যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন নতুন এক দাবি সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল সরিয়ে আনার কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বের করে আনছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি রাতেই লাখ লাখ ব্যারেল তেল সরানো হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ট্রাম্পের মতে, এই উদ্যোগ না থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারত। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম যেখানে ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতি ভিন্ন হলে দাম ২৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হওয়ায় ওই অঞ্চলের যেকোনো সংঘাত বাজারকে অস্থির করে তোলে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে, যার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। এ কারণে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা যেকোনো প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তার প্রশাসনের পদক্ষেপকে সফল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তবে ইরান থেকে কীভাবে তেল আনা হচ্ছে, কোন ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সম্ভব হচ্ছে কিংবা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া রয়েছে কি না—সেসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংঘাত কমে এলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমতে পারে। তার মতে, যুদ্ধ ও অস্থিরতা যত কমবে, তেলের বাজার তত বেশি স্থিতিশীল হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, তেলের বাজার বর্তমানে শুধু উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে না; বরং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যেকোনো নতুন ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক যাচাই বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

