগুলোও যুদ্ধের কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাই বড় আঞ্চলিক সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত খুব সীমিত।

    আরেকটি বড় সমস্যা হলো আলোচনার নেতৃত্বের ধরন। অতীতে বড় যুদ্ধ বা সংঘাত শেষ করার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা অভিজ্ঞ কূটনীতিকরা সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। কিন্তু বর্তমান আলোচনায় মার্কো রুবিওকে সেইভাবে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না। তিনি ভারতের চার দিনের সফরের পর আর্মেনিয়ায় গিয়েছেন অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি করতে। ফলে ইরান যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক দায়িত্ব মূলত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের হাতে গেছে। উইটকফ ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত এবং তাঁর পুরোনো ব্যবসায়িক পরিচিত। কুশনার ট্রাম্পের জামাতা, তবে প্রশাসনে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই।

    এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মতো তাঁরা নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেন না, সাংবাদিকদের সঙ্গে সফর করেন না, কিংবা আলোচনার অগ্রগতি জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করেন না। ফলে আমেরিকান জনগণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে, আসলে আলোচনা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তাই অনেক সময় একমাত্র ইঙ্গিত হয়ে উঠছে, কিন্তু সেগুলো সবসময় পরিষ্কার নয়।

    ইরানের দিক থেকেও অবিশ্বাস গভীর। তেহরানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই শান্তি চায় কি না, তা সন্দেহজনক। কারণ আগের আলোচনার সময়ও ট্রাম্প একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও তেহরানের চোখে ওয়াশিংটনের অবিশ্বাসযোগ্য আচরণের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শান্তি আলোচনার মাঝেই সামরিক পদক্ষেপ চললে বিশ্বাস গড়ে ওঠা কঠিন।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পেট্রলের দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। রাস্তার পাশের জ্বালানি পাম্পের মূল্যতালিকাই আমেরিকান ভোটারদের জন্য রাজনৈতিক বার্তা হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প যদি চুক্তি করতে পারেন, তিনি সেটিকে নিশ্চয়ই বিজয় হিসেবে তুলে ধরবেন। কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ নয়।

    কারণ ইরান ইতোমধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করার ক্ষমতা তার আছে। যুদ্ধ শেষ হলেও এই অভিজ্ঞতা তেহরানের হাতে নতুন কৌশলগত শক্তি এনে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আবার সংকট তৈরি হলে ইরান একই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ শুধু জলপথ খুলে দেওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ বিজয় নয়।

    এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প কি এমন একটি চুক্তি করতে পারবেন, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে সীমিত করবে, হরমুজ প্রণালী স্থিতিশীল করবে, আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে তাঁর নিজ দলের কঠোরপন্থিদের সন্তুষ্ট রাখবে? এই চারটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। বরং যত বেশি বিষয় একসঙ্গে আলোচনায় যোগ হচ্ছে, চুক্তির পথ তত দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হচ্ছে।

    ২০১৫ সালের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শত্রুতা শেষ করেনি, কিন্তু অন্তত পারমাণবিক ইস্যুতে সংঘাত কমানোর চেষ্টা করেছিল। সেই চুক্তির সমর্থকদের যুক্তি ছিল, বড় যুদ্ধ এড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ আগে নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। ট্রাম্প তখন ভিন্ন পথে হাঁটেন। এখন যুদ্ধের পর তিনি হয়তো বুঝতে পারছেন, সামরিক শক্তি দিয়ে সব রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা যায় না।

    ইরান চুক্তি তাই শুধু একটি কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়; এটি ট্রাম্পের নেতৃত্বের ধরন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তারও পরীক্ষা। তিনি চুক্তি করতে চান, কিন্তু সেই চুক্তি তাঁর ভাষায় বড় জয় হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। আর ইরানও জানে, সময় এখন তার বিরুদ্ধে যেমন কাজ করছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে তার পক্ষেও কাজ করছে।

    শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প যদি চুক্তি ঘোষণা করেন, তা হয়তো রাজনৈতিকভাবে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। কিন্তু প্রকৃত মূল্যায়ন হবে অন্য জায়গায়: ইরান কি সত্যিই পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে, হরমুজ প্রণালী কি নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকবে, আঞ্চলিক সংঘাত কি কমবে, আর যুক্তরাষ্ট্র কি যুদ্ধের পর এমন এক সমঝোতায় পৌঁছাবে যা ভবিষ্যতের সংকট ঠেকাতে পারে?

    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো মেলেনি। তাই ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে পথ খোলা থাকলেও সেটি সহজ নয়। বরং প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে—এটি শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব সমাধান।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ভূ-রাজনীতি

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী লাভ, কী ঝুঁকি?

    আগস্ট 28, 2026
    আন্তর্জাতিক

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত

    আগস্ট 28, 2026
    ভূ-রাজনীতি

    তারেক রহমানকে দিল্লিতে স্বাগত জানাতে কেন আগ্রহী ভারত?

    আগস্ট 28, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী লাভ, কী ঝুঁকি?

    ভূ-রাজনীতি আগস্ট 28, 2026

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.