Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, জুন 12, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » লেবানন ঘিরে ফ্রান্সের পুরোনো খেলা
    আন্তর্জাতিক

    লেবানন ঘিরে ফ্রান্সের পুরোনো খেলা

    নিউজ ডেস্কজুন 4, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    লেবানন আবারও মধ্যপ্রাচ্যের বড় শক্তিগুলোর কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে। অর্থনৈতিক ধস, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, দক্ষিণাঞ্চলে দখল, বাস্তুচ্যুতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে দেশটি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি বিদেশি পদক্ষেপের পেছনে মানবিক উদ্বেগের পাশাপাশি শক্তির হিসাবও কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের বিশেষ দূত জঁ-ইভ লে দ্রিয়াঁর বৈরুত সফর শুধু একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর নয়; বরং এটি লেবাননে ফ্রান্সের প্রভাব ধরে রাখার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

    জঁ-ইভ লে দ্রিয়াঁ বুধবার বৈরুতে পৌঁছানোর কথা। তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এবং প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা, ইসরায়েলের আক্রমণ ও দেশের এক-পঞ্চমাংশ এলাকায় দখল পরিস্থিতি, এবং দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভবিষ্যৎ। এই বাহিনীর সঙ্গে ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, আর চলতি বছরই এর ম্যান্ডেট শেষ হওয়ার কথা। তাই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন লেবাননের ভেতরে সংকট যেমন গভীর, তেমনি বাইরে থেকেও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বাড়ছে।

    ফ্রান্স কেন লেবানন নিয়ে এত সক্রিয়—এই প্রশ্নের উত্তর শুধু বর্তমান রাজনীতিতে নেই; এর শিকড় ইতিহাসে। ফ্রান্স ও লেবাননের সম্পর্ক কয়েক শতকের পুরোনো। বিশেষ করে লেবাননের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স সেখানে একটি ঐতিহাসিক প্রভাব গড়ে তোলে। ১৯২০ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ফরাসি ম্যান্ডেট লেবাননের রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্ধারণে, সাংবিধানিক কাঠামো তৈরিতে এবং ফরাসি সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাধীনতার পরও বৈরুত দীর্ঘদিন ফরাসিভাষী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এমনকি অনেকের কাছে বৈরুত ছিল “মধ্যপ্রাচ্যের প্যারিস”। আজও লেবাননের অনেক নাগরিক, বিশেষ করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বহু মানুষ, ফরাসি ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

    তবে ইতিহাসের আবেগের বাইরে ফ্রান্সের লেবানন-আগ্রহের বাস্তব কারণও আছে। লেবানন প্যারিসের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি কৌশলগত দরজা। এই দেশটির মাধ্যমে ফ্রান্স আরব মাশরিক, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, সিরিয়া, অভিবাসন, জ্বালানি এবং ইউরোপ-আরব সম্পর্কের নানা প্রশ্নে ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়লে সেখানে আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির প্রভাব বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও ফ্রান্সের আছে। তাই লেবাননের সেনাবাহিনী, জনপ্রশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখা ফরাসি নীতিনির্ধারকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

    ফ্রান্সের অর্থনৈতিক স্বার্থও এখানে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। লেবাননের সমুদ্রসীমায় গ্যাস অনুসন্ধানের সঙ্গে ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিস যুক্ত। অন্যদিকে শিপিং প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএম বৈরুত বন্দরকে ভূমধ্যসাগরজুড়ে বিস্তৃত ফরাসি বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখে। অর্থাৎ ফ্রান্সের লেবানন নীতি কেবল কূটনীতি বা মানবিক সহায়তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাবের হিসাবও জড়িত।

    ২০২০ সালের বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণের পর ফ্রান্সের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসে। ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দ্রুত বৈরুত সফর করেন এবং বড় সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, ফ্রান্স আবারও লেবাননের সবচেয়ে সক্রিয় ইউরোপীয় অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। কিন্তু কয়েক বছর পর দেখা যাচ্ছে, সেই অবস্থান ধরে রাখা প্যারিসের জন্য সহজ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ক্রমেই বড় হয়েছে, আর ইসরায়েলও মধ্যস্থতায় ফ্রান্সের তুলনায় ওয়াশিংটনকে বেশি গুরুত্ব দিতে চেয়েছে।

    লেবাননের সাম্প্রতিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্চের শুরুতে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ভারী হামলা এবং দখল নতুন করে জোরদার করে। এর আগে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট ছোড়া শুরু করে, যার কারণ হিসেবে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়ার প্রতিশোধের কথা বলা হয়। ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও লেবাননে প্রতিদিন হামলা চলতে থাকে। এই সংঘাতে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং দশ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলা ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে জানা যায়। একই সময়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এই ঘটনাটি দেখায়, ফ্রান্স পুরোপুরি পাশে সরে যায়নি; বরং লেবানন প্রশ্নে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখতে চাইছে। তবে বাস্তবতা হলো, লেবাননের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত এখন আগের চেয়ে বেশি ওয়াশিংটন ও উপসাগরীয় প্রভাবশালী রাজধানীগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

    ফ্রান্সের উদ্বেগ এখানেই। প্যারিস মনে করছে, লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা যদি অতিরিক্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তবে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে যাবে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে কূটনীতি অনেক সময় প্রচলিত নিয়মের বাইরে চলে যায়—এমন ধারণা ফরাসি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আছে। লেবাননে ফ্রান্স সাধারণত চরম অবস্থান নিতে চায় না। তারা সংঘাত ঠেকিয়ে, রাষ্ট্রীয় কাঠামো বাঁচিয়ে এবং বিদ্যমান ভারসাম্য বজায় রেখে প্রভাব ধরে রাখার পক্ষে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখন আর শুধু ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে মধ্যস্থতায় সীমাবদ্ধ নেই। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সরাসরি হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেমের বক্তব্যের জবাব দিতে হস্তক্ষেপ করেন, যখন কাসেম প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি এ সপ্তাহে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরাসরি না মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে—তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যে হিজবুল্লাহকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে বিবেচনা করে, সেই প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নজিরবিহীন।

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সেটিও ফ্রান্সকে প্রান্তে ঠেলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ওই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা ছিল, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনার পৃষ্ঠপোষকতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ওয়াশিংটনের নেতৃত্ব আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। কিন্তু চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননের ভেতরে হামলা চালিয়ে যায়। জাতিসংঘের হিসাবে ওই কথিত যুদ্ধবিরতির সময় দশ হাজারের বেশি লঙ্ঘন নথিভুক্ত হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, যুদ্ধবিরতি শুধু কাগজে থাকলে বাস্তব শান্তি আসে না; তার জন্য কার্যকর চাপ, পর্যবেক্ষণ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

    ফ্রান্সের আরেকটি দুর্বলতা হলো ইসরায়েলের ওপর তার প্রভাব কমে যাওয়া। ফ্রান্সের সঙ্গে ইসরায়েলের স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও গাজা ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। ফলে প্যারিস কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও যুদ্ধবিরতি চাপিয়ে দেওয়া বা ইসরায়েলকে থামানোর মতো বাস্তব ক্ষমতা তার হাতে নেই। লেবাননের সংকট সমাধানে ফ্রান্স তাই আগের মতো কেন্দ্রীয় শক্তি নয়; বরং এখন তাকে অংশীদার হিসেবে জায়গা ধরে রাখতে হচ্ছে।

    এই অবস্থায় ফ্রান্স প্রভাব টিকিয়ে রাখার জন্য কয়েকটি পথ ব্যবহার করছে। প্রথমত, মানবিক সহায়তা। ১১ মে ফ্রান্সের ইউরোপ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষের প্রয়োজন মেটাতে তারা ১৭ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ ১৯.৮ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তা নিঃসন্দেহে জরুরি, কারণ লেবাননের বহু মানুষ এখন অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তবে মানবিক সহায়তা একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রভাবেরও একটি মাধ্যম। সহায়তার মাধ্যমে ফ্রান্স লেবাননের জনগণ, প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, দক্ষিণ লেবাননের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী ফ্রান্সের জন্য বড় কৌশলগত হাতিয়ার। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনী গঠনের পর থেকেই ফ্রান্স সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী উপস্থিতি শুধু নিরাপত্তা প্রশ্ন নয়; এটি ফ্রান্সের আঞ্চলিক অবস্থানেরও প্রতীক। কিন্তু এই ম্যান্ডেটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় প্যারিস বিকল্প ভাবছে। ফরাসি কর্মকর্তারা এমন একটি বহুজাতিক বাহিনীর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন, যা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর জায়গা নিতে পারে এবং ফ্রান্সকে লেবাননের নিরাপত্তা কাঠামোতে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে।

    তৃতীয়ত, ফ্রান্স লেবাননের সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। লেবাননে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হলে সশস্ত্র গোষ্ঠী, আঞ্চলিক শক্তি বা বাইরের প্রভাবশালী পক্ষগুলো আরও শক্তিশালী হতে পারে। তাই সেনাবাহিনীকে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে রাখা প্যারিসের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এটি লেবাননের স্থিতিশীলতার প্রশ্ন যেমন, তেমনি ফ্রান্সের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ধরে রাখার কৌশলও।

    তবে ফ্রান্সের ভূমিকা লেবাননের সব পক্ষ সমানভাবে স্বাগত জানায় না। হিজবুল্লাহ ও ইরানঘনিষ্ঠ কিছু গোষ্ঠী ফরাসি ভূমিকার প্রতি সন্দেহপ্রবণ। তাদের চোখে ফ্রান্স নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়; বরং পশ্চিমা প্রভাবের ধারাবাহিক অংশ। এই সন্দেহ ফ্রান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ লেবাননের রাজনীতি বহুমাত্রিক, সাম্প্রদায়িক ভারসাম্যনির্ভর এবং বহিরাগত শক্তির প্রভাবে জটিল। কোনো এক পক্ষের আস্থা পেলেই সেখানে কার্যকর ভূমিকা রাখা যায় না; বহু পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়।

    এ কারণেই ফ্রান্স কঠোর শক্তির বদলে নরম কূটনীতির ওপর বেশি নির্ভর করছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ, শিক্ষা, ভাষা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ—এসব মিলিয়েই ফ্রান্স লেবাননে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চায়। প্যারিস বুঝতে পারছে, সামরিক বা সরাসরি চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা সীমিত। তাই সম্পর্কের জালই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

    সব মিলিয়ে লেবাননে ফ্রান্সের আগ্রহকে শুধু অতীতের ঔপনিবেশিক সম্পর্ক দিয়ে ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে। এটি ইতিহাস, কৌশল, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবের জটিল সমন্বয়। ফ্রান্স লেবাননে আবার একক নেতৃত্ব ফিরে পেতে পারবে কি না, তা অনিশ্চিত। তবে প্যারিস এখন অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাইছে—লেবাননের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আলোচনায় যেন তাকে পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক করে দেওয়া না হয়।

    লেবাননের জন্য এই প্রতিযোগিতা যেমন ঝুঁকির, তেমনি সুযোগেরও। যদি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো সত্যিই দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে বিদেশি সম্পৃক্ততা কিছু স্থিতিশীলতা আনতে পারে। কিন্তু যদি লেবানন আবারও শুধু আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব বিস্তারের মঞ্চে পরিণত হয়, তবে জনগণের দুর্দশা আরও দীর্ঘ হবে। ফ্রান্সের বর্তমান সক্রিয়তা তাই মানবিক সহায়তার পাশাপাশি এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তা—প্যারিস এখনও বৈরুতকে ছাড়তে প্রস্তুত নয়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বিশ্লেষণ

    প্রমাণের ভাণ্ডার: ইসরায়েলের সবচেয়ে অন্ধকার কৌশল উন্মোচিত

    জুন 12, 2026
    আন্তর্জাতিক

    আফগান নারীদের পোশাকবিধি অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

    জুন 12, 2026
    আন্তর্জাতিক

    খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’

    জুন 12, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.