ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। বুধবার (৩ জুন) সকালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত হয় ‘মাইকাশা ইন’ নামের একটি হোটেলের নিচতলায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত পুরো পাঁচতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একের পর এক অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উদ্ধার অভিযানে পানিবাহী ইঞ্জিন, দ্রুত সাড়া প্রদানকারী বিশেষ যানসহ একাধিক ইউনিট অংশ নেয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আগুন লাগার সময় হোটেলটিতে প্রায় ৪০ জন অতিথি ও কর্মচারী অবস্থান করছিলেন। প্রায় ২৫ কক্ষবিশিষ্ট এই হোটেলে থাকা অধিকাংশ অতিথিই বিদেশি নাগরিক ছিলেন। তারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সময় অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে অনেকেই আগুনের ভয়াবহতা বুঝে ওঠার আগেই ভবনের বিভিন্ন অংশ ধোঁয়া ও আগুনে ছেয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে, জীবন বাঁচাতে কয়েকজন অতিথি জানালা দিয়ে নিচে লাফ দিতে বাধ্য হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে সেই আতঙ্কের চিত্র দেখা গেছে।
হোটেলের নিচতলায় একটি খাবারের দোকানও ছিল। সেখানে কর্মরত রাঁধুনি কেসর সিং জানান, সকাল প্রায় ৮টার দিকে তিনি একটি বৈদ্যুতিক চুলা চালু করার সময় হঠাৎ আগুনের শিখা দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত সহকর্মীদের সতর্ক করেন এবং সবাইকে ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। বাইরে এসে তিনি দেখতে পান, পুরো ভবন আগুনে জ্বলছে। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ভবনের বিভিন্ন অংশে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনতে অভিযান শুরু করেন। ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ, আগুনে দগ্ধ হওয়া এবং ভবন থেকে লাফ দেওয়ার কারণে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, রান্নাঘরের সরঞ্জাম অথবা অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভারতের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, জরুরি নির্গমনপথের অপর্যাপ্ততা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শনের অভাব অনেক সময় প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
মালব্য নগরের এই দুর্ঘটনাও আবারও প্রশ্ন তুলেছে—বহুতল ভবন ও হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি কতটা পর্যাপ্ত। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

