ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। যদিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও এই যোগাযোগ অব্যাহত আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, দুই দিন আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির তেহরান সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার পরিবেশ ধরে রাখা এবং মধ্যস্থতা-সংক্রান্ত প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়া।
আঞ্চলিক কূটনীতিতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে মহসিন নাকভি পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে একটি বিশেষ লিখিত বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
এর আগে গত ১ জুন থেকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড-ঘনিষ্ঠ কয়েকটি ইরানি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করার কথা বিবেচনা করছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইসমাইল বাঘাইয়ের সর্বশেষ বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বার্তা বিনিময় চলছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেও দুই পক্ষের যোগাযোগ অব্যাহত থাকা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা যতই বাড়ুক না কেন, শেষ পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনার টেবিলেই ফিরতে হবে উভয় পক্ষকে।

