যুদ্ধ শুধু অস্ত্র, সেনা, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা অবরোধের বিষয় নয়। যুদ্ধ বোঝার জন্য ভাষাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা যে শব্দ দিয়ে কোনো সংঘাতকে ব্যাখ্যা করি, সেই শব্দই অনেক সময় আমাদের বিচারবোধকে প্রভাবিত করে। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজনীতিবিদ, বিশ্লেষক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষ দ্রুত মন্তব্য করতে গিয়ে এমন কিছু শব্দ বারবার ব্যবহার করছেন, যা বাস্তবতাকে সহজ করে দেখায়, কিন্তু পুরো সত্যকে ধরতে পারে না।
আগে বলা হতো, চব্বিশ ঘণ্টার সংবাদচক্র নীতিনির্ধারণে ক্ষতি করে। কারণ নেতারা গভীরভাবে প্রমাণ যাচাই, বিকল্প চিন্তা ও বিরোধী মত বিবেচনার বদলে চলমান পর্দার খবরের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। এখন সেই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বড় সংকট—চব্বিশ ঘণ্টার মতামতচক্র। খবরের চেয়ে মন্তব্য এখন অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেউ পুরো বাস্তবতা বুঝে ওঠার আগেই সিদ্ধান্ত, অভিযোগ, ভবিষ্যদ্বাণী ও তুলনা শুরু হয়ে যায়। এর ফলে জনমত যেমন উত্তপ্ত হয়, তেমনি নীতিনির্ধারণও অনেক সময় অস্থির হয়ে পড়ে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকেরা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা এমনভাবে করা হচ্ছে যেন যুদ্ধ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত বিচার দিয়ে দেওয়া যায়। তারা তুলনা টানছেন ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের যুদ্ধ নেতৃত্বের সঙ্গে, বিশেষ করে ১৯৪২ সালের এপ্রিলের সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যখন মিডওয়ে, গুয়াডালকানাল ও উত্তর আফ্রিকার অভিযান তখনও হয়নি। এই তুলনা নিখুঁত না হলেও এর ভেতরে একটি বড় প্রশ্ন আছে: যুদ্ধের মাঝপথে দাঁড়িয়ে কতটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় কোন সিদ্ধান্ত সঠিক, কোন সিদ্ধান্ত ভুল?
তবে এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো “যুদ্ধ” শব্দটির ব্যবহার। অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, ইরানকে ঘিরে বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি, এবং এটি শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু এই ধারণা নিজেই বিতর্কিত। কারণ যুদ্ধ কখন শুরু হয়েছে, তা ভুলভাবে বোঝা হলে পুরো কৌশলগত বিচারও ভুল হতে পারে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা যায়, সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণ, অবরোধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ড্রোন হামলা হয়তো একটি দীর্ঘ সংঘাতের নতুন ও সহিংস অধ্যায় মাত্র। ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক বৈরিতার ভেতর দিয়ে এগিয়েছে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে ইরানি মাইন, বিস্ফোরক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের নেতাদের বক্তব্যেও বারবার এমন ধারণা পাওয়া যায় যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের স্থায়ী সংঘাতে আছে বলে মনে করেন।
এখানেই যুদ্ধ বোঝার বড় জটিলতা। আমেরিকানরা সাধারণত দীর্ঘ যুদ্ধ পছন্দ করে না। শুধু অপছন্দই নয়, অনেক সময় তারা দীর্ঘ যুদ্ধের অস্তিত্ব স্বীকার করতেও অনাগ্রহী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অনেকেই পার্ল হারবার থেকে শুরু বলে ভাবেন। কিন্তু যুক্তি দেওয়া যায়, সেটি ১৯৩৭ সালে জাপানের চীনের ওপর বড় আক্রমণের সময় থেকেই শুরু হয়েছিল। একইভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধকে অনেকে ১৯৬৫ সাল থেকে ধরেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধে বড় আকারে যুক্ত হয়। অথচ সেই সংঘাতের শিকড় ১৯৪৬ সাল কিংবা তারও আগের সময় পর্যন্ত প্রসারিত ছিল।
এই ইতিহাস মনে রাখলে ইরান পরিস্থিতিকেও অন্যভাবে দেখা যায়। যদি বর্তমান সংঘাতকে শুধু কয়েক মাসের সামরিক অভিযান হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এক ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। কিন্তু যদি একে ১৯৭৯ সাল থেকে চলমান দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামরিক ও আদর্শিক সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে বিশ্লেষণ পুরোপুরি বদলে যায়। তখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, এটি নতুন যুদ্ধ নয়; বরং পুরনো সংঘাতের নতুন পর্ব কি না।
আরেকটি বিভ্রান্তিকর শব্দ হলো “জয়” ও “পরাজয়”। যুদ্ধের ফল অনেক সময় সরল নয়। কোনো পক্ষ সামরিকভাবে হারলেও তার রাজনৈতিক লক্ষ্য আংশিক পূরণ হতে পারে। আবার কোনো পক্ষ যুদ্ধ জিতেও দীর্ঘমেয়াদে শক্তি, প্রভাব বা আত্মবিশ্বাস হারাতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমান শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল। কিন্তু পূর্ব এশিয়ায় ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলোর ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে জাপানের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। হিটলার বার্লিনের বাংকারে মারা গিয়েছিলেন, নাৎসি জার্মানি ধ্বংস হয়েছিল; কিন্তু ইউরোপীয় ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর তার ধ্বংসাত্মক লক্ষ্য ভয়াবহভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। আবার ব্রিটেন যুদ্ধজয়ী শক্তির দলে থাকলেও তার সাম্রাজ্যিক প্রাণশক্তি ও বৈশ্বিক ক্ষমতার অনুভূতি বড়ভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছিল।
এই বাস্তবতা দেখায়, যুদ্ধের ফলাফল সব সময় সাদা-কালো নয়। ১৮১২ সালের যুদ্ধের উদাহরণও তা বোঝায়। ব্রিটিশরা মনে করেছিল তারা আমেরিকানদের কঠোরভাবে পরাস্ত করেছে, কানাডাকে দখল থেকে রক্ষা করেছে এবং ব্রিটিশ নৌবাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে। আমেরিকানরা আবার মনে করেছিল ব্রিটেন আর উত্তর আমেরিকার অভ্যন্তরে তাদের পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ থামাতে পারবে না, এবং আমেরিকার নৌ শক্তিকে সম্মান করতে বাধ্য হয়েছে। কানাডীয়দের কাছে এই যুদ্ধ তাদের আলাদা পরিচয় গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কিন্তু স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী, যারা আনুষ্ঠানিক পক্ষ ছিল না, তারাই ছিল এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত।
এ কারণে “জিতছে” বা “হারছে”—এই ধরনের সরল ভাষা অনেক সময় যুদ্ধের প্রকৃতি বোঝাতে ব্যর্থ হয়। যুদ্ধ শুধু একটি খেলার মতো নয়, যেখানে শেষে পয়েন্ট গুনে বিজয়ী ঘোষণা করা যায়। যুদ্ধের ভেতরে থাকে দীর্ঘমেয়াদি চাপ, যেমন অবরোধ, অর্থনৈতিক ক্ষতি, বোমাবর্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আঘাত। আবার থাকে হঠাৎ সংঘর্ষ, নির্দিষ্ট অভিযান ও মুহূর্তভিত্তিক সামরিক সাফল্য। উইনস্টন চার্চিল যুদ্ধকে প্রবণতা ও ঘটনার সমন্বয় হিসেবে দেখেছিলেন। এই ধারণা এখনো প্রাসঙ্গিক।
ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেটি কি তার বিজয়? এক দিক থেকে বলা যায়, এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে এবং প্রতিপক্ষের ওপর কৌশলগত চাপ বাড়তে পারে। কিন্তু অন্য দিক থেকে ইরানের নিজস্ব তেল রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দুই বিমানশক্তির আঘাতের মুখে পড়েছে, যেখানে উন্নত গোলাবারুদ ও শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই শুধু “বিজয়” শব্দ দিয়ে এই পরিস্থিতি বোঝা যায় না। কোনো পক্ষ বর্ণনার যুদ্ধে এগিয়ে থাকলেও বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি, অর্থনৈতিক ধাক্কা ও সামরিক দুর্বলতা মুছে যায় না।
আরেকটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ হলো “কাদাজল” বা এমন এক বিপজ্জনক ফাঁদ, যেখানে ঢুকলে বের হওয়া কঠিন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভাষায় এই ধারণা বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়। পরে ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা সেই ভয়কে আরও গভীর করেছে। কিন্তু প্রতিটি যুদ্ধকে একই ছাঁচে ফেলা বিপজ্জনক। ইরান পরিস্থিতিকে ভিয়েতনাম, ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘ স্থলযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর। কারণ এখানে যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের স্থলবাহিনী পাঠিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্রোহ দমনে নেমেছে—এমন নয়। বরং এখানে বিমানশক্তি, নৌ অবরোধ ও রাষ্ট্রীয় সামরিক চাপের মতো ভিন্ন ধরনের কৌশল ব্যবহৃত হচ্ছে।
তুলনা করা সহজ, কিন্তু সঠিক তুলনা করা কঠিন। রাজনীতিতে পুরনো স্মৃতি ব্যবহার করে বর্তমান সমস্যাকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা বহুদিনের। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর বহু বছর রিপাবলিকান রাজনীতিবিদরা ভোটারদের মনে করিয়ে দিতেন যে অনেক ডেমোক্র্যাট দক্ষিণের পক্ষে ছিল বা দক্ষিণের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। এই কৌশল তখন রাজনৈতিক সুবিধা দিলেও দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধান দেয়নি। একইভাবে ইরাক বা ভিয়েতনামের স্মৃতি টেনে এনে ইরান সংকটের প্রতিটি দিক ব্যাখ্যা করতে গেলে বাস্তবতা আড়াল হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, প্রস্তুতি বা যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। বরং সমালোচনার জায়গা যথেষ্ট আছে। প্রশাসন যুদ্ধের শুরুতে যেভাবে কৌশলগত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল, তা নেয়নি—এমন অভিযোগও রয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ, মাইন অপসারণের সক্ষমতা আগে থেকে জোরদার করা, যুদ্ধকালীন বীমা ব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা করা, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে মিত্রদের সমর্থন নিশ্চিত করা—এসব ক্ষেত্রে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে। মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের বদলে বিষাক্ত ভাষা ব্যবহার করলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও কূটনৈতিক ক্ষতি তৈরি হয়।
মূল প্রশ্ন তাই প্রশাসনকে সমর্থন করা বা বিরোধিতা করা নয়। মূল প্রশ্ন হলো, আমরা কি সঠিক ভাষা ব্যবহার করে যুদ্ধ বুঝতে চাই, নাকি পুরনো শব্দ, ক্লান্ত তুলনা ও আবেগপ্রবণ মন্তব্য দিয়ে নিজেদের মতকেই সত্য প্রমাণ করতে চাই। যুদ্ধ বিশ্লেষণে দ্রুত সিদ্ধান্তের লোভ বিপজ্জনক। কারণ যুদ্ধের বাস্তবতা বদলায়, কৌশল বদলায়, পক্ষগুলোর সক্ষমতা বদলায়, এবং অনেক সময় আকস্মিক ঘটনা পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
যুদ্ধকে যদি শুধু “জয়” বা “পরাজয়”, “নতুন” বা “পুরনো”, “ফাঁদ” বা “সুযোগ”—এই কয়েকটি শব্দে আটকে ফেলা হয়, তাহলে বোঝাপড়া সংকুচিত হয়। ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংঘাতও তেমনই এক জটিল বাস্তবতা। এখানে ইতিহাস আছে, আদর্শিক বিরোধ আছে, সামরিক শক্তির হিসাব আছে, জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন আছে, আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ কৌশলগত ব্যর্থতার ছায়াও আছে।
সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, ভুল ভাষা থেকে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী জন্ম নিতে পারে। কেউ যদি আগেই ধরে নেয় এটি অবধারিতভাবে বিপর্যয়, সে পরে এমন প্রমাণই খুঁজবে যা তার ধারণাকে সমর্থন করে। আবার কেউ যদি আগেই ধরে নেয় এটি দ্রুত বিজয়ের পথ, সেও বাস্তব ঝুঁকি অস্বীকার করতে পারে। দুই অবস্থাই বিপজ্জনক। কারণ তখন বিশ্লেষণ আর বাস্তবতার অনুসন্ধান থাকে না; তা হয়ে যায় নিজের অবস্থান রক্ষার প্রচেষ্টা।
ইরান সংঘাত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যুদ্ধ বুঝতে হলে শুধু অস্ত্রের ভাষা নয়, শব্দের ভাষাও বিশ্লেষণ করতে হবে। কোন শব্দ ব্যবহার করছি, কেন ব্যবহার করছি, সেই শব্দ ইতিহাসকে ছোট করছে কি না, বাস্তবতাকে সরল করছে কি না—এসব প্রশ্ন জরুরি। কারণ যুদ্ধের ভুল ভাষা শেষ পর্যন্ত ভুল সিদ্ধান্তের পথ খুলে দিতে পারে। আর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য শুধু সরকার দেয় না; সেই মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ, সৈনিক, অর্থনীতি এবং কখনো কখনো পুরো অঞ্চল।

