ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভসহ ডনিপ্রো ও খারকিভে একযোগে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে শুরু হওয়া এই হামলায় আবাসিক ভবন, অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি এটি। তাদের আশঙ্কা, এটি হয়তো আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ডনিপ্রো অঞ্চলে। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর বহু আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে একাধিক গাড়ি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশুদের খেলার স্থানসহ বিভিন্ন জনসাধারণের অবকাঠামো।
রাজধানী কিয়েভেও ছিল আতঙ্কের রাত। শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একটি ২৪ তলা আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
এ ছাড়া একটি ৯ তলা ভবনে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভে অন্তত ৪ জন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে।
হামলা শুরু হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাজধানীর ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনেকে ব্যাগ, কম্বল, গদি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে রাত কাটিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। এ সময় আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
খারকিভ অঞ্চলেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এই হামলার কয়েকদিন আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ আক্রমণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তার মতে, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে রাশিয়া নতুন করে হামলার মাত্রা বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছে। তবে ইউক্রেন বলছে, হামলার বড় অংশই বেসামরিক এলাকায় আঘাত হানছে এবং সাধারণ মানুষই এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ইউক্রেনের বহু শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধ থামাতে বিভিন্ন সময় শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। বরং সাম্প্রতিক হামলা দেখাচ্ছে যে সংঘাত এখনও অনেক দূর গড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ উভয় পক্ষই সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের বড় শহরগুলোতে নতুন করে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হতে পারে।

