ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোজতবা খামেনিকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি শুধু জীবিতই নন, বরং সাম্প্রতিক সময়ে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সক্রিয়তা আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির এক শুনানিতে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন রুবিও। শুনানিতে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু তথ্য ও ইঙ্গিত পেয়েছে যা থেকে বোঝা যায় মোজতবা খামেনি আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
রুবিওর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে দেশটির নেতৃত্ব, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
টানা ৪০ দিন ধরে চলা সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
এর মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সেটিকে অনেক বিশ্লেষক ‘ভঙ্গুর’ বলে অভিহিত করছেন।
তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে দাবি করেছেন মার্কো রুবিও। তার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগও রয়েছে।
সিনেট কমিটির সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। তার ভাষায়, একটি সম্ভাব্য চুক্তি আজও হতে পারে, আগামীকালও হতে পারে কিংবা আগামী সপ্তাহেও হতে পারে।
তবে এর জন্য ইরানকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদেশি জাহাজের ওপর হামলা না করা এবং কোনো ধরনের টোল বা অর্থ আদায় না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তেহরানকে।
রুবিও আরও বলেন, যদি ইরান এসব বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেয়, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে স্থাপন করা মাইন অপসারণ এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর বক্তব্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়। দ্বিতীয়ত, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে মোজতবা খামেনির ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও আবার সামনে চলে এসেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, চলমান উত্তেজনা ও অবিশ্বাসের মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কি শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে এগোতে পারবে, নাকি নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়বে? সেই উত্তরই সম্ভবত আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক তৎপরতায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে

