যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সোমবার (১ জুন) ভোরে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন, আর আহতদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশুও।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের দেইর আল-জাহরানি এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও ছয় নারী রয়েছেন। হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
এই হামলাকে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ। গত এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যে উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো পরিস্থিতিকে আবারও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই হামলার মাত্র একদিন আগেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও কয়েক ডজন মানুষ। ফলে টানা দুই দিনের হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে আশা তৈরি হয়েছিল যে সীমান্ত এলাকায় সংঘাত কমে আসবে। পরে ১৭ মে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হয়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোতে দেশজুড়ে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা লেবাননের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘিত হওয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতিনিয়ত হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই লেবাননের এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও মাঠের বাস্তবতা এখনো অত্যন্ত নাজুক।

