যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া সহ মোট ২২টি দেশ একসঙ্গে ইরানকে তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দেওয়া এই যৌথ বার্তায় দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে।
এই বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দেশে সংঘটিত নাশকতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অপরাধচক্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশগুলোর দাবি, এসব কার্যক্রমের পেছনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু অংশ জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো দেশের ভূখণ্ডে হত্যা, অপহরণ বা ভয়ভীতি ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডকে তারা কখনোই গ্রহণ করবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করতে ইরানকে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
২২টি দেশ আরও অভিযোগ করে জানায়, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগ এবং তাদের বৈদেশিক অভিযান শাখা বিভিন্ন দেশে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক এবং বিশেষ করে ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও ষড়যন্ত্রে যুক্ত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের হুমকি শুধু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সব দেশের নিরাপত্তার জন্যই ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই সম্মিলিতভাবে এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দেশগুলো একমত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউরোপের কিছু দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদি সম্প্রদায় ও উপাসনালয় লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় ইরান-ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে সংঘটিত কিছু ঘটনাও রয়েছে, যেখানে ছুরিকাঘাত এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া আগেই ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে দেশটিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছিল। দেশটির দাবি, মেলবোর্নের একটি উপাসনালয় এবং সিডনির একটি নির্দিষ্ট খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যানবেরা তেহরানে তাদের দূতাবাসের কার্যক্রমও স্থগিত করে।
এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনকারী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এসব সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির পরিপন্থী এবং ইরানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা মাত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ২২ দেশের যৌথ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে যখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই নানামুখী সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের কূটনৈতিক চাপ নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যৌথ বিবৃতি দেওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে আলবেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ব্রিটেন, বুলগেরিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পর্তুগাল, সুইডেন এবং যুক্তরাষ্ট্র।

