ইউরোপের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলোর একটি বড় ধাক্কা খেল। জার্মানি ও ফ্রান্স নতুন প্রজন্মের যৌথ যুদ্ধবিমান তৈরির পরিকল্পনা কার্যত বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের শিল্পগত দ্বন্দ্ব, নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অচলাবস্থার কারণে দুই দেশের নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে এগিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি যুদ্ধবিমান প্রকল্পের সমাপ্তি নয়। এটি ইউরোপের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক স্বনির্ভরতা এবং জার্মানি-ফ্রান্স সম্পর্কের বাস্তব সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে পশ্চিমা সামরিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। এমন সময় ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্পের মূল অংশ ভেঙে পড়া রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ গত সপ্তাহে মন্টেনেগ্রোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিম বলকান সম্মেলনের পাশে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন। জার্মান কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই নেতা বুঝতে পারেন, দীর্ঘ কয়েক মাসের অচলাবস্থা কাটার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। প্রকল্পে যুক্ত প্রধান অস্ত্র ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনাতেও মেটানো যাচ্ছে না।
এই কারণেই মেরৎস মাখোঁকে পরামর্শ দিয়েছেন, যৌথভাবে নতুন যুদ্ধবিমান নির্মাণের পরিকল্পনা আর এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়। মাখোঁর দপ্তরও জানিয়েছে, দুই নেতা প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে জার্মানি ও স্পেনের পক্ষে থাকা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
এই প্রকল্পটি শুধু জার্মানি ও ফ্রান্সের ছিল না। স্পেনও এর অংশ ছিল। প্রকল্পটির আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছিল ১০০ বিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ১১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিশাল ব্যয়ের পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল একটি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, যার সঙ্গে থাকবে চালকবিহীন বিমান, অত্যন্ত সুরক্ষিত তথ্য সংযোগব্যবস্থা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সমন্বিত পরিচালনার প্রযুক্তি।
ইমানুয়েল মাখোঁ ২০১৭ সালে তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন। তখন এটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। ধারণা ছিল, ইউরোপ শুধু যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা তৈরি করবে। কিন্তু প্রায় এক দশকের কাছাকাছি সময় পর দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক ইচ্ছা থাকলেও শিল্পগত স্বার্থ, প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা চাহিদা এক জায়গায় আনা সহজ নয়।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জার্মানি-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখনো দুই দেশের জন্য এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের জন্য প্রয়োজনীয়। অর্থাৎ ফ্রান্স পুরো প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ভাঙতে চাইছে না। তবে যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের মূল স্তম্ভ ভেঙে পড়ায় এই সহযোগিতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
এই ব্যর্থতার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল এয়ারবাস ও দাসো অ্যাভিয়েশনের মধ্যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ। যুদ্ধবিমানের পরবর্তী ধাপের উন্নয়ন কে নেতৃত্ব দেবে, কোন প্রতিষ্ঠান কতটা প্রযুক্তিগত অধিকার পাবে, মেধাস্বত্ব কীভাবে ভাগ হবে—এসব প্রশ্নে দুই পক্ষের মতবিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। বাইরে থেকে এটি প্রযুক্তিগত মতবিরোধ মনে হলেও আসলে এর ভেতরে ছিল জাতীয় শিল্পস্বার্থ, সামরিক কৌশল এবং ভবিষ্যৎ অস্ত্রবাজারে প্রভাব ধরে রাখার লড়াই।
জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন একসঙ্গে প্রকল্পে থাকলেও তাদের সামরিক প্রয়োজনও এক ছিল না। ফ্রান্স এমন যুদ্ধবিমান চেয়েছিল যা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম হতে পারে এবং বিমানবাহী রণতরী থেকেও পরিচালিত হতে পারে। অন্যদিকে মেরৎস খোলাখুলিভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, জার্মান বিমানবাহিনীর জন্য চালকসহ ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির প্রয়োজন আদৌ আছে কি না। তিনি আরও বলেছেন, জার্মানির এমন যুদ্ধবিমান দরকার নেই যা পারমাণবিক সক্ষমতা বহন করবে বা বিমানবাহী রণতরীতে অবতরণ করতে পারবে।
এই অবস্থান দুই দেশের সামরিক কৌশলের মৌলিক পার্থক্য দেখায়। ফ্রান্স নিজেকে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন সামরিক শক্তি হিসেবে দেখে। তার প্রতিরক্ষা চিন্তায় বৈশ্বিক অভিযান, সমুদ্রভিত্তিক ক্ষমতা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানির সামরিক সংস্কৃতি ও কৌশল ভিন্ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাস, সংসদীয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরক্ষামুখী নিরাপত্তা নীতির কারণে জার্মানি এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষী আক্রমণাত্মক সক্ষমতা নিয়ে সবসময় সতর্ক।
এই প্রকল্পের ভাঙন অনেকের কাছে নতুন ঘটনা নয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ফ্রান্সিস তুসা বলেছেন, ফরাসি সংক্ষিপ্ত নামে পরিচিত স্কাফ প্রকল্পটি তিন বছর ধরেই জীবনরক্ষাকারী অবস্থায় ছিল। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, বাইরে থেকে প্রকল্পটি চালু থাকলেও বাস্তবে তা দীর্ঘদিন ধরে গভীর সংকটে ছিল।
এই ভাঙনের সঙ্গে ১৯৮০-এর দশকের একটি পুরোনো ঘটনার মিল রয়েছে। তখন ফ্রান্স ইউরোফাইটার প্রকল্প থেকে সরে যায়। পরে ইউরোপীয় দেশগুলো আলাদা পথে যুদ্ধবিমান উন্নয়ন করে। বর্তমান ঘটনাও সেই পুরোনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি মনে করিয়ে দেয়। ইউরোপীয় দেশগুলো রাজনৈতিকভাবে একসঙ্গে প্রতিরক্ষা স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে জাতীয় শিল্প, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং সামরিক প্রয়োজনের প্রশ্নে বারবার বিভক্ত হয়ে পড়ে।
তবে পুরো প্রকল্প একেবারে মৃত ঘোষণা করা হচ্ছে না। একটি ইউরোপীয় সূত্র জানিয়েছে, দুই পক্ষ এখন এমন একটি সম্মান রক্ষার পথ খুঁজছে যাতে মূল যুদ্ধবিমান অংশ বাদ পড়লেও প্রকল্পের নাম পুরোপুরি হারিয়ে না যায়। যুদ্ধবিমানের বাইরে যে সুরক্ষিত তথ্য সংযোগব্যবস্থা, চালকবিহীন সহায়ক প্রযুক্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ছিল, সেগুলো একই নামে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
এটি মূলত রাজনৈতিকভাবে মুখ রক্ষার ব্যবস্থা। কারণ ভবিষ্যৎ যুদ্ধব্যবস্থা নামটি সাধারণ অর্থেও ব্যবহার করা যায়, এটি শুধু এই নির্দিষ্ট প্রকল্পের একচেটিয়া পরিচয় নয়। ফলে মূল যুদ্ধবিমান বাদ পড়লেও মাখোঁ বলতে পারবেন, পুরো ধারণাটি শেষ হয়ে যায়নি। তবে বাস্তব অর্থে প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল অংশ বন্ধ হয়ে গেলে বাকি অংশের কৌশলগত গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে।
এই সিদ্ধান্তে জার্মানির আইজি মেটাল শ্রমিক সংগঠন স্বস্তি প্রকাশ করেছে। সংগঠনের উপপ্রধান ইয়ুর্গেন কেরনার বলেছেন, কয়েক মাস ধরেই পরিষ্কার ছিল দাসো ও এয়ারবাস সমান ভিত্তিতে সহযোগিতা করতে পারবে না। তার মতে, মেরৎস কঠিন হলেও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা জার্মানির বিমান শিল্পকেন্দ্র এবং শ্রমশক্তির স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিক্রিয়া দেখায়, জার্মানির ভেতরেও প্রকল্পটি নিয়ে উদ্বেগ ছিল। যদি দাসো নেতৃত্ব পেত এবং এয়ারবাস গৌণ ভূমিকায় থাকত, তাহলে জার্মান শিল্পক্ষেত্রের অংশগ্রহণ কতটা অর্থবহ হতো, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। আবার ফ্রান্সের দৃষ্টিতে দাসোর যুদ্ধবিমান তৈরির ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা বেশি। তাই তারা মূল নকশা ও নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা চাইত। এই দ্বন্দ্ব কোনো ছোটখাটো ব্যবস্থাপনা সমস্যা ছিল না, বরং ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের নেতৃত্ব নিয়ে বড় লড়াই ছিল।
নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআইএসএসের সামরিক বিমানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক ডগলাস ব্যারি মন্তব্য করেছেন, ওয়াশিংটন বা মস্কোর কাছে এই সিদ্ধান্ত মোটেও ভালো বার্তা দিচ্ছে না। তার এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপকে বলছে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা ইউরোপীয় নিরাপত্তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এমন পরিস্থিতিতে যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প ভেঙে যাওয়া ইউরোপের সামরিক ঐক্যের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
এখানে একটি বড় প্রশ্ন হলো, ইউরোপ কি সত্যিই যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে প্রস্তুত? রাজনৈতিক বক্তব্যে ইউরোপীয় ঐক্যের কথা বলা সহজ। কিন্তু যখন শত বিলিয়ন ইউরোর প্রকল্প, সংবেদনশীল প্রযুক্তি, মেধাস্বত্ব এবং ভবিষ্যৎ অস্ত্রবাজারের প্রশ্ন আসে, তখন প্রতিটি দেশ নিজের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়। জার্মানি চায় শিল্পভিত্তি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে। ফ্রান্স চায় সামরিক স্বায়ত্তশাসন ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখতে। স্পেনও নিজের অংশীদারিত্বের বাস্তব লাভ দেখতে চায়। এই তিনটি হিসাব এক সুতোয় বাঁধা কঠিন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। চালকসহ অত্যন্ত ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান এখনো প্রয়োজনীয় হলেও চালকবিহীন ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যুদ্ধ সহায়তা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, সাইবার সক্ষমতা এবং তথ্যভিত্তিক যুদ্ধ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মেরৎসের প্রশ্ন সেই বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত। জার্মানি যদি মনে করে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে বিশাল ব্যয়বহুল চালকসহ যুদ্ধবিমান প্রধান সমাধান নয়, তাহলে যৌথ প্রকল্পে তার আগ্রহ কমে যাওয়া স্বাভাবিক।
তবে ফ্রান্সের জন্য বিষয়টি ভিন্ন। ফ্রান্সের রাফাল যুদ্ধবিমান কর্মসূচি, দাসোর ঐতিহ্য এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ কৌশল একটি উন্নত নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে কৌশলগত প্রয়োজন হিসেবে দেখে। তাই ফ্রান্সের কাছে এই প্রকল্প ছিল শুধু শিল্প সহযোগিতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ সামরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন। জার্মানির অনীহা মাখোঁর ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার স্বপ্নকেও দুর্বল করে দিতে পারে।
এই ভাঙনের ফলে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। জার্মানি হয়তো বিকল্প প্রযুক্তি, চালকবিহীন ব্যবস্থা বা অন্য অংশীদারিত্বের দিকে ঝুঁকবে। ফ্রান্স নিজস্ব পথে এগোনোর চেষ্টা করতে পারে। স্পেনকে নতুন অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে ইউরোপের অন্য দেশগুলোও ভাববে, বড় যৌথ প্রকল্পে যুক্ত হওয়া কতটা বাস্তবসম্মত।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু রাজনৈতিক ঘোষণায় সফল হয় না। সফল হতে হলে শিল্পের দায়িত্ব বণ্টন, মেধাস্বত্বের নিয়ম, সামরিক প্রয়োজন, অর্থায়ন ও নেতৃত্বের কাঠামো শুরু থেকেই স্পষ্ট হতে হয়। জার্মানি-ফ্রান্স প্রকল্পে সেই সমঝোতা তৈরি হয়নি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, বিরোধ তত প্রকাশ্য হয়েছে।
এখন মাখোঁ ও মেরৎস হয়তো প্রকল্পের নাম, কিছু প্রযুক্তি অংশ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভাষা বাঁচিয়ে রাখতে চাইবেন। কিন্তু মূল যুদ্ধবিমান বাদ গেলে এটি আর আগের সেই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প থাকবে না। ইউরোপের প্রতিরক্ষা স্বপ্নের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। বাহ্যিক হুমকি যতই বাড়ুক, অভ্যন্তরীণ ঐক্য না থাকলে সামরিক সক্ষমতা তৈরি করা কঠিন।
জার্মানি ও ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত তাই শুধু একটি প্রকল্পের সমাপ্তি নয়। এটি দেখিয়ে দিল, ইউরোপ এখনো প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার পথে বড় বাধার মুখে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, রাশিয়ার হুমকি এবং নিরাপত্তা ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা—সবকিছু সত্ত্বেও ইউরোপীয় শক্তিগুলো নিজেদের শিল্পস্বার্থ ও সামরিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য অতিক্রম করতে পারছে না।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকে যায়: ইউরোপ কি একসঙ্গে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে, নাকি প্রতিটি দেশ আবার নিজ নিজ পথে হাঁটবে? জার্মানি-ফ্রান্সের যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্পের ভাঙন সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো দেয়নি, কিন্তু ইউরোপের প্রতিরক্ষা রাজনীতির দুর্বল জায়গাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে।
সিভি/এইচএম

