যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে গেছে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। এক বন্দুকধারী পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক স্থানে গুলি চালালে সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ অন্তত সাতজন নিহত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক হামলা, যার পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব কাজ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে আইওয়ার মাস্কাটিন শহরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রথমে একটি আবাসিক বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তারা চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। চিকিৎসকরা পরে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই তদন্তকারীরা হামলাকারী হিসেবে ৫২ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা রায়ান উইলিস ম্যাকফারল্যান্ডকে শনাক্ত করেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যান। এরপর পুরো শহরজুড়ে তাকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়।
কিছু সময় পর একটি পথচারী সেতুর কাছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, তিনি নিজের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তদন্ত এগোতে থাকলে ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হতে শুরু করে। প্রথম হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি বাড়ি থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, তিনিও একই হামলার শিকার।
এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে গ্র্যান্ডভিউ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আরেকজনের মরদেহ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের সবাই কোনো না কোনোভাবে হামলাকারীর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। ফলে ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো সহিংসতা নয়, বরং পারিবারিক বিরোধের চরম ও মর্মান্তিক পরিণতি বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এটি মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট একটি হত্যাকাণ্ড। তবে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা পটভূমি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনার পর মাস্কাটিন শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে হতবাক। অনেকেই বলছেন, একটি পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এত বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে, তা কল্পনাও করা কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক সহিংসতা ও আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা প্রায়ই ভয়াবহ পরিণতির জন্ম দেয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ সংকট শেষ পর্যন্ত সাতটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং পুরো সম্প্রদায়কে গভীর শোক ও উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
তদন্ত শেষ হলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ, পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা এবং হামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

